পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল//General Knowledge

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল

প্রশ্ন

উত্তর

বায়ুমণ্ডলের উর্ধ্বসীমা কত ?

ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০,০০০ কিমি ঊর্ধ্ব পর্যন্ত বায়ুমণ্ডল পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে।

বায়ুমণ্ডল কী কী উপাদান দ্বারা গঠিত ?

গ্যাসীয় উপাদান, জলীয় বাষ্প ও ধূলিকণা দ্বারা বায়ুমণ্ডল গঠিত।

বায়ুমণ্ডলের গ্যাসীয় উপাদানগুলির নাম লেখাে?

স্থায়ী উপাদান— নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, মিথেন। অস্থায়ী উপাদান- জলীয় বাষ্প, ধূলিকণা, CO, ।

বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ কত ?

বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন পরিমাণ হল ৭৮.০৯%।

বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কত ?

বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ ২০.৯৫% হল।

বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাইঅক্সাইডের শতকরা পরিমাণ কত ?

বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাইঅক্সাইডের শতকরা পরিমাণ হল ০.০৩%।

এরােসল কী ?

বলতে বাতাসে ভাসমান ধূলিকণাকে বােঝায়। যথা – ভূপৃষ্ঠের ও কলকারখানা থেকে নির্গত ধূলিকণা, কার্বন কণা ইত্যাদি।

বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের শতকরা পরিমাণ কত ?

বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের শতকরা পরিমাণ ০.৫% থেকে ৪.০%।

বায়ুমণ্ডলে আর্গনের পরিমাণ কত ?

বায়ুমণ্ডলের আর্গনের পরিমাণ ০.৯৩%।     

রাসায়নিক গঠন অনুসারে বায়ুমণ্ডলকে কয়টি স্তরে ভাগ করা যায় ও কী কী ?

দুইটি স্তরে ভাগ করা যায়। যথা— সমমণ্ডল বা হােমােস্ফিয়ার, বিষমমণ্ডল বা হেটেরােস্ফিয়ার।

সমমণ্ডল কী ?

 

ভূপৃষ্ঠ থেকে ঊর্ধ্বে ৮৮ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুমণ্ডলীয় স্তর। এই স্তরে গ্যাসীয় উপাদানগুলি অনুপাতে থাকে। একে সমমণ্ডল বলে।

হেটেরােস্ফিয়ার কাকে বলে ?

হােমাস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বে ৮৮ কিমি থেকে ১০,০০০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুমণ্ডলীয় স্তর, যেখানে গ্যাসীয় উপাদানগুলি বিভিন্ন অনুপাতে থাকে। তাকে হেটেরােস্ফিয়ার বলে।

স্ট্যাটোস্ফিয়ারের অপর নাম কী ?

স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের অপর নাম শান্তমণ্ডল।

একই উয়তার তারতম্য অনুযায়ী বায়ুমণ্ডলকে কটি ভাগে ভাগ করা যায় ?

উয়তার তারতম্য অনুযায়ী বায়ুমণ্ডলকে পাঁচভাগে ভাগ করা যায়, যথা (১) ট্রপােস্ফিয়ার (২) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (৩) মেসােস্ফিয়ার (৪) আয়ােনােস্ফিয়ার ও থামােস্ফিয়ার (৫) এক্সোস্ফিয়ার এ ছাড়া রয়েছে I

ল্যাপস রেট কাকে বলে ?

ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে ৬.৪°C হারে উন্নতা হ্রাস পেতে থাকে, একে বায়ুর উয়তা হ্রাসের হার বা Normal Lapes Rate বলে।

ম্যাগনেটোস্ফিয়ার ট্রপপাস্ফিয়ারকে ক্ষুদ্ধমণ্ডল বলে কেন ?

এই স্তরে ঝড়ঝঞা, মেঘ, বৃষ্টিপাত প্রভৃতি সংঘটিত হয় বলে। একে ক্ষুধমণ্ডল বলে।

ওজোনােস্ফিয়ার কাকে বলে ?

 

জেটবিমান কোন স্তরে চলে?

স্ট্রাটোস্ফিয়ার স্তরে চলে I

উল্কা বায়ুমণ্ডলের কোন্ স্তরে পুড়ে ছাই হয়ে যায় ?

উল্কা মেসােস্ফিয়ারে প্রবেশ করা মাত্রই পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

বেতার তরঙ্গ কোন স্তরে প্রতিহত হয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে ?

