অষ্টম শ্রেণি চতুর্থ অধ্যায় চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ ব্যাখ্যা মূলক 2 নম্বরের প্রশ্ন উত্তর ভূগোল

  1. বিভিন্ন বলয়ের বৃষ্টিপাত সূর্যকে অনুসরণ করে ঘটে কেন ?

উ:- বায়ুর চাপবলয়গুলির পরিবর্তনের কারণে উভয় গাোলার্ধের বিভিন্ন স্থানে জলবায়ুর পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। গ্রীষ্মকালে পূর্বদিকে আয়ন বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয় কিন্তু পশ্চিম দিকে হয় না। ফলে মহাদেশগুলির পশ্চিম দিকে বড়াো বড়াো মরুভূমিগুলির সৃষ্টি হয়েছে। আবার শীতকালে পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে মহাদেশগুলির পশ্চিম দিকে বৃষ্টিপাত হয় ও পূর্বদিকে সঙ্গে সঙ্গে নিয়ত বায়ু ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণেরও তারতম্য ঘটে। তাই বলা হয় বৃষ্টিপাত সূর্যকে অনুগ্রণ করে।

  1. উন্নতার সঙ্গে বায়ুচাপের সম্পর্ক ব্যস্তানুপাতিক না সমানানুপাতিক এবং কেন ?

উ:- উম্নতার সঙ্গে বায়ুচাপের সম্পর্ক ব্যস্তানুপাতিক। কারণ হল- বায়ুমণ্ডলের উন্নতা বাড়লে বায়ু হালকা হয় অর্থাৎ, বায়ুর চাপ কমে বা নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। আর উন্নতা কম হলে বায়ুর চাপ বাড়ে অর্থাৎ, উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়।

  1. নিরক্ষীয় শান্তবলয়কে ডাোল ড্রামস বলে কেন ?

উ:- নিরক্ষীয় অঞ্চল বরাবর উম্ন ও হালকা বায়ু সাোজা উপরের দিকে উঠে যাওয়ায় এখানে বায়ুর উধ্বমুখী স্রোত লক্ষ করা যায়। ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে কোনাো বায়ু প্রবাহিত হয় না। ফলে এখানে বায়ুর কোনাো চলাচল বাোঝা যায় না, শান্তভাব বিরাজ করে। প্রাচীনকালে এই নিরক্ষীয় শান্তবলয়ের মধ্যে দিয়ে জাহাজ চালানাোর সময় প্রায়ই জাহাজগুলি থেমে যেত। তাই নাবিকরা নিরক্ষীয় শান্তবলয়ের নাম দেন ডাোলড্রামস।

  1. অশ্ব অক্ষাংশ বরাবর পালতাোলা জাহাজগুলি গতিহীন হয়ে পড়ত কেন?

উ:- ও দক্ষিণ গাোলার্ধে 25° থেকে 35° অক্ষখোর মধ্যবর্তী অঞ্চলে যথাক্রমে কর্কটীয় ও মকীয় উচ্চচাপ বলয়ের দিকে শীতল ও ভারী বায়ুর নিম্নমুখী স্রোত দেখা যায়, তাই এখানে বায়ুর কোনাো অনুভূমিক প্রবাহ থাকে না। আর বায়ু প্রবাহিত না হওয়ায় অশ্ব অকাংশ বরাবর পালতাোলা জাহাজগুলি গতিহীন হয়ে পড়ত।

  1. শীত বা বর্ষা কোন্ ঋতুতে বায়ুর চাপ কম থাকে এবং কেন ?

উ:- বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকলে বায়ু আর্দ্র হয়। আর্দ্র বায়ুর চাপ শুষ্ক বায়ুর তুলনায় কম বলে শীতঋতুর তুলনায় বর্ষাঋতুতে বায়ুর চাপ কম থাকে।

অষ্টম শ্রেণি চতুর্থ অধ্যায়

  1. উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় কেন ?

