ভূগোল সপ্তম শ্রেণীর দ্বিতীয় অধ্যায় 2 নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর

ভূগোল সপ্তম শ্রেণীর দ্বিতীয় অধ্যায় 2 নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর

 
ভূগোল সপ্তম শ্রেণীর দ্বিতীয় অধ্যায় 2 নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর
1.ক্রোনােমিটার (Chronometer) কী ?

যে-ঘড়ি সর্বদা গ্রিনউইচের সময় সঠিকভাবে নির্ধারণ করে তাকে ক্রোনােমিটার বলে। কোনাে স্থানের দ্রাঘিমা নির্ণয়ের জন্যে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে ইংল্যান্ডের জন হ্যারিসন এটি আবিষ্কার করেন। কোনাে স্থানের ক্রোনােমিটারের সময় ও সেই স্থানের স্থানীয় সময়ের পার্থক্যকে 4 দিয়ে ভাগ করে দ্রাঘিমা নির্ণয় করা হয়ে থাকে।

2. GMT বলতে কী বােঝ ?

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সময়ের তারতম্য নির্ধারণের জন্য মূলমধ্যরেখার (0) স্থানীয় সময়কেই পৃথিবীর প্রমাণ সময় ধরা হয়। মূলমধ্যরেখা যেহেতু ইউরােপের গ্রিনউইচ শহরের ওপর দিয়ে বিস্তৃত সেই কারণে পৃথিবীর প্রমাণ সময়কে Greenwich Mean Time বা GMT বলে। ভারতের সঙ্গে গ্রিনউইচের প্রমাণ সময়ের পার্থক্য হয় 5 ঘণ্টা 30 মিনিট।

3.IST কী ?

ভারতবর্ষের প্রায় মাঝ বরাবর 82°30° পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থিত এলাহাবাদের কোকনদের কাছাকাছি স্থানীয় সময়কে IST বা Indian Standard Time বা ভারতীয় প্রমাণ সময় বলে। এই সময় অনুসারে পুরাে ভারতের সমস্ত যােগাযােগ ব্যবস্থা, সরকারি অফিসের কাজকর্ম, বেতার, টিভি প্রভৃতি সব কাজকর্ম পরিচালিত হয়।

4. GPS কী ?

কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে পৃথিবীপৃষ্ঠের কোনাে স্থানের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমা নির্ণয়ের মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয়ের সর্বাধুনিক gafo GPS a Global Positioning System ancar পরিচিত। USA প্রেরিত 24টি উপগ্রহ-এর সাহায্যে বর্তমানে খুব সহজে এই পদ্ধতিতে পৃথিবীপৃষ্ঠের যে-কোনাে স্থানের অবস্থান নির্ণয় করা হচ্ছে।

5.কোথায় গেলে পূর্ব আর পশ্চিম গােলার্ধ উভয়ই একই সঙ্গে দেখতে পাবে ?

0° দ্রাঘিমারেখা অর্থাৎ মূলমধ্যরেখায় ও 180°দ্রাঘিমারেখা অর্থাৎ আন্তর্জাতিক তারিখরেখায় একইসঙ্গে পূর্ব আর পশ্চিম উভয় গােলার্ধই দেখতে পাব।

6. নিরক্ষরেখাকে ‘বিষুবরেখা’ বলা হয় কেন?

বিষুব’ কথার অর্থ দিন ও রাত্রি সমান। নিরক্ষরেখা বরাবর বছরের দুটি দিন (21 মার্চ, 23 সেপ্টেম্বর) পুরােপুরি 12 ঘণ্টা দিন ও 12 ঘণ্টা রাত হয়। বছরের বাকি দিনগুলিতে প্রায় 12 ঘণ্টা দিন ও 12 ঘণ্টা রাত হওয়ায় নিরক্ষরেখাকে বিষুবরেখা বলে।

7.নিরক্ষরেখাকে মহাবৃত্ত (Great circle) বলা হয়?

পৃথিবীর আকৃতি হল অভিগত গােলাকার। তাই পৃথিবীর মধ্যভাগ স্ফীত এবং উত্তর ও দক্ষিণদিককুমশ ছােটো হয়ে গােছে। নিরক্ষরেখা পৃথিবীর মাঝ বরাবর বিস্তৃত বলে এর পরিধি সবথেকে বড়াে এবং নিরক্ষরেখার আকৃতি বৃত্তাকার বলে রে মহাবৃত্ত বলে।

8.নিরক্ষীয় তল (Equitorial plane) কী?

নিরক্ষরেখা থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু পর্যন্ত যে-তল পাওয়া যায়, তাকে নিরক্ষীয় তল বলে। অর্থাৎ, নিরক্ষরেখার পৃথিবীকে সমান দুটি ভাগে বিভক্ত করলে যে-তল পাওয়া যাবে, তাকে নিরক্ষীয় তল বলে । নিরক্ষীয় তলের উত্তর দিককে বলে উত্তর গােলার্ধ এবং দক্ষিণ দিককে বলে দক্ষিণ গােলার্ধ।

9.মূলমধ্যরেখা (Prime Meridian) কাকে বলে?

