ভূগোল সপ্তম শ্রেণীর প্রথম অধ্যায় 3 নম্বরের প্রশ্ন উত্তর

ভূগোল সপ্তম শ্রেণীর প্রথম অধ্যায় 3 নম্বরের প্রশ্ন উত্তর


1. পৃথিবীর ওপর থাকা সকল বস্তু পৃথিবীর দিকে পড়ে। এই বিশ্বের প্রতিটি বস্তু পরস্পর পরস্পরকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ বলকে বলে মহাকর্ষ। পৃথিবী একটি বড়াে গ্রহ। এর আকর্ষণ শক্তি ও প্রবল। এই শক্তির জন্যে পৃথিবীর ওপরে থাকা সকল বস্তুকে পৃথিবী নিজের কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে। একে বলে অভিকর্ষ। এই অভিকর্ষজ বলের জন্যে পৃথিবীর ওপরে থাকা কোনাে বন্ধু মহাবিশে ছিটকে যায় না। সকল বস্তু পৃথিবীর দিকে পড়ে।

2. নিরক্ষীয় অঞ্চল মেরু অঞ্চলের থেকে বেশি উত্তপ্ত হয়। ভতর পৃথিবীর গােলাকার আকৃতি, উপবৃত্তাকার কক্ষপথ, পরিক্রমণের সময়, মেরুরেখার কক্ষতলের সঙ্গে 662° কোণে হেলে অবস্থান প্রভৃতি কারণে বছরের বিভিন্ন সময় সূর্যরশ্মি 662 উত্তর অক্ষরেখা থেকে 663° দক্ষিণ অক্ষরেখার মধ্যে লম্বভাবে পড়ে। নিরক্ষরেখা থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে সূর্যরশ্মি ক্রমশ তির্যকভাবে পড়ে। লম্বভাবে পতিত রশ্মি কম বায়ুস্তর ভেদ করে আসায়, কম জায়গায় ছড়িয়ে পড়ায় নিরক্ষীয় অঞ্চলের উত্তাপ মেরু অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি হয়।

3. পৃথিবীর ওপর থাকা সকল বস্তু পৃথিবীর দিকে পড়ে। উত্তর পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথের নাভিতে সূর্য অবস্থান করায় সূর্যকে পরিক্রমণকালে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সর্বদা সমান থাকে না। 3 জানুয়ারি তারিখে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব হয় সর্বনিম্ন (14 কোটি 70 লক্ষ কিমি), একে পৃথিবীর অনুসূর অবস্থান বলে। অনুসূর অবস্থানের সময় পৃথিবীর উত্তর গােলার্ধে শীতকাল বিরাজ করে। তাই শীতকালে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব কমে যাওয়ায় এইসময় উত্তর গােলার্ধে সূর্যকে বড়াে দেখায়।

4. মেরুপ্রদেশে একটানা রাত চলার সময় আকাশে রামধনুর মতাে রঙিন আলাের জ্যোতি দেখা যায়। উত্তর দুই মেরুপ্রদেশে একটানা রাত চলার সময় মাঝে মাঝে আকাশে রামধনুর মতাে আলাের জ্যোতি দেখা যায়। ঊর্ধ্ব বায়ুমণ্ডলে (আয়নমণ্ডল) বিভিন্ন আয়নিত গ্যাসের সঙ্গে সূর্যরশ্মি র সংঘর্ষের ফলে মেরু অঞ্চলের আকাশে এরকম বিচ্ছুরিত আলাের সৃষ্টি হয়। এই মেরুজ্যোতিকে সুমেরু অঞ্চলে সুমেরুপ্রভা বা অরােরা বােরিয়ালিস এবং কুমেরু অঞ্চলে কুমেরুপ্রভা বা অরােরা অস্ট্রালিস বলে।

1. পৃথিবীর যদি কোনাে গতি না-থাকত

পৃথিবীর আবর্তন গতি না-থাকলে ।

(1) দিনরাত্রি সংঘটিত হত না।

(২)জোয়ারভাটা হত না

(3) বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের দিক পরিবর্তন হত না।

 পৃথিবীতে জীবনের সৃষ্টি হত না।

(2)পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি না-থাকলে

(1)সূর্যের প্রবল আকর্ষণে পৃথিবী সূর্যের গায়ে গিয়ে পড়ত

(2) ঋতুপরিবর্তন হত না।

( 3) দিনরাত্রির হ্রাসবৃদ্ধি ঘটত না।

(3)পৃথিবীর অক্ষ যদি কক্ষতলের সঙ্গে লম্বভাবে অবস্থান করত !

পৃথিবীর অক্ষ যদি কক্ষতলের সঙ্গে লম্বভাবে অবস্থান করত তাহলে,

(1)ছায়াবৃত্ত সবসময় পৃথিবীর মাঝবরাবর থাকত

অর্থাৎ প্রতিটি অক্ষরেখাকে সমদ্বিখণ্ডিত করত।

(2)দিনরাত্রির হ্রাসবৃদ্ধি ঘটত না, অর্থাৎ পৃথিবীর সর্বত্রই 12 ঘণ্টা দিন ও 12 ঘণ্টা রাত থাকত।

(3) পৃথিবীর কোনােখানেই ঋতুপরিবর্তন হত না। সারাবছর একই ঋতু বিরাজ করত।

3. পৃথিবীর কক্ষপথ যদি বৃত্তাকার হত !

পৃথিবীর কক্ষপথ যদি বৃত্তাকার হত, তাহলে

(1) সারাবছর সূর্য ও পৃথিবীর দূরত্ব সমান থাকত। ফলে অপসূর ও অনুসূর অবস্থান হত না।

(2) উত্তর গােলার্ধের শীতকালে সূর্যকে যে বড়াে দেখায় সেই ঘটনা ঘটত না।

(3) পরিক্রমণের সময় সবসময়ই পৃথিবীর গতিবেগ একই থাকত; ফলে শীত, গ্রীষ্ম প্রভৃতি ঋতুগুলির স্থায়িত্বের সময়কাল একই হত।

Leave a Comment