জীবনবিজ্ঞান নবম শ্রেণী প্রথম অধ্যায় ২ নম্বরের প্রশ্নোত্তর

জীবনবিজ্ঞান নবম শ্রেণী প্রথম অধ্যায় ২ নম্বরের প্রশ্নোত্তর

জীবনবিজ্ঞান নবম শ্রেণী প্রথম অধ্যায় ২ নম্বরের প্রশ্নোত্তর


  1. গরম তরল স্যুপ (Hot dilute soup) কী?

উ:- আদিম পৃথিবীতে রাসায়নিক বিবর্তনের ফলে শর্করা, অ্যামিনাে অ্যাসিড, ফ্যাটি অ্যাসিড ও অন্যান্য জটিল জৈব যৌগের উৎপত্তি সম্ভবত তৎকালীন উত্তপ্ত সমুদ্রের জলে হয়েছিল। বিজ্ঞানী হ্যালডেন এইসব জৈব যৌগ ও সমুদ্রের গরম জলের মিশ্রণকে গরম তরল স্যুপ (Hot dilute soup) নামে অভিহিত করেন। ওপারিন গরম তরল স্যুপকে প্রাইমরডিয়াল স্যুপ বলে বর্ণনা করেন। এই গরম তরল স্যুপেই প্রাণের উৎপত্তি ঘটেছিল।

  1. কোয়াসারভেট কী?

উ:- ওপারিন-এর মতে রাসায়নিক বিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বৃহদাকার জৈব যৌগগুলি আন্তর আণবিক বল দ্বারা পরস্পরের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে এবং গরম তরল স্যুপ থেকে আলাদা হয়ে বড়াে বড়াে কোলয়েড বিন্দু তৈরি করে। এগুলিকে কোয়াসারভেট বলে।

  1. কোয়াসারভেটে পর্দা গঠিত হওয়ায় কী কী সুবিধা হয়েছিল?

উ:- কোয়াসারভেটে পর্দা গঠিত হওয়ার

সুবিধা:- (i) প্রাণ সৃষ্টির কিছু প্রয়ােজনীয় বিক্রিয়া কোয়াসারভেটের ভিতর সংঘটিত হতে পারে। (ii) কোয়াসারভেট পরিবেশ থেকে কিছু জৈব অণু সংগ্রহে সক্ষম হয়। (iii) কোয়াসারভেট-মধ্যস্থ কিছু প্রােটিন উৎসেচকরূপে কাজ শুরু করে ও গুরুত্বপূর্ণ জৈবনিক বিক্রিয়া সংঘটিত করে

  1. বিপাক কী?

উ:-প্রত্যেক সজীব কোশের প্রােটোপ্লাজমে যে অনবরত গঠনমূলক ও ভাঙনমূলক জৈব-রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলি চলছে তাদের একত্রে বিপাক বলা হয়। যেমন—সালােকসংশ্লেষ ও শ্বসন।

  1. উপচিতি বিপাক বা অ্যানাবলিজম কী?

উ:- যে-গঠনমূলক বিপাক ক্রিয়ায় সরল অজৈব যৌগ থেকে জটিল জৈব যৌগ সৃষ্টির মাধ্যমে কোশের শুষ্ক ওজন বৃদ্ধি পায় ও শক্তির স্থিতি ঘটে, তাকে উপচিতি বিপাক বা অ্যানাবলিজম বলে। যেমন—সালােকসংশ্লেষ ও পুষ্টি।

  1. অপচিতি বিপাক বা ক্যাটাবলিজম কী ?

উ:- যে-ভাঙনমূলক বিপাক ক্রিয়ায় জটিল জৈব যৌগ বিশ্লিষ্ট হয় সরল অজৈব যৌগ সৃষ্টি করে। যার ফলে কোশের শুষ্কওজন হ্রাস পায় ও শক্তির মুক্তি ঘটে, তাকে অপচিতি বিপাক বা ক্যাটাবলিজম বলে। যেমন—শ্বসন ও রেচন।

  1. চলন কাকে বলে?