গ্রেটার লন্ডনের রয়্যাল গ্রিনউইচ নামক স্থানের ওপর দিয়ে যে-0° দ্রাঘিমারেখা কল্পনা করা হয়েছে, তাকে মূলমধ্যরেখা বলে । মূলমধ্যরেখা পৃথিবীকে পূর্ব ও পশ্চিম গােলার্ধে ভাগ

10.গ্রিম (পৃথিবীতে মােট ক-টি অক্ষরেখা আছে ?

পৃথিবীর মধ্যভাগে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ গােলার্ধে যথাক্রমে প্রতি 1 অন্তর মােট s9-19=17Sটি অক্ষরেখা আছে। অর্থাৎ নিরক্ষরেখাকে যােগ করে 179টি অক্ষরেখা পৃথিবীতে কল্পনা করা হয়েছে। উভয় মেরুবিন্দু হওয়ায় তাদের রেখা হিসেবে ধরা হয় না।

11.পৃথিবীতে মােট ক-টি দ্রাঘিমারেখা আছে ?

পৃথিবীর মধ্যভাগে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত মূলমধ্যরেখা থেকে 1° অন্তর পূর্বদিক ও পশ্চিম দিকে—উভয়দিকে যথাক্রমে 180° পর্যন্ত 180 + 180 = 360টি দ্রাঘিমারেখা আছে। যা মূলমধ্যরেখার সঙ্গে যুক্ত হলে 361 হয়। আবার 180° পূর্ব ও পশ্চিম একটিই রেখা হওয়ায় অর্থাৎ পৃথিবী যেহেতু গােলাকার তারা একটিতেই মিলিত হওয়ায় একটিমাত্র 180° রেখা কল্পনা রা হয়েছে। ফলে আবার টি দ্রাঘিমা কমে যাওয়ায় মােট 360টি দ্রাঘিমই কঙ্গনা করা হয়েছে।

12.পৃথিবীর প্রধান প্রধান অক্ষরেখাগুলির নাম কী ? 

পৃথিবীর প্রধান প্রধান অক্ষরেখাগুলি হল

1.নিরক্ষরেখা = 0°

2.কর্কটক্রান্তি রেখা =23.5° উ

3.মকরক্রান্তি রেখা => 23• দ. 

4.সুমেরুবৃত্ত = 66, উ, 

5. কুমেরুবৃত্ত → 662

13.পৃথিবীর প্রধান প্রধান দ্রাঘিমারেখাগুলি কী কী? 

পৃথিবীর প্রধান প্রধান দ্রাঘিমারেখাগুলি হল

1. মূলমধ্যরেখা 0° 

2. আন্তর্জাতিক তারিখরেখা 180°

14.অক্ষাংশ (Latitudes) কাকে বলে ?

উত্তর কোনাে একটি স্থান কেন্দ্রের সাপেক্ষে নিরক্ষরেখার সঙ্গে যে-কোণ করে থাকে, তাকে অক্ষাংশ বলে। অর্থাৎ নিরক্ষরেখার উত্তর বা দক্ষিণে অবস্থিত কোনাে স্থান থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত রেখা এবং নিরক্ষরেখা থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত রেখা যে-কোণ তৈরি করে, তাকে বলে অক্ষাংশ

15.অক্ষাংশ ও অক্ষরেখার মধ্যে পার্থক্য কোথায় ?

নিরক্ষীয় তল থেকে কোনাে স্থানের কৌণিক দূরত্বকে সেই স্থানটির অক্ষাংশ বলে। অন্যদিকে নিরক্ষরেখার সমান্তরাল ও একই অক্ষাংশযুক্ত কাল্পনিক রেখাকে অক্ষরেখা বলে ।

16.দ্রাঘিমা (Longitudes) কাকে বলে ?

ভূপৃষ্ঠের ওপর অবস্থিত যে-কোনাে স্থান থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত সরলরেখা এবং মূলমধ্যরেখা থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত সরলরেখা মিলে যে-কোণ তৈরি করে, সেই কোণ বা কৌণিক দূরত্বই ওই স্থানটির দ্রাঘিমা। অন্যভাবে বলা যায়, মূলমধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে অবস্থিত কোনাে স্থানের কৌণিক দূরত্ব হল সেই স্থানের দ্রাঘিমা ।

17. দ্রাঘিমারেখার অপর নাম দেশান্তর রেখা কেন ?

দ্রাঘিমারেখার সাহায্যে কোন্ দেশ কতটা পূর্ব বা পশ্চিম দিকে অবস্থিত জানা যায়, তাই এই রেখার অপর নাম দেশান্তর রেখা।

18.আন্তর্জাতিক তারিখরেখা (International Date Line) কাকে বলে?

