মশিদকুলি খাঁ ও ব্রিটিশ ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী:

মশিদকুলি খাঁ ও ব্রিটিশ ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী:

মশিদকুলি খাঁ ও ব্রিটিশ ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী: আমলের একটি প্রধান ঘটনা হলাে মুঘল সম্রাট ফারুকশিয়ার কর্তৃক ব্রিটিশ ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীকে মাত্র ৩,০০০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিনা শুল্কে বাণিজ্য করার অধিকার প্রদান। এই অধিকার বিধিবদ্ধ ও আইনসঙ্গত রপে পায় ১৭১৭ সালে প্রদত্ত এক ফরমানের মাধ্যমে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই ঘটনার গুরুত্ব অপরিসীম। এর ফলে যে কেবল ইংরেজদের ব্যবসা-বাণিজ্যের দ্রুত প্রসার ঘটেছিল, তাই নয়। এই ঘটনার সঙ্গে বাংলার ভবিষ্যৎ ভাগ্যও অনেকাংশে জড়িত হয়ে পড়ে। সুতরাং বাংলার ইতিহাসে ১৭১৭ সাল এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেছিল বললে বােধহয় কোন অতিশয়ােক্তি হবে না।

বাংলার সঙ্গে ইংরেজদের নিয়মিত যোগাযােগ শুরু হয় ১৬৩০ এর দশকে। ইউরােপের অন্যান্য বণিক সম্প্রদায়ের মত তারাও বাণিজ্য করার জন্য বাংলায় কুঠি তৈরী করার অনুমতি প্রার্থনা করে। ব্যবসা-বাণিজ্যে নানারকম সযােগ সবিধা আদায়ের জন্য ইংরেজরা সব সময়েই তৎপর ছিল। ১৬৫১ ও ১৬৫৮ সালে তারা প্রথম বাংলায় কুঠি নির্মাণ করে। ১৬৫১ ও ১৬৫৬ সালে তারা বাৎসরিক ৩০০০ টাকার শকে প্রদান করবে বলে স্থির হয়। এর পর থেকেই তাদের ব্যবসা বাণিজ্যের দুত উন্নতি ঘটে। কিন্তু ১৬৮৬ সালে তাদের সঙ্গে মুঘল সম্রাটের বিরােধ বাঁধে। এই সংঘর্ষে ইংরেজরা শােচনীয়ভাবে পরাজিত হয় এব বাংলার সমস্ত কুঠি ও বাণিজ্যকোন থেকে তারা বিতাড়িত হয়। যাই হোক ১৬৯১ সালে তারা ৩০০০ টাকার বিনিময়ে সমস্ত শস্ক প্রদান থেকে অব্যাহতি লাভ করে। ১৬৯৮ সালে তারা কলকাতা, সতনটি ও গােবিন্দপুর এই তিনটি গ্রামের জমিদারী স্বত্ব অর্জন করে। অষ্টাদশ শতকের গোড়ায় ইংরেজরা যথেষ্ট সুযােগ সুবিধার অধিকারী হলেও, তারা তা পর্যাপ্ত বলে মনে করতাে না। তাছাড়া অনেক সময় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই সব সুযােগ সুবিধা অগ্রাহ্য করতাে। ফলে ইংরেজরা স্বয়ং মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে কিছু সুযোেগ সুবিধা আদায় করার কথা চিন্তা করতে থাকে। এই উদ্দেশ্যে ১৭১৩ সালে সরমানের নেতৃত্বে একটি দলকে মুঘল সম্রাট ফারকেশিয়ারের কাছে তদ্বির করার জন্য পাঠানাে হয়। এই ঘটনাই সরমান দৌত্য নামে পরিচিত। সৌভাগ্যবশতঃ এই সময় এই দলের উইলিয়াম হ্যামিলটন নামে জনৈক ডাক্তার সম্রাটের এক দুরারােগ্য ব্যধির উপশম করতে সক্ষম হন। ফলে এক অনুকুল পরিস্থিতির উদ্ভব হয় এবং এই পরিস্থিতির ফলশ্রতি হলাে ১৭১৭ সালের ফরমান।

