সপ্তম শ্রেণি সপ্তম অধ্যায় 2 নম্বরের প্রশ্ন

সপ্তম শ্রেণি সপ্তম অধ্যায় 2 নম্বরের প্রশ্ন 

সপ্তম শ্রেণি সপ্তম অধ্যায় 2 নম্বরের প্রশ্ন

(1)পৃথিবীর মােট জলের হিসাব দাও।

পৃথিবীর মােট 100 ভাগ জলের 97 ভাগই সমুদ্রের নােনা জল। বাকি 3 ভাগ স্বাদুজলের 2 ভাগ হিমবাহের বরফ হিসেবে রয়েছে। বাকি 1 ভাগ হল নদী, হ্রদ, অন্যান্য জলাশয় ও ভূগর্ভের

(2)জলদূষণ (Water Pollution) কাকে বলে ?

মানুষের নিত্যদিনের ক্রিয়াকলাপের ফলে এবং প্রাকৃতিক কারণে জলের ভৌত বা রাসায়নিক ও জৈব উপাদানগুলির গুণমান নষ্ট হয়ে যাওয়া ও জল ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে পড়াকে জলদূষণ বলা হয়।

 (3) জলদূষক পদার্থের নাম লেখ ?

জৈব, অজৈব পদার্থ ও জীবাণু প্রভৃতি দ্বারা জল । জলদূষক পদার্থগুলি নিম্নরূ

 (1) জীবাণু—ব্যাকটেরিয়া, প্রটোজোয়া প্রভৃতি।

(2) জৈবদূষক-কচুরিপানা, কৃষিক্ষেত্রের আবর্জনা প্রভৃতি

 (3) অজৈবদূষক-ডিটারজেন্ট, তেজস্ক্রিয় পদার্থ, কীটনাশক প্রভৃতি।

(4)জলদূষণের বিভিন্ন উৎসগুলি কি কি ? 

ত্তর জলদূষণের বিভিন্ন উৎসগুলি হল

(1) শিল্পকারখানা থেকে জলদূষণ। 

(2)গৃহস্থলী থেকে জলদূষণ।

(3)কৃষিক্ষেত্র থেকে জলদূষণ। প্রশ্ন

(5)জলদূষণের ফলে কী কী রােগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায় ?

জলদূষণের ফলে কলেরা, আমাশয়, আন্ত্রিক, জন্ডিস, টাইফয়েড, পােলিয়াে ইত্যাদি রােগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়।

(6)পৃথিবীজুড়ে জলসংকটের কারণ কী ?

জলের অতিরিক্ত ব্যবহার ও জলদূষণই হল পৃথিবীজুড়ে জলসংকটের প্রধান কারণ।

(7)পৃথিবীর 7 কোন্ কোন্ দেশে চরম জলসংকট দেখা গেছে ?

আফ্রিকা, পশ্চিম এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অণ্ডলে চরম জলসংকট দেখা গেছে।

(8)জলসংকটপূর্ণ রাজ্যগুলির নাম লেখাে

রাজস্থান, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ু হল জলসংকটপূর্ণ রাজ্য।

(9)তাপীয় দূষণ (Thermal Pollution) কাকে বলে ? প্রশ্ন 9

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও কারখানার উঃ দূষিত বর্জ্য জল সরাসরি জলাশয়ে, নদীতে মিশে জলের অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দেয় ও জলদূষণ ঘটায়, একে তাপীয় দূষণ বলে।

(10)জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে জলদূষণের সম্পর্ক কী?

জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শহরাঞলের বিস্তার, শিল্প, কারখানা ও যানবাহন। এর জন্য প্রচুর পরিমাণে বর্জ্য পদার্থ, দূষিত বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ, বিভিন্ন রকম জীবাণু সংক্রামিত নােংরা, জঞ্জাল, মল-মূত্র ইত্যাদি পরিষ্কার জলের সঙ্গে মেশার ফলে জল দূষিত হচ্ছে

(11)কৃষিক্ষেত্র থেকে জলদূষণ কীভাবে ঘটে ?

চাষের খেতে বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক সার, কীটনাশক, আগাছানাশক ব্যবহার করা হয়। বৃষ্টির জলে ধুয়ে এই সমস্ত বিষাক্ত রাসায়নিক ভূগর্ভের জলে, জলাশয়ে, নদীতে মিশে জল দূষিত করে।

(12)তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে জলদূষণ কীভাবে ঘটে ?

পারমাণবিক চুল্লি, চিকিৎসাকেন্দ্র বা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা গারে ব্যবহৃত তেজস্ক্রিয় পদার্থগুলি ব্যবহারের পর সমুদ্রে বা নদীতে ফেলা হয়। এ ছাড়া পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর তেজস্ক্রিয় পদার্থ জলে মিশে জলদূষণ ঘটায়।

(13) খনিজ তেল থেকে কীভাবে জলদূষণ ঘটে ?