উ:- যে-প্রক্রিয়ায় জীব এক জায়গায় স্থির থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বা উদ্দীপকের প্রভাবে দেহের কোনাে অংশ বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সালিত করে, তাকে চলন বা সঞ্চালন বলে। চলন উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয়ের দেহেই দেখা যায়।

  1. গমন কাকে বলে?

উ:- যে-প্রক্রিয়ায় জীব স্বেচ্ছায় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনের মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে স্থান পরিবর্তন করে, তাকে গমন বলে। গমন প্রধানত প্রাণীতে লক্ষ করা যায়।

  1. চলন ও গমনের প্রধান পার্থক্য কী?

উ:- চলন ও গমনের প্রধান পার্থক্য হল-চলনে জীবের সামগ্রিকভাবে স্থান পরিবর্তন হয়, না কিন্তু গমনে জীবের সামগ্রিকভাবে স্থান পরিবর্তন হয়।

  1. উত্তেজিতা (Irritability) বলতে কী বোেঝ?

উ:-  প্রতিটি জীব পরিবেশে উপস্থিত নির্দিষ্টউদ্দীপকের প্রভাবে যে সাড়া দেয় বা উদ্দীপিত হয়, তাকেই জীবের উত্তেজিতা বলে। যেমন—লজ্জাবতী উদ্ভিদের পাতা স্পর্শ করা মাত্র মুদে যায়।

  1. বৃদ্ধি কাকে বলে?

উ:- প্রােটোপ্লাজম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত জীবদেহের আকৃতি, আয়তন ও শুষ্ক ওজনের অপরিবর্তনীয় ক্রমবিকাশকে বৃদ্ধি বা গ্রোথ বলে। অপচিতি বিপাকের তুলনায় উপচিতি বিপাকক্রিয়ার হার বেশি হলে জীবদেহের বৃদ্ধি হয়।

  1. ছন্দবদ্ধতা বলতে কী বােঝ?

উ:- জীবের শ্বাসকার্য, পেশিসংকোচন, হৃৎস্পন্দন প্রভৃতি শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াগুলি একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ক্রমে ও ছন্দে সংঘটিত হয়, একে জীবের ছন্দবদ্ধতা বলে। যেমন—মানুষের হৃৎপিণ্ড প্রতি মিনিটে 70-72 বার স্পন্দিত হয়।

  1. পরিব্যক্তি কাকে বলে? পরিব্যক্তিতা কী?

উ:- পরিব্যক্তি:- ক্রোমােজোমে অবস্থিত জিনের আকস্মিক পরিবর্তনকে মিউটেশন বা পরিব্যক্তি বলে। এই পরিবর্তন পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হতে পারে আবার নাও হতে পারে 

পরিব্যক্তিতা:- ক্রোমােজোমস্থিত জিনটির পরিবর্তন হওয়ার ক্ষমতাকে পরিব্যক্তিতা বলা হয়।

  1. অভিব্যক্তি বলতে কী বােঝ?

উ:- যে-মন্থর ও গতিশীল প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিক পরিবর্তন ও ক্রমিক রূপান্তরের মাধ্যমে পূর্বপুরুষ অর্থাৎ সরল উধ্বংশীয় জীব থেকে নতুন ও অপেক্ষাকৃত জটিল জীবের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ ঘটে, তাকে অভিব্যক্তি বা বিবর্তন বলে।

  1. জীব ও জড়ের দুটি সাদৃশ্য লেখাে।

উ:- সাদৃশ্য:-

(i) জীব ও জড় একই মৌলিক উপাদান (C, H, 0, N) দ্বারা গঠিত। (ii) উভয়েরই নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 

  1. জীব ও জড়ের দুটি বৈসাদৃশ্য লেখাে।

উ:- বৈসাদৃশ্য:- ( i)জীব উত্তেজনায় সাড়া দেয়, জড় উত্তেজনায় সাড়া দেয় না। (ii) জীব বংশবিস্তার করতে পারে, জড় বংশবিস্তারে অক্ষম।

