দক্ষিণাত্যে ইং-ফরাসি প্রতিদ্বন্দ্বিতা এর ভূমিকা এবং কর্নাটকের প্রথম যুদ্ধ (১৭৪৪-৪৮):

দক্ষিণাত্যে ইং-ফরাসি প্রতিদ্বন্দ্বিতা এর ভূমিকা এবং কর্নাটকের প্রথম যুদ্ধ (১৭৪৪-৪৮):

দক্ষিণাত্যে ইং-ফরাসি প্রতিদ্বন্দ্বিতা এর ভূমিকা:  অষ্টাদশ শতকের গােড়ায় মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের ফলে যখন ভারতের রাজনৈতিক অনৈক্য এক ঘােরতর অনিশ্চিত পবিবেশের সৃষ্টি নয়। কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতে ইংরেজ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ও ফরাসী ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এই সংঘর্ষের এলাকা ছিল দাক্ষিণাত্যের কর্ণাটক অঞ্চল। কর্ণাটকের নবাব এই সংঘর্ষে হস্তক্ষেপ করার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি জটিলাকার ধারণ করে, যার প্রভাব, শুধ, দাক্ষিণাত্যে নয়, পরবর্তীকালে সমগ্র ভারত জুড়ে অনুভূত হয় এবং ভারতের রাজনৈতিক ভাগ্য ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণে যার ভূমিকা ছিল অনেকখানি। সুতরাং অষ্টাদশ শতকের মধ্যভাগে দাক্ষিণাত্যে ইঙ্গ ফরাসী প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুরত্ব অপরিসীম

দক্ষিণাত্যে ইং-ফরাসি প্রতিদ্বন্দ্বিতা এর ভূমিকা এবং কর্নাটকের প্রথম যুদ্ধ (১৭৪৪-৪৮):