তেলবাহী জাহাজে কোনাে দুর্ঘটনার ফলে অথবা সমুদ্রে অবস্থিত তেলের খনি থেকে নির্গত তেল সমুদ্রে মিশে যাওয়ায় জল দূষিত হয়।খনিজ তেল দূষণ এবং প্রাণীর জীবন সংশয়।

(14)তাপীয় দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব কী ?

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কারখানায় ব্যবহৃত উয় দূষিত বর্জ্য পদার্থ সরাসরি জলাশয়ে, নদীতে মিশে জলে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

(15)বায়ুদূষণ কি 15 জলদূষণের কারণ ?

কলকারখানা এবং যানবাহনের ধোঁয়ার মাধ্যমে বাতাসে সালফার ডাইঅক্সাইড (SO,), নাইট্রোজেন অক্সাইড (NO), NO,, কার্বন মনােক্সাইড (CO) ইত্যাদি জমা হয়। বায়ুমণ্ডল থেকে বৃষ্টির জলের সঙ্গে এই দূষিত অ্যাসিড মিশে ভূপৃষ্ঠের ও ভূগর্ভের জলকে দূষিত করে।

(16) লেক ঘাতক কাকে বলে ?

অ্যাসিড বৃষ্টি বা অম্ল বৃষ্টিকে লেকঘাতক বলা হয়। কারণ অ্যাসিড বৃষ্টি লেক বা জলাশয়ের জলের অম্লত্ব বৃদ্ধি করে।

(17) অ্যাসিড বৃষ্টির ফলে জলের কোন্ কোন্ জীবের মৃত্যু ঘটে ?

অ্যাসিড বৃষ্টির ফলে জলের ফাইটোপ্ল্যাংকটন (জলের উপরিতলে ভাসমান ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র উদ্ভিদকণা, উদাহরণ ক্ল্যামাইডােমােনাস, ভলভক্স), জুপ্ল্যাংকটন (জলের উপরিতলে ভাসমান আণুবীক্ষণিক প্রাণীকণা, উদাহরণ— সাইক্লপস, ড্যাফনিয়া), শামুক জাতীয় কম্বােজ, চারামাছ ইত্যাদির মৃত্যু ঘটে।

(18) প্রশ্ন ‘জৈব সঞ্চয় কী ?

যে-পদ্ধতিতে উদ্ভিদ ও প্রাণীকোশে অপরিবর্তনশীল বিষাক্ত পদার্থ এবং ভারী ধাতু জমা হয়, তাকে জৈব সঞ্চয় বলে।

(19) ভারতের কোথায় কোথায় কীটনাশকের দরুন প্রচুর মাছ মারা গেছে ?

কেরলের কুট্টনারে, ওড়িশার চিলকায়, অন্ধ্রপ্রদেশের কোলেরুতে কীটনাশকের দরুন প্রচুর মাছ মারা গেছে।

(20)আরসনিকয়সস কাকে বলে

আর্সেনিক মেশা জল খেলে মানুষের হাতে-পায়ে কালাে পচা ঘা হয়—এই রােগলক্ষণকে আর্সেনিকোসিস বলে।

(21) ফ্লয়ােরােসিস কী ?

ফ্লয়ােরাইড দূষণ থেকে মানুষের দাঁত ও হাড়ের ক্ষয় দেখা দেয়, তাকে ক্ষুয়ােরােসিস বলে।

(22)ফ্লুরােসিস রােগের দুটি লক্ষণ উল্লেখ করাে

ফুয়ােরােসিস রােগের দুটি লক্ষণ হল

(1)ফ্লুয়ােরােসিস রােগে দাঁতে কালাে ও বাদামি রঙের ছােপ ছােপ দাগ পড়ে এবং দাঁতের এনামেল স্তর ক্ষয়ে যায়।

(2)স্কেলিটাল ফ্লুয়ােরােসিসে অস্থি ও অস্থিসন্ধিতে ক্ষয় হয় এবং অসহ্য যন্ত্রণা অনুভূত হয়।

(23 মিনামাটা রােগের লক্ষণগুলি লেখাে।

মিনামাটা রােগে পেশি ও স্নায়ুর ক্ষতি হয়। আক্রান্ত মিনামাটা রোগ মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। বধিরতা, স্মৃতিবিভ্রম ইত্যাদি দেখা দেয়। এই রােগে আক্রান্ত হলে মানুষ পঙ্গু হয়ে যায়।