  1. সজীব বস্তু কাকে বলে? উদাহরণ দাও। 

উ:- কোশীয় সংগঠনযুক্ত, নির্দিষ্ট আকার ও আয়তনবিশিষ্ট, বৃদ্ধি, শ্বসন, বিপাক, রেচন, বংশবিস্তার, উত্তেজিতা, পরিব্যক্তিতা প্রভৃতি বৈশিষ্ট্যযুক্ত বস্তুগুলিকে সজীব বস্তু বলে।

উদাহরণ:- ব্যাকটেরিয়া, এককোশী অ্যামিবা, উদ্ভিদ ও প্রাণী।

  1. জড় বস্তু কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উ:- যেসব বস্তু উত্তেজনায় সাড়া দেয় না এবং যাদের মধ্যে বৃদ্ধি, বিপাক, পুষ্টি, রেচন, শ্বসন, গমন, জনন দেখা যায় না তাদের জড় বস্তু বলে।

উদাহরণ:- চেয়ার, টেবিল ইত্যাদি।

  1. জীবনচক্র কী?

উ:- জীবের জন্ম হওয়ার পর জীব বৃদ্ধি পেয়ে বড়াে হয়, তারপর জীব জননে সক্ষমতা অর্জন করে, অতঃপর বংশবিস্তার করে নতুন অপত্য সৃষ্টি করে। এরপর জীবের বার্ধক্য দশা আসে ও পরিশেষে মৃত্যু ঘটে। জন্ম, বৃদ্ধি, জননে সক্ষমতা অর্জন, বংশবিস্তার, বার্ধক্য ও মৃত্যু—এই পর্যায়ক্রমিক দশাগুলির আবর্তনকে জীবনচক্র বলে।

  1. জীবের কয়েকটি প্রধান বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করাে।

উ:- জীবের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল:-

(i)নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন, (ii) প্রােটোপ্লাজম, (iii) বিপাক, (iv) শ্বসন, (v) বৃদ্ধি, (vi) পুষ্টি, (vii) রেচন, (viii) চলন ও গমন, (ix) জনন বা বংশবিস্তার, (x) উত্তেজিতা, (xi) ছন্দবদ্ধতা, (xii) পরিব্যক্তিতা।

  1. প্রােটোপ্লাজম কী?

উ:- প্রত্যেক সজীব কোশে যে বর্ণহীন, অধস্বচ্ছ, জেলির মতাে কোলয়েড প্রকৃতির মিশ্র তরল পদার্থ থাকে, তাকে প্রােটোপ্লাজম বলে। প্রােটোপ্লাজমই জীবনের মূল ভিত্তি।

  1. প্রােটোপ্লাজমকে জীবনের মূল ভিত্তি’ (Physical basis of life) বলে কেন?

উ:- প্রত্যেক সজীব বস্তুর ভিতর প্রােটোপ্লাজম থাকে। প্রােটোপ্লাজমই কোশের সজীব অংশ। প্রােটোপ্লাজমের ভিতর নানাপ্রকার বিপাকক্রিয়া ঘটায় জীবের সজীবতার প্রকাশ ঘটে। প্রােটোপ্লাজম নষ্ট হলে জীবের মৃত্যু ঘটে। যে-কারণে বিজ্ঞানী T.H Huxley প্রােটোপ্লাজমকে জীবনের ভৌত ভিত্তি বলে অভিহিত করেন।

  1. অভিযােজন কাকে বলে?

উ:- পারিপার্শ্বিক পরিবর্তনশীল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়ে সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকার জন্য জীবদেহের গঠনগত, শারীরবৃত্তীয় ও আচরণগত যে স্থায়ী পরিবর্তন ঘটে (যা বংশ পরম্পরায় সঞ্চারিত হয়ে জৈব অভিব্যক্তির পথকে সুগম করে), তাকেই অভিযােজন বলে।

  1. প্রকরণ কী?

