কর্নাটকের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা সমূহ

কর্নাটকের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা সমূহ

কণাটকের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অস্ট্রিয়ার উত্তরাধিকার যুদ্ধের সূত্র ধরে ভারতে ইঙ্গ-ফরাসী প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হলেও, একথা ভুললে চলবে না যে, উভয় বণিক গােষ্ঠীই ছিল বিদেশী এবং ভারতে থাকাকালীন তারা এদেশের আইন কানুন মেনে চলতে বাধ্য। অর্থাৎ তারা চাইলেই যে পরস্পরের বিরদ্ধে বিবাদে লিপ্ত হতে পারে, এমন কোন কথা নেই। ইউরােপে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সর মধ্যে যুদ্ধ চলেছে বলে, এখানেও তারা নিজেদের মধ্যে মারামারি কাটাকাটি করবে, এটা কখনই সাবভৌম ক্ষমতাসম্পন্ন কোন রাষ্ট্রনায়ক মেনে নিতে পারেন না। কিন্তু তা সত্ত্বেও যদি এই ধরণের পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে, তবে তা কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব স্থানীয় শাসকের ১৭৪০ এর দশকে বাংলার নবার ছিলেন শক্তিশালী আলীবর্দী খাঁ তিনি পষ্ট ভাষায় উভয় বণিক সংস্থাকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, সরকার তাদের আইনসঙ্গত ব্যবসার কাজে কোন বাধা দেবেন না কিন্ত, ব্যবসা করতে এসে দুর্গ নির্মাণ বা সামরিক প্রস্তুতি সরকার কখনই বরদাস্ত করবে না। ব্যবসায়ীদের কাজ ব্যবসা করা, যুদ্ধ করা নয়। সুতরাং তাদের যুদ্ধের কি প্রয়োজন ? আলীবদীর এই কঠোর-মনােভাবের ফলে বাংলাদেশে ইঙ্গ-ফরাসী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আঁচ লাগে নি। কিন্তু দাক্ষিণাত্যের অবস্থা ছিল অন্যরকম। এখানকার অস্থির ও অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইঙ্গ-ফরাসী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইন্ধন জুগিয়েছিল। সুতরাং দাক্ষিণাত্যে ইঙ্গ-ফরাসী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাস বর্ণনা করার আগে এখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে দু-একটি কথা বলা প্রয়োজন।

কর্নাটকের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা সমূহ :

১৭৪০ সালে দাক্ষিণাত্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল খুবই অনিশ্চিত। ঔরঙ্গজেবের মত্যুর কিছু পরেই হায়দ্রাবাদের নিজাম এখানে প্রায় স্বাধীনভাবেই রাজত্ব করতে শর; করেন। কিন্তু বাদ্ধক্যের ভারে ও মারাঠা আক্রমণের চাপে তিনি ক্রমশ শক্তিহীন হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর দক্ষিণ ভারতের রাজনীতি কোন দিকে মােড় নেবে, তা নিয়ে নানা জল্পনা- কল্পনাও শুরু হয়ে গিয়েছিল। হায়দ্রাবাদের দক্ষিণে করমণ্ডল উপকুলকে ঘিরে এমন কোন শক্তিশালী হিন্দু রাজ্য ছিল না, যা শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম। হিন্দু রাজ্যগুলির মধ্যে মহীশর ছিল পর্বতন বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কঙ্কালমাত্র । মালাবার উপকূলে কোচিন ও ত্রিবাঙ্কুর এবং পুবদিকে ত্রিচিনাপল্লী, মাদরা ও তাঞ্জোর ছিল প্রধান হিন্দু রাষ্ট্র। এদের মধ্যে না ছিল কোন ঐক্য, না ছিল নিজের পায়ে দাঁড়ানাের মত কোন ক্ষমতা। নিজামের বার্ধক্য ও হিন্দ, রাজ্যগুলির দুর্বলতা উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও সুযােগসন্ধানী ব্যক্তির প্রলােভনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এদিকে মারাঠাদের চৌথ আদায়ের অজহাত দক্ষিণ ভারতের জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে জটিলতর করেছিল।

কণাটকের নবাব দোস্ত আলি নিজামের অধীন হলেও নিজামের বার্ধক্য ও দুর্বলতা তাঁকে উচ্চাকাঙখী করে তােলে। তিনি মাদরা ও ত্রিচিনাপল্লী,দখল করে নিজ শক্তি বদ্ধি করেন। কিন্তু মারাঠা তাঞ্জোর অধিকার করতে তিনি ব্যর্থ হন। মারাঠাদের হাতে তাঁর মত হয় ও তাঁর জামাতা চাঁদ সাহেব বন্দী হন। মারাঠারা ত্রিচিনাপল্লী দখল করে। এদিকে তাঁর পুত্র সফদর আলিও আততায়ীর হাতে প্রাণ হারান। এই পরিস্থিতিতে নিজাম হস্তক্ষেপ করেন। তিনি কণাটকের সিংহাসনে তাঁর এক বিশ্বাসভাজন ব্যক্তি আনওয়ারউদ্দীনকে বসান (১৭৪৩)। এই রকম এক অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দাক্ষিণাত্যে ইঙ্গ-ফরাসী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুত্রপাত হয়।

অষ্টাদশ শতকে ইংরেজ ও ফরাসি বণিকদের তথ্য জানার জন্য এখানে ক্লিক করো ?

 

Class 8 Model Activity Task

Compilation October New

নীচের বিষয় গুলিতে Click করে নতুন মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক গুলি লিখে নিতে পারবে

বাংলা

অংক

ইংরেজী

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

স্বাস্থ্য ও শরীর শিক্ষা

ইতিহাস

ভূগোল


Leave a Comment