অষ্টাদশ শতকে ইংরেজ ও ফরাসী বণিকদের অবস্থা

অষ্টাদশ শতকে ইংরেজ ও ফরাসী বণিকদের অবস্থা

অষ্টাদশ শতকে ইংরেজ ও ফরাসী বণিকদের অবস্থার অষ্টাদশ শতকে ভারতে ইংরেজদের প্রধান তিনটি ঘাঁটি ছিল বােম্বাই, মাদ্রাজ ও কলকাতা। অষ্টাদশ শতকের গােড়াতেই বােশ্বই সরাটের স্থান দখল করে। দক্ষিণ ভারতেও ফোট সেন্ট ডেভিডের জায়গায় মাদ্রাজের প্রাধান্য হাপিত হয়। কলকাতা ও মাদ্রাজ উভয় শহরেই ইংরেজদের বসতি গড়ে উঠেছিল একটি সুরক্ষিত দগ কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম ও মাদ্রাজ ফোট সেট জজ ও বাণিজ্য কুঠিকে কেন্দ্র করে দুটি শহরেই ইংরেজদের শ্রীবদ্ধি ও বাণিজ্যিক কার্যকলাপের প্রসার ঘটে ১৭১৪ থেকে ১৭১৭ পর্যন্ত দিল্লীতে সরমান দৌত্যের সাফল্যে। দুটি শহরকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল অন্যান্য ছােটখাটো বাণিজ্য কুঠি। এই সব কুঠির মধ্যে বাংলায় পাটনা, ঢাকা ও কাশিমবাজারের নাম উল্লেখযােগ্য। মাদ্রাজের কাছে দুটি ইংরেজ ঘাঁটি ছিল বিশাখাপত্তনম ও কুড়ালাের।

অণ্টাদশ শতকের গােড়া থেকেই তিনটি শহরের সমদ্ধি বাড়তে থাকে ও জনসংখ্যাও বাড়তে থাকে। ১৭৪৪ সালের মধ্যে বােম্বাই ও কলকাতার জনসংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৭০,০০০ ও এক লক্ষ। অষ্টাদশ শতকের গােড়া থেকেই মাদ্রাজের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৩ লক্ষ। অষ্টাদশ শতকের প্রারম্ভে ব্রিটিশ ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর ব্যবসা হ, হ, করে বাড়তে থাকে। বাংলা ও গুজরাট থেকে নীল, বাংলা ও বিহার থেকে শােরা ( saltpetre ), মালাবার থেকে মশলা ও সব ধরণের সতীবস্ত্র বিক্রয় করে কোম্পানী প্রচুর মুনাফা অর্জন করেছিল। কোম্পানী যখন চীনের সঙ্গে ব্যবসা করার অধিকার অর্জন করে, তখন তার আরও শ্রীবদ্ধি দেখা দিল। ব্রিটিশ ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর বাণিজ্যিক কার্যকলাপ কি ভাবে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছিল, পরিসংখ্যানই তার সাক্ষী। ১৭০৭ সালে ভারত থেকে ইংল্যাণ্ডে আমদানীজাত দ্রব্যের মূল্য ছিল ৫ লক্ষ পাউণ্ড। ১৭80 সালে এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১,৭৯৫,০০০ পাউণ্ডে। মনে রাখতে হবে কোম্পানীর এই বাড়-বাড়ন্ত ঠিক তখনই, যখন ব্রিটিশ সরকার ইংল্যাণ্ডের বস্ত্রবয়ন শিল্পকে ভারতীয় বস্ত্রের প্রতিযােগিতার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য নানা প্রকার কঠোর বাধা নিষেধ আরােপ করেছিল ।

১৬৬৮ সালে সুরাটে ও ১৬৬৯ সালে মুসলিপত্তানাম কুঠি স্থাপন করলেও ১৬৭৪ সালে পণ্ডিচেরীতে কুঠি স্থাপন করার সঙ্গে সঙ্গে ফরাসীরা ভারতে শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে। বাংলায় ১৬৯০-৯২ সালে চন্দননগরে একটি ফরাসী কুঠি স্থাপিত হয়। কিন্তু চতুর্দশ লইয়ের রাজত্বকালে ফ্রান্স ইউরােপীয় যুদ্ধে ব্যস্ত থাকার ফলে কোম্পানীর ব্যবসা যথেষ্ট মার খায়। এই প্রসঙ্গে মনে রাখতে হবে ফরাসী ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী ছিল একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের প্রত্যক্ষ পণ্ঠপােষকতা ও আগ্রহের উপরই এর শ্রীবন্ধি নির্ভর করতাে। যাই হােক চতুদশ লইয়ের মত্যুর পর থেকে ফরাসী ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর ভাগ্য খুলে যায় ও ব্যবসার যথেষ্ট প্রসার ঘটে। ১৭২১ সালে মরিশাসে ফরাসীদের প্রাধান্য সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। ১৭২৫ সালে মালাবার উপকূলে মাহে ও ১৭৩৯ সালে করমণ্ডল উপকূলে কারিকল ফরাসীদের হস্তগত হয়। ইংরেজদের মত ফরাসীদের ব্যবসাও হ হ করে বাড়তে থাকে। ১৭২৮ থেকে ১৭80 সালের মধ্যে ভারত থেকে আমদানীজাত দ্রব্যের মূল্য ৮৯,০০০ পাউণ্ড থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৮৮০,০০০ পাউণ্ডে। অথাৎ এই বদ্ধির হার ছিল প্রায় দশ গুণ। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, ফরাসীরা ধীরে সুস্থে শর করলেও অষ্টাদশ শতকের তৃতীয় দশকে তারা খুব দুত তাদের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে সক্ষম হয়েছিল।