উ:- পৃথিবীতে খাদ্য ও বাসস্থান সীমিত থাকায় জীবদের মধ্যে নানারকম সংগ্রাম (অন্তঃপ্রজাতি ও আন্তঃপ্রজাতি) দেখা যায়, যার ফলে জীবদের মধ্যে নানারকম সুক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম পরিবর্তন বা পার্থক্য দেখা যায় যা বংশানুক্রমে সঞ্চারিত হতে পারে আবার নাও হতে পারে। একই প্রজাতির জীবের মধ্যে এরকম পার্থক্যকে প্রকরণ বলে।

  1. প্রকরণ সৃষ্টির কারণগুলি কী কী?

উ:- প্রকরণ সৃষ্টির কারণগুলি হল-(i) মিউটেশন, (ii) ক্রসিং ওভার বা জিনের পুxনঃসংযুক্তি, (iii) বিচ্ছিন্নতা ও (iv) প্রাকৃতিক নির্বাচন।

  1. প্রকরণ কতপ্রকার ও কী কী ?

উ:- প্রকরণ দু-প্রকার—(i) ধারাবাহিক প্রকরণ ও (ii) বিচ্ছিন্ন প্রকরণ। 

  1. অবিচ্ছিন্ন বা ধারাবাহিক প্রকরণ কী? উদাহরণ দাও।

উ:- বহুজিন ও পরিবেশের মিলিত প্রয়াসে যে প্রকরণ সৃষ্টি হয় এবং যাদের একটি ধারাবাহিকতা লক্ষ করা যায়, তাকে অবিচ্ছিয় প্রকরণ বলে। 

উদাহরণ:- মানুষের ত্বকের বর্ণও দৈহিক উচ্চতা।

  1. বিচ্ছিন্ন প্রকরণ কী? উদাহরণ দাও।

উ:- সাধারণত একক জিনের মিউটেশনের কারণে যেসব প্রকরণ সৃষ্টি হয় এবং যেসব বৈশিষ্ট্যগুলি স্বাভাবিকের তুলনায় যথেষ্ট তারতম্যযুক্ত হয়, তাদের বিচ্ছিন্ন প্রকরণ বলে।

উদাহরণ:- মানুষের হাতের ছয়টি আঙুল (হেক্সাড্যাকটাইলি)।

  1. রাসায়নিক বিবর্তন কী?

:- আদিম পৃথিবীতে সরল অজৈব যৌগগুলি (CH, NH,, H, H,O) UV রশ্মি, উচ্চ তাপমাত্রা ও বিদ্যুৎক্ষরণের প্রভাবে সরল জৈব যৌগ (শর্করা, অ্যামিনাে অ্যাসিড, ফ্যাটি অ্যাসিড, N,-যুক্ত ক্ষার) উৎপন্ন করে। অজৈব পদার্থ থেকে জৈব পদার্থ সৃষ্টি হওয়াকে রাসায়নিক বিবর্তন বা কেমােজেনি বলে।

  1. জৈব বিবর্তন কী?

উ:- যে মন্থর ও গতিশীল প্রক্রিয়ায় সরল, উদ্বংশীয় জীব থেকে অপেক্ষাকৃত জটিল ও উন্নত জীব সৃষ্টি হয়, তাকে জৈব বিবর্তন বা বায়ােজেনি বলে।

  1. আজ থেকে কত বছর আগে পৃথিবীতে জীবনের সৃষ্টি হয়েছিল এবং কোথায়?

:- আজ থেকে প্রায় 3.7 বিলিয়ন বছর বা 370 কোটি বছর আগে পৃথিবীতে জীবনের সৃষ্টি হয়েছিল।

জীবন সৃষ্টিস্থল:- আদিম সমুদ্রের গরম জলে পৃথিবীতে প্রাণের সৃষ্টি হয়েছিল।

  1. পৃথিবীতে জীবন সৃষ্টি বা প্রাণ সৃষ্টি সম্পর্কে কী কী মতবাদ প্রচলিত আছে?