মূলমধ্যরেখার (0°) ঠিক বিপরীতে 180° দ্রাঘিমারেখাকে অনুসরণ করে কল্পিত যে-রেখায় পৃথিবীর তারিখ শুরু বা শেষ হয়, তাকে আন্তর্জাতিক তারিখরেখা বলে।

19.মহাবৃত্ত (Great circle) কাকে বলে ?

কোনাে গােলকের পৃষ্ঠে অঙ্কিত যে-বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু ওই গােলকের কেন্দ্রবিন্দুর সঙ্গে একই বিন্দুতে অবস্থান করে তাকে মহাবৃত্ত বলে।

(20 কৌণিক দূরত্ব (Angular Distance) কী ?

গােলাকার বস্তুর পৃষ্ঠদেশের ওপর অবস্থিত যে-কোনাে দুটি জায়গা থেকে বস্তুটির কেন্দ্র পর্যন্ত যদি দুটি সরলরেখা টানা হয়, তাহলে রেখা দুটি গােলকের কেন্দ্রে যে-কোণ সৃষ্টি করে, সেই কোণটিই হল স্থান দুটির কৌণিক দূরত্ব।

21.আমাদের ছায়া দিনের কোন্ সময়ে সবচেয়ে বড়াে ও কোন সময়ে সবচেয়ে ছােটো হয় ?

একটি দিনের সূর্য ওঠার সময় ও সূর্যাস্তের সময় আমাদের ছায়া সবচেয়ে বড়াে ও মধ্যাহ্নের সময় সবচেয়ে ছােটো হয়।

22 আজ বৃহস্পতিবার 12 আগস্ট 2015 খ্রিস্টাব্দ হলে, পৃথিবীর সব জায়গাতেই কি এই তারিখই হবে ?

যেহেতু নতুন তারিখ বা দিন শুরু হয় আন্তর্জাতিক তারিখরেখা থেকে, তাই এই রেখার পূর্বদিকের দেশগুলিতে আজ 12.08.2015 বৃহস্পতিবার হলে, পশ্চিমদিকের দেশগুলিতে 11.05.2015 বুধবার হবে। যেহেতু আমরা ভারতে বাস করি এবং এটি পূর্ব গােলার্ধের দেশ তাই সময় ও তারিখ এগিয়ে থাকবে পশ্চিম দিকের দেশের তুলনায়।

23. ভৌগােলিক জালক (Graticules) কাকে বলে ?

পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিম ও উত্তর-দক্ষিণে কাল্পনিক অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা-গুলি পরস্পর সমকোণে মিলিত হয়ে ভূপৃষ্ঠকে বা পৃথিবীকে জালের মতাে বেষ্টন করে আছে। একেই ভৌগােলিক জালক বলা হয়। এর সাহায্যে পৃথিবীর যে-কোনাে স্থানের অবস্থান নির্ণয় করা সহজ হয়।

24. সেক্সট্যান্ট কী ? এর ব্যবহার লেখাে।

সেক্সট্যান্ট একটি দূরবীক্ষণ বসানাে যন্ত্র। এর দ্বারা সূর্যের উন্নতিকোণ পরিমাপ করা হয়।

25.স্থানীয় সময় বলতে কী বােঝাে?

দ্রাঘিমা অনুযায়ী কোনাে স্থানের সময় নির্ণয় করাকে সে স্থানের স্থানীয় সময় বলে। কোনাে দ্রাঘিমায় সূর্য যখন ঠি মাথার ওপর আসে, তখন সেখানে হয় দুপুর 12টা। এইভান স্থানীয় সময় নির্ণয় করা হয়

26.প্রমাণ সময় (Standard Time) বলতে কীবােঝাে ?

 কোনাে দেশের কাজকর্ম একটি নির্দিষ্ট দ্রাঘিমার সময় অনুসারে চালানাে হয়। ওই নির্দিষ্ট সময়কে প্রমাণ সময় বলে। ভারতের প্রমাণ সময় 82°30 পূর্ব দ্রাঘিমা অনুসারে নির্ণয় করা হয়।

27. গ্রিনউইচের সময়ের তুলনায় ভারতীয় প্রমাণ সময় এগিয়ে থাকে কেন ?

 ভারতের দ্রাঘিমা গ্রিনউইচের (0°) দ্রাঘিমা থেকে 82°30 পূর্বে অবস্থিত। আমরা জানি প্রতি 1° দ্রাঘিমার পরিবর্তনে সময়

28.জাপানকে ‘উদীয়মান সূর্যের দেশ’ বলে কেন ?

 পৃথিবী গােলাকার হওয়ায় যে-কোনাে সময় এর এক অর্ধাংশ আলােকিত থাকলে অপর অর্ধাংশ অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে। পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তনরত হওয়ায় পূর্বের দেশগু লিতে আগে সূর্যকিরণ পৌছােয়। পৃথিবীর পূর্বতম প্রান্তে জাপান অবস্থিত হওয়ায়, পৃথিবীর প্রথম সূর্যোদয় এখানে হয়, তাই একে উদীয়মান সূর্যের দেশ বলে।

Leave a Comment