কর্নাটকের প্রথম যুদ্ধ (১৭৪৪-৪৮): ভারতে অস্ট্রিয়ার উত্তরাধিকার যুদ্ধের খবর এসে পৌছায় ১৭৪২ সালের শেষ দিকে। ঐ বছরই গােড়ার দিকে ডপ্লে পণ্ডিচেরীর গভর্ণর নিযুক্ত হন। আগেই বলেছি ফরাসীরা ভারতে শান্তি রক্ষার পক্ষপাতী হলেও ইংরেজরা তাদের আবেদনে সাড়া দেয় নি। বার্নেটের  নৌবহর কিছ, ফরাসী যুদ্ধ জাহাজ অধিকার করার সঙ্গে সঙ্গে ইঙ্গ-ফরাসী দ্বন্দ্বের সুত্রপাত হয়। ডুপ্লে মরিসাসের ফরাসী গভর্ণর লাবদনের কাছে সাহায্যের আবেদন পাঠাতে বাধ্য হন। লা-বদনের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ইংরেজরা ভয়ে মাদ্রাজ ছেড়ে পালায় এবং মাদ্রাজ সহজেই ফরাসীদের হস্তগত হয়। কিন্তু এই বিজয়ের মুহর্তে ডুপ্লে ও লা-বদনের মধ্যে মত বিরােধের ফলে ফরাসীদের ঐক্য বিপন্ন হয়। লবদনের মতলব ছিল কিছু, অর্থের বিনিময়ে মাদ্রাজ ইংরেজদের ফিরিয়ে দেয়া। কিন্তু দুরদশী ডপ্লে দেশের স্বার্থকে ব্যক্তি স্বার্থের উপরে স্থান দিয়ে চেয়েছিলেন ইংরেজদের ব্যর্থতার দরুন যে সুবর্ণ সুযােগ পাওয়া গিয়েছিল, তার পর্ণ সদ্ব্যবহার করে ভারতে ফরাসীদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে। যাই হােক দই ফরাসী নেতার মত বিরােধের নিষ্পত্তি হবার আগেই এক প্রবল ঝড়ে লা-বদনের নৌ-বহর মাদ্রাজ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। সেই সুযােগে ডপ্লে মাদ্রাজ দখল করে লণ্ঠন করেন। ডুপ্লের মাদ্রাজ দখল প্রমাণ করলাে যে, ইংরেজরা ফরাসীদের মত তৎপরতা ও দক্ষতা দেখাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছিল। অন্যদিকে প্রাপ্ত সুযােগের সদ্ব্যবহার করলেও, ফরাসীদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া কতদরে সম্ভব, সে বিষয়ে সন্দেহ দেখা গেল। কণটিকে যখন দুই বিদেশী বণিকপক্ষ নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত, তখন কর্ণাটকের নবাব আনওয়ারউদ্দীন প্রথমে উভয় পক্ষকেই যুদ্ধ থেকে বিরত থাকার জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন। বস্তুত ইংরেজরা যখন ফরাসীদের আক্রমণ করে, তখনই ডুপ্লে ইংরেজদের বিরুদ্ধে আনওয়ারউদ্দীনের কাছে নালিশ করেছিলেন। নবাব ইংরেজদের শান্ত হবার অনুরােধ জানালেও ইংরেজরা তাঁর কথায় কর্ণপাত করে নি। আবার ফরাসীরা যখন মাদ্রাজ অবরােধ করে তখনও তিনি ফরাসীদের নিবত্ত করতে চেষ্টা করেছিলেন। ফরাসীরাও তাঁর কথা গ্রাহ্য করে নি। তবে যতদিন জলযুদ্ধ চলছিল ততদিন নবাবের পক্ষে কিছু করাও সম্ভব ছিল না। যাই হােক যখন তিনি দেখলেন যে ফরাসীরা তাঁর নির্দেশ অমান্য করছে এবং অবস্থা পুরােপুরি তাঁর আয়ত্তের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখন তিনি ফরাসীদের শিক্ষা দেবার জন্য এক সেনাবাহিনী পাঠালেন। কিন্তু নবাবের বিপলে সেনাবাহিনী ফরাসীদের মুষ্টিমেয় সৈনিকের সঙ্গে এটে উঠতে পারলাে না। নবাবের সেনাবাহিনী সেন্ট হােমে পালিয়ে যেতে বাধ্য হলাে ও যুদ্ধে পরােপুরি পরাজিত হলাে। মুষ্টিমেয় ফরাসী সৈন্যের হাতে নবাবের এই পরাজয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। এই যুদ্ধ প্রমাণ করলো ইউরােপীয় রণনৈপণ্য ও ভারতীয়দের দুর্বলতা। শুধু তাই নয়, এই যুদ্ধই ডপ্লেকে উচ্চাকাঙখী করে তােলে। পর পর সাফল্য ডুপ্লের মনােবল বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু লাবদনের সঙ্গে তাঁর বিবাদ ফরাসীদের যথেষ্ট ক্ষতি করে। এদিকে ইংরেজরাও কিছুটা তৎপর হয়ে পড়ে। মাদ্রাজ দখলের পর উপ্লে চেয়েছিলেন ফোর্ট সেন্ট ডেভিড অধিকার করে ইংরেজদের বিষদাঁত পুরােপুরি ভেঙ্গে দিতে। কিন্তু তাঁর এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তাছাড়া মাদ্রাজ পুনরধিকার করার জন্য রিয়ার-এ্যাডমিরাল বসকাওয়ানের অধীনে এক বিশাল নৌবহর ইংল্যান্ড থেকে ভারতে পাঠানাে হলাে। মাদ্রাজের বদলা হিসাবে ইংরেজরা পন্ডিচেরী অবরোধ করলো। কিন্তু পণ্ডিচেরী দখল করতে ইংরেজরা পুরােপুরি ব্যর্থ হয়। এই অবস্থায় খবর এলাে এই-লা স্যাপেলের চুক্তিতে অষ্ট্রিয়ার উত্তরাধিকার যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটেছে (১৭৪৮)। ইউরােপে যুদ্ধের অবসানের সঙ্গে সঙ্গে ভারতের ইঙ্গ-ফরাসী প্রতিদ্বন্দ্বিতার অবসান ঘটানাে। এই চুক্তির শর্ত অনুসারে ইংরেজরা মাদ্রাজ ফিরে পেল। ডপ্লের প্রচেষ্টা আপাতত ব্যর্থ হলাে, যদিও তার জন্য তিনি বিন্দুমাত্র দায়ী ছিলেন না। ফরাসী সরকার ভারতের চেয়ে আমেরিকায় ফরাসী ঔপনিবেশিক স্বার্থ আরও বেশী গুরত্বপর্ণ বলে মনে করলেন।