উ:- উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর ঘনত্ব কমতে থাকে, ফলে বায়ুচাপ কমে যায়। আর চাপ কম হলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। হিসেব করে দেখা গেছে, প্রতি 900 ফুট উচ্চতায় 34 মিলিবার করে বায়ুচাপ কমতে থাকে। পার্বত্য অঞ্চল বলতে আমরা বুঝি 1,000 মিটারের বেশি উঁচু স্থানসমূহকে। স্বাভাবিকভাবেই উচ্চতা বৃদ্ধি ও চাপহ্রাস দুটি কারণে উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। 7. ক্রান্তীয় অঞ্চলে মহাদেশের পশ্চিম দিকে পৃথিবীর

  1. অধিকাংশ মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে কেন?

উ:- দুই গাোলার্ধে ক্রান্তীয় অঞ্চলের কম উম্ন স্থান থেকে তুলনায় বেশি উয় নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে আয়নবায়ু প্রবাহিত হওয়ায় এর উম্নতা বেড়ে যায় এবং জলীয় বাষ্প ধারণের ক্ষমতাও বাড়ে। ফলে এই বায়ু মহাদেশের পূর্ব উপকূলে বৃষ্টিপাত ঘটায় না। পশ্চিমাংশে একেবারেই বৃষ্টিপাত ঘটায় না। এই কারণে মহাদেশের পশ্চিমাংশে অধিকাংশ উয় মরুভূমির সৃষ্টি হয়েছে। যেমন—আফ্রিকার সাহারা, কালাহারি ।

  1. পশ্চিমা বায়ুর প্রবাহপথে মহাদেশের পূর্ব ও মধ্য অংশে পৃথিবীর অধিকাংশ নাতিশীতাোয় তৃণভূমির সৃষ্টি হয়েছে কেন ?

উ:- শীতকালে জলভাগ স্থলভাগের তুলনায় বেশি উয় থাকে। এই সময় জলীয় থেকে পূর্বে প্রবাহের সময় মহাদেশের পশ্চিমাংশে যথেষ্ট পরিমাণ বৃষ্টিপাত ঘটায়। কিন্তু মহাদেশের পূর্বদিকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ক্রমশ কমতে থাকে। এই কারণে পশ্চিমা বায়ুর প্রবাহপথে মহাদেশগুলির পূর্ব ও মধ্য অংশে নাতিশীতাোয় তৃণভূমির সৃষ্টি হয়েছে। যেমন—মধ্য এশিয়ার স্তেপ তৃণভূমি অঞ্চল।

  1. গ্রীষ্মকালে ভূমধ্যসাগর সন্নিহিত দেশগুলিতে বৃষ্টিপাত হয় না কেন?

উ:- সূর্যের উত্তরায়ণের সময় কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয়টি উত্তর দিকে সরে যায়। ফলে গ্রীষ্মকালে থলভাগ থেকে আগত উত্তর-পূর্ব আয়নবায়ু ভূমধ্যসাগর সন্নিহিত অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। থলভাগ থেকে প্রবাহিত হয় বলে এই বায়ু জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করতে পারে । তাই ভূমধ্যসাগর সন্নিহিত দেশগুলিতে বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না।

  1. নিরক্ষীয় অঞ্চলে নিম্নচাপ বলয় সৃষ্টি হয়েছে কেন?

উ:- নিরক্ষরেখার দু-দিকে 5° উত্তর থেকে 5° দক্ষিণ অক্ষরেখার মধ্যে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় সৃষ্টি হয়েছে। কারণ এই অঞ্চলে সূর্য সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় উন্নতা বেশি হয়। তাই বাতাস উয় ও প্রসারিত হয়ে উপরের দিকে উঠে যায়। নিরক্ষীয় অঞ্চলে জলভাগ বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত উয়তায় জল বাষ্পীভূত হয়ে প্রচুর জলীয় বাষ্প বায়ুতে মেশে। এ ছাড়াও এই অঞ্চলে আবর্তন গতি বেশি হওয়ায় বায়ু বিক্ষিপ্ত হয়ে দু-দিকে সরে যায়। এই কারণেই নিরক্ষীয় অঞ্চলে নিম্নচাপ বলয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

  1. মেরু অঞ্চলে উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টি হয়েছে কেন ?

