বালাজী বাজীরাও-এর চরিত্র ও কৃতিত্ব

বালাজী বাজীরাও-এর চরিত্র ও কৃতিত্ব

বালাজী বাজীরাও-এর চরিত্র ও কৃতিত্ব: বালাজী বাজীরাও এক  তাঁর পিতা বা পিতামহের চেয়ে অনেক ভাগ্যবান ছিলেন, কারণ তিনি যখন পেশা পদে অভিষিক্ত হন, তখনই মারাঠারা ভারতের শ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত হ’য়ে ছিল । আবার শাহর মৃত্যুর পর সমস্ত ক্ষমতা নিজ হাতে কেন্দ্রীভূত করে এবং সাতারার পরিবর্তে পনাকেই মারাঠাদের সমস্ত রাজনৈতিক কার্যকলাপের কেন্দ্রে পরিণত করে তিনি প্রায় প্রৈতন্ত্রী ক্ষমতার অধিকারী হন। বালাজী বিশ্বনাথ বা বাজীরাওকে যেমন ছত্রপতির ইচ্ছা অনিচ্ছা মেনে চলতে হতো, তাঁর সেই দায় ছিল না। কিন্তু এই অনুকুল পরিস্থিতির সযােগ গ্রহণ করে মারাঠা শক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে তিনি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন। বরং এই অনুকুল পরিস্থিতি তাঁর শক্তির উৎস না হয়ে তাঁর ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যতদিন পর্যন্ত শাহ, জীবিত ছিলেন, ততদিন পেশবা বিবাদমান মারাঠা নেতাদের এক ঐক্য সত্রে বেধে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু ছত্রপতির মত্যুর পর থেকেই তিনি একটার পর একটা রাজনৈতিক জটিলতায় জড়িয়ে পড়েন এবং তাঁর চারিত্রিক দুর্বলতা ও অক্ষমতা সর্বসমক্ষে উন্মােচিত হয়ে যায়। উত্তর ভারতে সিন্ধিয়া ও হােলকারের বিরোদ্ধে কোন নিষ্পত্তি তিনি করতে পারেন নি।

বালাজী বাজীরাও-এর চরিত্র ও কৃতিত্ব

উত্তর ভারতে তাঁরা স্বাধীনভাবে নিজ নিজ নীতি অনুসরণ করতে থাকেন। রাজপুতরা মারাঠাদের প্রতি ক্ষধ হয়। কিন্তু পেশবার কিছু করার ছিল না। উত্তর ভারতে মারাঠারা যে রাজক পরিস্হিতির সটি করে, তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা পেশবার ছিল না। এই পরিস্থিতি পেশবার ব্যক্তিত্ব ও দঢ়তার সাক্ষ্য বহন করে না। অন্যদিকে উত্তর ভারতের ঘটনাবলী ও আবদালীর সঙ্গে মারাঠাদের সংঘর্ষ তাঁর রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা ও অবিবেচনার পরিচায়ক। ঐতিহাসিক সরদেশাই-এর মতে পেশবার উচিত ছিল (১৭৫৬-৫৭) সালে বাংলায় ও কণটিকে ইংরেজ প্রাধান্য যাতে প্রতিষ্ঠিত না হয়, তার জন্য সক্রিয় হওয়া। ইংরেজরা যাতে অতিরিক্ত শক্তিশালী না হয়ে উঠতে পারে তার দিকে নজর না দিয়ে তিনি অনাবশ্যক উত্তর ভারতের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। এই সঙ্গে তিনি আর একটি মারাত্মক ভুল করেন। তিনি ইংরেজদের সাহায্য নিয়ে মারাঠা নৌ-বাহিনীর প্রধান তুলাজী আঙ্গরিয়ার ক্ষমতা ধ্বংস করেন। এর ফলে ইংরেজরাই লাভবান হয়।

বালাজী বাজীরাও-এর এই সব ব্যথতা সত্বেও কিন্তু মারাঠা সাম্রাজ্যের প্রসারে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ঐতিহাসিক সরদেশাই-এর ভাষায়—“With all the short-comings and mistakes of his rule Balaji Baji Rao will certainly be remembered as one of four great peshwas who extended Maratha rule practically throughout India.” এ কথা ঠিক যে তিনি তাঁর পিতার মত দক্ষ ও বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ ও সেনানায়ক ছিলেন না। কিন্তু অন্যান্য মারাঠা নেতার প্রতিভার পর্ণ সদ্ব্যবহার কি ভাবে করতে হয় তা তিনি জানতেন। মনে রাখতে  হবে তাঁর সময়েই মারাঠা শক্তি চরম বিস্তার লাভ করেছিল। মারাঠা সাম্রাজ্যের মধ্যে একটি সুবিন্যস্ত ও সুঠাম শাসন ব্যবস্থা চাল করার কৃতিত্ব বালাজী বাজাঁরাও-এর প্রাপ্য। তবে মারাঠাদের লণ্ঠনবত্তি তাদের ভাবমূর্তিকে যথেষ্ট মলিন করেছিল। বালাজী বিশ্বনাথ বা বাজীরাও-এর পাশে বালাজী বাজীরাও অনেকাংশে নিভ হলেও তার কৃতিত্বকে ছোট করে দেখা অনুচিত।

পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে মারাঠাদের ব্যর্থতার কারণ সম্পর্কে জানার জন্য এখানে ক্লিক করো:

Leave a Comment