কণটিক যুদ্ধের ফল : প্রথম কর্ণাটকের যুদ্ধের ফলে করমণ্ডল উপকূলে অবস্থার কোন পরিবর্তন ঘটেনি অর্থাৎ ইংরেজ ও ফরাসী উভয়ের অবস্থা যুদ্ধের আগে যা ছিল, যুদ্ধের পরেও তাই থেকে গেল। সুতরাং আপাতদৃষ্টিতে এই যুদ্ধকে নিফল বলে মনে করা যেতে পারে। কিন্তু একটু তলিয়ে দেখলে এর অপরিসীম গরত্ব আমাদের চোখে পড়তে বাধ্য প্রথমত এই যুদ্ধে ভারতে সামাজ্য বিস্তারে নৌশক্তির গুরত্ব কতখানি, তা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিল। অথাৎ কণটিকের যুদ্ধ বুঝিয়ে দিল নৌ-শক্তিকে যারা বুদ্ধি খাটিয়ে ঠিকমত ব্যবহার করতে পারবে, ভবিষ্যতে তারাই হবে ভারতের অধীবর।

লা-বদনের নৌ-বহর ভারত ত্যাগ করার পরেই ডপ্লের ভাগ্যচক্র ঘুরতে থাকে এবং তিনি ফোর্ট সেন্ট ডেভিড অধিকার করতে ব্যর্থ হন। ইউরােপে যুদ্ধ বিরতি না হলে কণটিকে ইঙ্গ-ফরাসী প্রতিদ্বন্দ্বিতা কি ভাবে শেষ হতাে, তা বলা মুস্কিল। কিন্তু এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই যে, বিজয়লক্ষী ধরা দিতাে তাদেরই, যাদের নৌ-বহর ছিল অধিকতর শক্তিশালী। দ্বিতীয়তঃ মুষ্টিমেয় ফরাসী সৈন্যের হাতে আনওয়ারউদ্দীনের পরাজয় প্রমাণ করলাে যে, ইউরােপীয় রণকৌশল ও দক্ষতার সঙ্গে পাল্লা দেয়া ভারতীয়দের পক্ষে অসম্ভব। এই যুদ্ধের ফলে ডপ্লে ও ফরাসীদের মর্যাদা ও সম্মান অনেক বেড়ে যায়। পরিশেষে এই যুদ্ধে অষ্টাদশ শতকের ভারতের রাজনৈতিক দৈন্য ও অন্তঃসারশূন্যতা সবসমক্ষে উদঘাটিত করে দেয়। ভারতীয় শাসকবর্গের দুর্বলতা ও রাজনৈতিক অবক্ষয়ের সুযােগ নিয়ে ভারতে উপনিবেশ স্থাপনের সম্ভাবনা এর ফলে উজ্জ্বল হয়ে উঠে। জন্ম হয় ডপ্লের উচ্চাকাংখা।

কর্নাটকের রাজনৈতিক এর পরিস্থিতি কথা জানার জন্য তোমরা এখানে ক্লিক করো

 

Class 8 Model Activity Task

Compilation October New

নীচের বিষয় গুলিতে Click করে নতুন মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক গুলি লিখে নিতে পারবে

বাংলা

অংক

ইংরেজী

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

স্বাস্থ্য ও শরীর শিক্ষা

ইতিহাস

ভূগোল


Leave a Comment