উ:- মেরু অঞ্চলে সূর্য সারাবছর তির্যকভাবে কিরণ দেওয়ার এখানকার উন্নতা খুব কম। ফলে বায়ু শীতল ও ভারী হয়। এখানে বাপীভবনের হার খুব কম বলে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম। এ ছাড়াও আবেগের কারণে মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় অঞ্চল থেকে কিছু বায় রে অঞ্চলে নেমে এসে উচ্চচাপের সৃষ্টি করেছে

  1. উত্তর গাোলার্ধের তুলনায় দক্ষিণ গাোলার্ধে পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ বেশি কেন ?

উ:- গাোলার্ধের 35°—60° অক্ষাংশের মধ্যে পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত হয়। উত্তর গাোলার্ধে থলভাগ বেশি থাকায় বায়ু পাহাড়-পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হয় তাই গতিবেগ অপেক্ষাকৃত কম। কিন্তু দক্ষিণ গাোলার্ধে থলভাগের তুলনায় জলভাগ বেশি থাকায় পশ্চিমা বায়ুর ওপর ঘর্ষণজনিত বাধার প্রভাব কম। তাই

  1. বিস্তৃত জলভাগের উপর দিয়ে এই বায়ু প্রবল বেগে প্রবাহিত হয় -?

উ:- পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় কেন? সাধারণত উভয় গোলার্ধের 35° থেকে 60° অক্ষাংশে মধ্যে পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত হয়। এই বায়ু পশ্চিম দিক থেকে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়। শীতকালে জলভাগ স্থলভাগের তুলনায় বেশি উয় থাকে। ফলে বায়ুতে জলীয় বাষ্প গ্রহণের ক্ষমতাও বেশি থাকে। এই সময় জলীয় বাষ্পপূর্ণ পশ্চিমা বায়ু পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রবাহের সময় মহাদেশের পশ্চিম উপকূলে যথেষ্ট পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়।

  1. দিনের বেলা সমুদ্র বায়ু প্রবাহিত হয়। তার কারণ ব্যাখ্যা করাো ?

উ:- উপকূল এলাকায় দিনের বেলা সূর্যের তাপে জলভাগের চেয়ে স্থলভাগ দ্রুত উত্তপ্ত হয়। ফলে স্থলভাগের উপরের বায় উয় ও প্রসারিত হয়ে নিম্নচাপের সৃষ্টি করে। কিন্তু জলভাগ অপেক্ষাকৃত কম উত্তপ্ত হওয়ায় জলভাগের উপরের বায়ুর চাপ বেশি থাকে। ফলে সমুদ্রের উপর থেকে সমুদ্র বায়ু থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়।

  1. বায়ুচাপ বলয়গুলির স্থানপরিবর্তন হয় কেন?

উ:- সূর্যের উত্তরায়ণ (22 ডিসেম্বর থেকে 21 জুন) ও দক্ষিণায়নের (21 জুন থেকে 22 ডিসেম্বর) সময় বায়ুচাপ। বলয়গুলি কিছুটা উত্তর ও দক্ষিণ দিকে সরে যায়। উত্তরায়ণের সময় সূর্যকিরণ কর্কটক্রান্তি ও দক্ষিণায়নের সময় মকরক্রান্তি রেখায় লম্বভাবে পড়ে। এই কারণে। বায়ুচাপ বলয়গুলি উত্তর ও দক্ষিণ গাোলার্ধে 5° থেকে 10° অক্ষরেখা পর্যন্ত সরে যায়।

Leave a Comment