উ:- পৃথিবীতে জীবন সৃষ্টি সম্পর্কে সবচেয়ে গ্রহণযােগ মতবাদটি হল জীবনের জৈব রাসায়নিক উৎপত্তি মতবাদ’ ব ‘Theory of abiogenesis’। মতবাদটির প্রবক্তা হলেন রাশিয়া বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ওপারিন ও বৃটিশ বিজ্ঞানী জে বি এস হ্যালডেন। পৃথিবীতে প্রাণ সৃষ্টি-সংক্রান্ত মতবাদ:- (i) বিশেষ উৎপত্তি তত্ত্ব, (ii) বহির্বিশ্ব আবির্ভাব তত্ত্ব, (iii) স্বতঃস্ফূর্ত উদ্ভব তত্ত্ব, (iv) জৈবরাসায়নিক তত্ত্ব।

  1. সায়ানােজেন তত্ত্ব কী?

উ:- জার্মান বিজ্ঞানী ফুজার-এর মতে পৃথিবীর তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সময় কার্বন ও নাইট্রোজেন রাসায়নিক বিক্রিয়া করে একপ্রকার প্রােটিন-জাতীয় যৌগ গঠন করে, যা থেকে প্রােটোপ্লাজমের উৎপত্তি ঘটে। জীবন সৃষ্টির এই মতবাদকে সায়ানােজেন তত্ত্ব বলে।

  1. কোয়াসারভেট এর গুরুত্ব কী?

উ:- কোয়াসারভেট এর গুরুত্ব:- প্রােটোপ্লাজমের কোলয়েড গঠনের সঙ্গে কোয়াসারভেটের গঠনের মিল থাকায় কোয়াসারভেট আদিজীবের পূর্বগঠন বলে মনে করা হয়। কোয়াসারভেট সংগঠনই জীবসৃষ্টিতে প্রয়ােজনীয় বিক্রিয়া ঘটতে সাহায্য করেছিল। নানারকম আকার ও জৈব যৌগের সমন্বয়ে গঠিত কোয়াসারভেটগুলির ওপর প্রাকৃতিক নির্বাচন ক্রিয়াশীল হয় ও ফলে কোয়াসারভেট থেকে প্রাচীন কোশের উৎপত্তি ঘটে।

  1. জিনগত বৈচিত্র্য বলতে কী বােঝ?

উ:- কোনাে একটি প্রজাতির জীবের মধ্যে জিনের যেসব পরিবর্তন বা রূপভেদ দেখা যায়, তাকে জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity) বলে। যেমন—মানুষের উচ্চতার বৈচিত্র্য।

  1. প্রজাতি বৈচিত্র্য কী?

উ:- কোনাে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাসকারী জীবেরা একটি জীবসম্প্রদায় বা কমিউনিটি গড়ে তােলে। এই জীবসম্প্রদায়ের মধ্যে যতগুলি বিভিন্ন প্রজাতির জীব আছে তাদেরকে ওই অঞ্চলের প্রজাতি বৈচিত্র্য (Species diversity) বলে

  1. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলতে কী বােঝ?

উ:- কোনাে একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র ও জীবসম্প্রদায়গত বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecological diversity) বলে। যেমন—সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য ও প্রবাল দ্বীপের বাস্তুতন্ত্র।

  1. প্রােটিনয়েড কী? অভিব্যক্তিতে এর গুরুত্ব কী?

:- বিজ্ঞানী সিডনি ফক্স অ্যামিনাে অ্যাসিডের মিশ্রণকে গরম করার পর ঠান্ডা করে পলিপেপটাইড শৃঙ্খলের মতাে যে-গঠন তৈরি করেন, তাকে প্রােটিনয়েড বলা হয়।

অভিব্যক্তিতে প্রােটিনয়েডের গুরুত্ব:-বিজ্ঞানী সিডনি ফক্স মনে করতেন আদিকোশ সৃষ্টির জন্য তৎকালীন পৃথিবীর পরিবেশে থাকা প্রােটিনয়েডগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

  1. মাইক্রোস্ফিয়ার কী? অভিব্যক্তিতে এর ভূমিকা কী?

