কর্নাটকের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৫৭-৬৩)

কর্নাটকের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৫৭-৬৩)

কণাটকের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৫৭-৬৩): অবসানকল্পে গড়ে, ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধ বিরতির যে চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন, তা দীর্ঘস্থায়ী হয় নি। ১৭৫৬ সালে ইউরােপে সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধের খবর ভারতে আসার সাথে সাথে আবার ইংরেজ ও ফরাসীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়। বাংলাদেশ ছিল এই সংঘর্ষের প্রধান কেন্দ্র, যেখানে ফরাসী চন্দননগরের পতন বাংলার ইতিহাসে এক গুরত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে আনে। দক্ষিণ ভারতে অবশ্য প্রথম দিকে ইংরেজ এবং ফরাসীরা উভয়েই যুদ্ধের জন্য খুব একটা প্রস্তুত ছিল না। ফরাসীরা তখনও দ্বিতীয় কর্ণাটক যুদ্ধের ধাক্কা পুরােপুরি সামলে উঠতে পারে নি। অন্যদিকে ইংরেজরা বাংলাদেশে ব্যস্ত থাকায় দাক্ষিণাত্যের দিকে নজর দিতে পারে নি। যাই হোক ফরাসী কর্তৃপক্ষ ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য কাউন্ট দ্য লালিকে ভারতে পাঠালেন। ১৭৫৮ সালের এপ্রিল মাসে লালি যখন ত এলেন, তার আগেই ইংরেজরা বাংলাদেশে বকলমে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করতে সক্ষম হয়েছিল এবং বাংলাদেশে যে বিপুল ধন দৌলত ও সম্পদের অধিকারী তারা হয় তার ফলে তাদের ক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

সাফল্যের সঙ্গে ফোট সেণ্ট ডেভিড অবরােধ করলেন। প্রায় দু মাস অবরােধের পর (মে-জুন, ১৭৫৮) ফোট সেণ্ট ডেভিডের পতন হয়। এরপর তিনি মাদ্রাজ দখল করে ইংরেজদের বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করলেন। কিন্তু এই বার নিজেদের মধ্যে বিরােধের ফলে ফরাসীরা প্রচণ্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফরাসী নৌ-অধিনায়ক দাখ (৫ Ache ) লালির সঙ্গে সহযােগিতা করতে অস্বীকার করেন। কিন্তু নৌ-বাহিনীর সহায়তা ছাড়া মাদ্রাজ দখল অসম্ভব হওয়ায় লালির পক্ষে ঋতু পরিবতনের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া অন্য কোন পথ খােলা ছিল না। ফলে তিনি সময় কাটাবার জন্য তাঞ্জোর আক্রমণ করলেন। তাঞ্জোরের রাজার কাছ থেকে পরানাে দেনা বাবদ ফরাসীদের ৭০ লক্ষ টাকা পাওনা ছিল। সেই বকেয়া টাকা আদায় করে ফরাসীদের অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটানাের উদ্দেশ্যে তিনি এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। কিন্তু ইতিমধ্যে ইংরেজদের হাতে ফরাসী নৌবহরের পরাজয় ঘটায়, তিনি তাঞ্জোর অবরােধ তুলে নিতে বাধ্য হন। এর ফলে লালির ব্যক্তিগত মর্যাদা ও খ্যাতি যেমন ক্ষুন্ন হয়, তেমনি ফরাসী সেনাবাহিনীর সম্মানও ধলিলণ্ঠিত হয়। এদিকে মাদ্রাজ দখল করতেও লালি সম্পর্ণেরপে ব্যর্থ হন। তাঁর এই ব্যর্থতার ফলে ফরাসীদের অবস্থা আরও সঙ্গীন হয়ে ওঠে।

কর্নাটকের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৫৭-৬৩):

এদিকে লালি আর একটি মারাত্মক ভুল করেন। তিনি বাসীকে হায়দ্রাবাদ থেকে সরিয়ে নেন। ফলে হায়দ্রাবাদে ফরাসীরা যে প্রধান্য আগাগােড়া বজায় রাখতে পেরেছিল, তা নষ্ট হবার আশঙ্কা দেখা দেয়। ক্লাইভ এই সুযােগের পুরােপুরি। সদ্ব্যবহার করেন। তিনি কর্ণেল ফোডকে ফরাসীদের বিরুদ্ধে উত্তর সরকারে পাঠালেন। ফোডের হাতে ফরাসী বাহিনীর পরাজয় ঘটলাে। এর ফলে ইংরেজরা রাজমাহেন্দ্রী ও মাসলিপত্তম দখল করে এবং হায়দ্রাবাদের নিজাম সলাবৎ জঙ্গ তাদের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। কণটিকেও ফরাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে সুবিধা করতে পারলাে না। ইংরেজ নৌ-সেনানায়ক পােককের হাতে ফরাসী নৌ-বহর তৃতীয়বার পরাজিত হয় ও দাখ (d Ache) ভারত ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। ইংরেজ নৌ-বহরের অধিসংবাদিত শ্রেষ্ঠত্ব এর ফলে পুনরায় প্রমাণিত হলাে। এর পরে লালি বন্দিবাসের যুদ্ধে (১৭৬০) ইংরেজ সেনাপতি স্যার আমার কুটের হাতে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। ক্রমে জিঞ্জি ও পণ্ডিচেরী ছাড়া ফরাসীরা তাদের সমস্ত ছােটখাটো স্থান হারায়। ইংরেজরা যখন পণ্ডিচেরী অবরােধ করে, তখন ফরাসীদের নাভিশ্বাস ওঠে। নিরুপায় হয়ে লালি মহীশরের হায়দর আলির সঙ্গে হাত মেলান। কিন্তু তাতেও কিছু হয় না। শেষ পর্যন্ত পণ্ডিচেরী, মাহে ও জিঞ্জিও ফরাসীদের হস্তচ্যুত হয়। ইতিমধ্যে ১৭৬৩ সালে প্যারিসের চুক্তিতে সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধের অবসান হওয়ায় ফরাসীরা তাদের হৃত স্থানগুলি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে তারা এই সমস্ত স্থান কেবলমাত্র ব্যবসা বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহার করবে এবং দগণ নিমণি করতে পারবে না, বা কোন সেনাবাহিনী মােতায়েন করতে পারবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হয়।

ডুপ্লের ব্যর্থতার কারণ ও ডুপ্লের মূল্যায়ন সম্পর্কে জানার জন্য এখানে ক্লিক করো:

 

Class 4 Model Activity Task

Compilation October New

নীচের বিষয় গুলিতে Click করে নতুন মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক গুলি লিখে নিতে পারবে

বাংলা

অংক

ইংরেজী

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

স্বাস্থ্য ও শরীর শিক্ষা

Leave a Comment