অষ্টাদশ শতকে ইংরেজ ও ফরাসী বণিকদের অবস্থা

অষ্টাদশ শতকের চতুর্থ দশকে ইংরেজ ও ফরাসীদের অবস্থা তুলনা করলে দেখা যাবে যে, ইংরেজরা সব বিষয়েই ফরাসীদের চেয়ে অনেক এগিয়েছিল। পশ্চিম উপকলে বােম্বাই ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। বাংলায় কলকাতার কাছে ফরাসী চন্দননগরের গুরত্ব ছিল নিতান্তই অকিঞ্চিৎকর। দক্ষিণ ভারতে মাদ্রাজ অবশ্য পণ্ডিচেরীর সমকক্ষ ছিল। ফরাসীদের একটি প্রধান ঘাঁটি ছিল মরিশাসে। কিন্তু দরত্বের জন্য তা করাসীদের শক্তির উৎস হয়ে উঠতে পারে নি। অন্যদিকে ব্যবসা বাণিজ্যের ব্যাপারে উভয় কোম্পানীই যথেষ্ট অগ্রসর হলেও ইংরেজদের তুলনায় ফরাসীরা অনেকে পিছিয়ে ছিল। ১৭৪০ সালে যেখানে ফরাসীরা ভারত থেকে ৮৮০,০০০ পাউন্ড মলের দ্রব্যসামগ্রী আমদানী করেছিল, সেখানে ইংরেজদের ব্যবসার পরিমাণ ছিল ১,৭৯৫,০০০ পাউণ্ড ! ব্রিটিশ ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর শক্তি দাঁড়িয়ে ছিল তার সংগঠন, দীঘ ঐতিহ্য ও ব্যাপক অভিজ্ঞতার উপর। এই কোম্পানী ছিল একটি বেসরকারী সংস্থা, যার পরিচালক সভা ছিল যথেষ্ট যােগ্য ও দক্ষ এবং ব্যবসায় লাভও হতাে যথেষ্ট। এর ডিরেক্টররা অনেকেই পালামেন্টের সদস্য ছিলেন বলে জাতীয় নীতি নির্ধারণে তাঁদের প্রভাব ছিল যথেষ্ট। সুতরাং বেসরকারী প্রতিষ্ঠান হলেও ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী সরকারী অনুকুল্য বা পণ্ঠপােষকতা থেকে বঞ্চিত হতাে না। অন্যদিকে ফরাসী ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী ছিল একটি পুরােপুরি সরকারী প্রতিষ্ঠান। স্বভাবিক কারণেই এর সৌভাগ্য নির্ভর করতাে মন্ত্রীদের মর্জির উপর। সবশেষে উভয় কোম্পানীরই অস্তিত্ব নির্ভর করতো স্বদেশের সঙ্গে যােগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌ-বহরের দক্ষতার উপর। কিন্তু এ ব্যাপারেও ইংরেজরা ফরাসীদের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল। এক অর্থে এটাই ছিল ইংরেজদের হাতে তুরুপের তাস। যাই হােক ১৭২৩ সালের পর থেকে ফরাসীরা যে ভাবে দ্রুত গতিতে তাদের ব্যবসার প্রসার ঘটাচ্ছিল, তার জন্য কোম্পানীর কর্মচারীরা যথেষ্ট কৃতিত্ব দাবী করতে পারেন। উমা ও ডলের মত দক্ষ ও যােগ্য ব্যক্তি যে কোন দেশের গর্বের কারণ হতে পারে।

ইংরেজ এবং ফরাসীরা ভারতের ব্যবসা বাণিজ্যে পরস্পর পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও, ইউরােপের কোন যুদ্ধের ছায়া প্রথম দিকে ভারতে বসবাসকারী উভয় বণিক সম্প্রদায়ের উপর পড়ে নি। অতীতে উভয় পক্ষই শান্তি বজায় রাখার পক্ষপাতী ছিল। তবে আগে ফরাসী ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী ইংরেজদের তুলনায় এত পিছিয়ে ছিল যে, ইংরেজরা তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে নামার কোন প্রয়ােজনই বােধ করে নি। অথাৎ ইংরেজদের বাণিজ্যিক স্বার্থ তখন ফরাসীদের হাতে বিপন্ন হয় নি। অন্যদিকে ফরাসীরাও ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে অবতীর্ণ হবার প্রয়ােজন বােধ করে নি। তখন অবশ্য তাদের সে ক্ষমতাও ছিল না। অস্ট্রিয়ার উত্তরাধিকার যুদ্ধের প্রাক্কালে এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। তখনও ইংরেজরা ফরাসীদের তুলনায় এগিয়ে থাকলেও, ফরাসীদের ব্যবসা বাণিজ্য যে ভাবে দ্রুত প্রসার লাভ করছিল, তা ইংরেজদের শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাদের বাণিজ্যিক ও ঔপনিবেশিক স্বার্থে আঘাত লাগে। এই অবস্থায় ইংরেজদের পক্ষে চুপচাপ বসে থাকা সম্ভব ছিল না। সুতরাং অস্ট্রিয়ার উত্তরাধিকার যুদ্ধে ফরাসীরা ভারতে ইংরেজদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষপাতী হলেও, ইংরেজরা ফরাসীদের আবেদনে সাড়া দেয় নি। এর ফলেই প্রথম কণটিকের যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়ে।

মোগল সম্রাটদের দুর্বলতা ও অভিজাত দের দলাদলি সম্পর্কে জানার জন্য তোমরা এখানে ক্লিক করো

 

Class 4 Model Activity Task

Compilation October New

নীচের বিষয় গুলিতে Click করে নতুন মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক গুলি লিখে নিতে পারবে

বাংলা

অংক

ইংরেজী

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

স্বাস্থ্য ও শরীর শিক্ষা

Leave a Comment