উ:- প্রােটিনয়েড-জাতীয় অণুগুলি জলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যে-বিন্দু বিন্দু গঠন সৃষ্টি করে, তাকে মাইক্রোস্ফিয়ার বলে। অনেক মাইক্রোস্ফিয়ারের বাইরে লিপিড বা স্নেহবস্তুর পর্দা সৃষ্টি হতে পারে।

মাইক্রোস্ফিয়ার অভিব্যক্তিতে মাইক্রোস্ফিয়ারের ভূমিকা:- বিজ্ঞানী সিডনি ফক্স মনে করতেন মাইক্রোস্ফিয়ার থেকেই আদি জীব সৃষ্টি হয়েছে।

  1. প্রােটোবায়ন্ট বলতে কী বােঝ?

উ:- পারিপার্শ্বিক জলীয় দ্রবণ থেকে আলাদা হওয়া কৃত্রিমভাবে উৎপন্ন প্রাক্‌-জীবের ন্যায় যে অণুসমষ্টির জননক্ষমতা -থাকলেও নিজস্ব অন্তঃরাসায়নিক পরিবেশ বর্তমান, তাকে প্রােটোবায়ন্ট প্রােটোবায়ন্ট বলে। কোয়াসারভেট ও মাইক্রোস্ফিয়ার হল দুটি উল্লেখযােগ্য প্রােটোবায়ন্ট।

  1. নগ্ন জিন কী?

উ:- আনুমানিক 370 কোটি বছর আগে পলিনিউক্লিওটাইড থেকে নিউক্লিক অ্যাসিড সৃষ্টি হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রথমে RNA বা রাইবােনিউক্লিক অ্যাসিড সৃষ্টি হয়। এরকম মুক্ত RNA-কে নগ্ন জিন বলে।

  1. প্রােটোসেল বা প্রাথমিক কোশ কী?

উ:- কোয়াসারভেট বা মাইক্রোস্ফিয়ারের ভিতর নগ্ন জিন প্রবেশ করে যে আদিম কোশীয় সংগঠন তৈরি করে, তাকে প্রাথমিক কোশ বা প্রােটোসেল বলে।

  1. টোসেল-এর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখাে।

উ:- প্রােটোসেল-এর বৈশিষ্ট্য:- (i)প্রােটোসেল ভাইরাসের মতাে নিউক্লীয় প্রােটিনযুক্ত, অবায়ুজীবী ও পরভােজী পুস্টি সম্পন্নকারী কোশীয় গঠনবিশেষ। (ii) এদের কোশীয় বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণহীন ও প্রতিলিপি গঠন ত্রুটিযুক্ত ও অনির্দিষ্ট।

  1. জীববৈচিত্র্য বা বায়ােডাইভারসিটি কী?

উ:- জীবমণ্ডলের অন্তর্গত সকল আণুবীক্ষণিক জীব, উদ্ভিদ ও প্রাণী যারা বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত তাদের একত্রে জীববৈচিত্র্য বা বায়ােডাইভারসিটি বলে।

  1. জীববৈচিত্র্যের স্তরগুলি কী কী?

উ:- জীববৈচিত্র্যকে তিনটি পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত স্তরে ভাগ করা হয়। যথা—জিনগত বৈচিত্র্য, প্রজাতি বৈচিত্র্য ও বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য।

 File Details –

PDF Name / Book Name জীবনবিজ্ঞান নবম শ্রেণী প্রথম অধ্যায় ২ নম্বরের প্রশ্নোত্তর 
Language : Bengali
Size : 88.5 kb
Download Link : Click Hereto Download



Leave a Comment