 (24) ক্যাডমিয়ামঘটিত ইটাই ইটাই রােগ ছাড়া আক্রান্ত মানুষের দেহে আর কী কী রােগ লক্ষণ দেখা দেয়

দূষিত জলে ক্যাডমিয়ামঘটিত ইটাই ইটাই রােগ দ্বারা মানুষের দেহে হৃদরােগ দেখা দেয়। এ ছাড়া ক্যাডমিয়াম দূষণে মানুষের রক্তচাপ বাড়ে। মূত্রাশয় ও যকৃতের ক্ষতি হয়।

(25) ইটাই ইটাই রােগের লক্ষণগুলি লেখাে।

ইটাই ইটাই রােগের লক্ষণগুলি হল— ফুসফুস ও বৃক্কের ক্ষতি হয়, দেহে বিষক্রিয়া দেখা দেয়। এ ছাড়া বমিভাব, পাতলা পায়খানা ও দৈহিক দুর্বলতা দেখা দেয়।

(26) ব্ল্যাকফুট ব্যাধি কাকে বলে ?

বেশিমাত্রায় আর্সেনিকযুক্ত পানীয় জল খেলে মানুষের পায়ের ত্বকে যে-কালাে কালাে ক্ষত সৃষ্টি হয় তাকে ব্ল্যাকফুট ব্যাধি বলে।

(27)ব্ল্যাকফুট ব্যাধি ছাড়া জলদূষণের ফলে মানুষের আর কী কী রােগ হয় ?

ব্ল্যাকফুট ব্যাধি ছাড়া জলদূষণের ফলে মানুষের চর্মরােগ, রক্তাল্পতা, যকৃৎ, ফুসফুস ও ত্বকের ক্যানসার ইত্যাদি রােগ হয়।

(28) মিনামাটা বিপর্যয় সম্বন্ধে তুমি কী জান?

1932 খ্রিস্টাব্দে জাপানে মিনামাটা উপসাগরের উপকূলে একটি রঙের কারখানা থেকে পারদযুক্ত (মিথাইল মার্কারি যুক্ত) তরল বর্জ্য পদার্থ সমুদ্রে ফেলা হয়। এই মারাত্মক পারদদূষণে প্রায় 30 বছর ধরে অসংখ্য মানুষ ও জীবজন্তু মারা যায়।

(29) কী কী বিষয় মেনে চললে জলবাহিত সংক্রমণ আটকানাে যায় ?

(1) বিশুদ্ধ পানীয় জল খাওয়া।

(2) সাধারণ কিছু পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা (যেমন সাবান দিয়ে হাত ধােয়া, পরিষ্কার পাত্রে জল রাখা ইত্যাদি)।

(3) শৌচাগারের ব্যবহার করা এবং নােংরা আবর্জনা সঠিকভাবে ফেলা—এই তিনটি বিষয় মেনে চললে জলবাহিত সংক্রমণ আটকানাে যায়।

( 30 )জল বিশুদ্ধ করার সহজ ও কার্যকরী উপায়টি লেখাে

জল বিশুদ্ধ করার সহজ ও কার্যকরী উপায়টি হল

সূর্যের আলাের মাধ্যমে জল শুদ্ধ করা। পাতলা প্লাস্টিকের স্বচ্ছ বােতলে জল ভরে রােদে ছ-সাত ঘণ্টা রেখে দিলে প্রায় ফোটানাে জলের মতােই তা বিশুদ্ধ হয়ে যায়

(31) কীভাবে সারা পৃথিবীব্যাপী তীব্র জলসংকট মেটানাে যেতে পারে ?

জলদূষণ আটকানাের সঙ্গে সঙ্গে জলের অতিরিক্ত ব্যবহার কমানাে এবং বেশি পরিমাণে পুনর্ব্যবহার করলে তবেই সারাপৃথিবীব্যাপী তীব্র জলসংকট মেটানাে যেতে পারে।

(32) পানীয় জল পরিশােধনের জন্য কোন কোন রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় ?

পানীয় জল পরিশােধনের জন্য ক্লোরিন, ব্লিচিং পাউডার, জিয়ােলিন ইত্যাদি রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়।

(33) কীভাবে বিশুদ্ধ জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা উচিত ?

নিরাপদ পানীয় জলের জন্য নলকূপের জলের দূষণের

(34) বর্তমানে গঙ্গানদীর দূষিত হওয়ার কারণ কী?

গত কয়েক দশকে গঙ্গানদীর দুই তীরে অসংখ্য কলকারখানা, শহর, নগর ও জনবসতি গড়ে ওঠার ফলে প্রচুর বিষাক্ত আবর্জনা গঙ্গানদীর জলে মিশে এর জলকে দূষিত করে তুলেছে।

Leave a Comment