আয়নােস্ফিয়ারে প্রতিহত হয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে।

মেরুপ্রভা বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে দেখা যায় ?

মেরুপ্রভা আয়নােস্ফিয়ারে দেখা যায়।

আবহাওয়া কাকে বলে ?

কোনাে নির্দিষ্ট সময়ে কোনাে নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুর উয়তা, বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, শিশির কুয়াশা প্রভৃতি সামগ্রিক অবস্থাকে আবহাওয়া বলে। জলবায়ু কাকে বলে

সৌরবিকিরণ কী ?

সৌরতাপের শতকরা ৬৬% পৃথিবী ও বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করতে পারে, একে কার্যকরী সৌরবিকিরণ বলে।

অ্যালবেডাে কাকে বলে?

  কার্যকরী  পৃথিবীতে আগত সৌরতাপের ৩৪% বায়ুমণ্ডলে অবস্থিত মেঘ, ধূলিকণা ও ভূপৃষ্ঠে প্রতিহত হয়ে মহাশূন্যে ফিরে যায়, একে অ্যালবেডাে বলে।

জলবায়ু কাকে বলে?

কোনাে বৃহৎ অঞ্চলের কমপক্ষে ৩০-৩৫ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থাকে জলবায়ু বলে।

বায়ুর চাপ বলতে কী বােঝায় ?

নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে থিত বায়ুর ওজনকে বায়ুর চাপ বলে।

সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ কত ?

সমুদ্র সমতলে বায়ুর চাপ ১০১৩.২৫ মিলিবার।

বায়ুচাপ কয় প্রকার ও কী কী ?

দু-প্রকারের হয়। যথা- উচ্চচাপ ও নিম্নচাপ। বায়ু কোন্ দিক থেকে কোন্ দিকে প্রবাহিত হয় ? বায়ু উচ্চচাপ যুক্ত অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ যুক্ত অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।

বায়ুচাপ বলয় কী ?

যে বায়ুচাপ যুক্ত অঞ্চলগুলি গােলাকার পৃথিবীকে বলয়ের আকারে বেষ্টন করে আছে, তাকে বায়ুচাপ

বলয় বলে।

ভূপৃষ্ঠে কটি চাপবলয় আছে ও কী কী ?

সাতটি চাপবলয় আছে। যথা- (১) নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় (৫°-১০° উ./দ.) ২) কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয় (২৩°৩০’ উ.-৩০° উ.) ৩) মকরীয় উচ্চচাপ বলয় (২৩°৩০’ দ.-৩০° দ.) ৪) সুমেরু বৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয় (৬০-৭০° উ.) ৫) কুমেরু বৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয় (৬০-৭০° দ.) (৬) সুমেরু উচ্চচাপ বলয় (৮০°—৯০° উ.) (৭) কুমেরু উচ্চচাপ বলয় (৮০°—৯০° দ.)

ভূপৃষ্ঠে কত ধরনের বায়ু প্রবাহিত হয় ?

চার ধরনের।( ১) নিয়ত বায়ু ( 2)আকস্মিক বায়ু (3) সাময়িক বায় (৪) স্থানীয় বায়ু।

কুয়াশা কাকে বলে ?

ভূপৃষ্ঠের কাছে অধিক শীতলতার জন্য জলীয় বাষ্প ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণায় পরিণত হয়ে বাতাসে ভেসে তাকে কুয়াশা বলে।

 

বৃষ্টিপাত কত প্রকার?

ষ্টিপাত মূলত তিনপ্রকারের হয় —১) পরিচলন বৃষ্টিপাত (১) পরিচলন বৃষ্টিপাত (২) শৈলােৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ৩ ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টিপাত।

শিশির কাকে বলে

অধিক শীতলতার দরুন জলীয় বাষ্প যখন জলবিন্দু আকারে জমা হয় তাকে শিশির বলে।

মেঘ কীভাবে সৃষ্টি হয় ?

 

 

সূর্যের তাপে জল বাষ্পে পরিণত হয়। জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস হালকা হয়ে ওপরে উঠতে থাকে, বাতাস যাত ওপরে ওঠে তত বায়ুমধ্যস্থ জলীয় বাষ্প সম্পৃত্ত হয়ে ক্ষুদ্র জলকণায় পরিণত হয়। ধূলিকণা ও লবণকণাকে আশ্রয় করে ভেসে বেড়ায় এবং ঘনীভূত হয়ে মেঘের সৃষ্টি করে

 

Leave a Comment