১৭১৭ সালের ফরমানে ইংরেজরা কয়েকটি উল্লেখযােগ্য সুযােগ সুবিধা আদায় করতে সক্ষম হয়। প্রথমতঃ তার মাত্র ৩,০০০ টাকার বিনিময়ে বাংলায় বিনাশকে বাণিজ্য করার অধিকার লাভ করে। দ্বিতীয়তঃ কলকাতায় তাদের বিশেষ অবস্থা মেনে নেয়া হয় এবং কলকাতার সন্নিকটে ৩৮টি গ্রাম বাৎসরিক ৮,১২০ টাকা ৮ আনার বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এই গ্রামগুলি অবশ্য ইংরেজদের কিনে নিতে হয়। তৃতীয়ত স্থির হয় যে মাদ্রাজী মুদ্রা বাংলাদেশে কোন প্রকার বাট্রা ছাড়াই গ্রাহ্য হবে। চতুর্থতঃ কোম্পানীর জিনিসপত্র চুরি হলে, তা উদ্ধার করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পঞ্চমতঃ জাহাজ বা নৌকাডুবি হলে সর্বপ্রকার সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। ষষ্ঠতঃ কোম্পানীর কাছে ঋণী কোন ব্যক্তি পালাবার চেষ্টা করলে তাকে কুঠির প্রধানের হাতে তুলে দেয়া হবে। এই সঙ্গে সঙ্গে হাস-অল-হকুম মারফৎ কোম্পানী আরও কয়েকটি সুযােগ সুবিধা লাভ করে। যেমন কঠির প্রধান একটি দস্তক বা অনুমতিপত্র প্রদান করবেন, যেটা দেখালে নবাবের কোন কর্মচারী জাহাজ পরীক্ষা করে দেখবেন না এবং কোম্পানী মুর্শিদাবাদের টাঁকশাল ব্যবহার করতে পারবে।

ডঃ সকমার ভট্টাচার্য ফারুকশিয়ারের ফরমানকে বাংলাদেশে ব্রিটিশ বাণিজ্যের ‘ম্যাগনা কাটা (Magna Carta) বলে উল্লেখ করেছেন। সি. আর. উইলসনের মতে এই ফরমান ছিল ইংরেজদের কূটনৈতিক জয়ের প্রতীক। ফারুকেশিয়ারের ফরমান পাবার সঙ্গে সঙ্গে কলকতায় ইংরেজদের মধ্যে সাড়া পড়ে যায়। এর ফলে কোম্পানী যে সব সুযােগ সুবিধা আগে থেকে ভােগ করছিল, সেগুলি যেমন নতুন করে স্বীকৃতি বা অনুমােদন লাভ করে তেমনি সঙ্গে সঙ্গে আরও নতুন কিছু সুযোেগ সুবিধাও পাওয়া যায়। ১৭১৭ সালের ফরমানের গুরত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে পি. জে. মাশলি বলেছেন was never -“The prestige of a Mughal farman was enormous and the grant of 1717 represented a remarkable British triumph-… The principle that the major part of British trade was exempt from customs to be challenged. (P. J. Marshall : “East Indian fortunes বস্তুতঃ ১৭১৭ সালের মুঘল সম্রাট হীনবল ও অপদার্থ হলেও তাঁর প্রদত্ত ফরমানের গুরত্ব অস্বীকার করা যায় না। নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ প্রায় স্বাধীনভাবে রাজত্ব করলেও, বাহ্যতঃ ও আইনত তিনি মুঘল সম্রাটের অধীন ছিলেন এবং তাঁর পক্ষে এই ফরমান পুরােপুরি অগ্রাহ্য করা সম্ভব ছিল না। সুতরাং কোম্পানীর কর্মচারীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক ছিল না। এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই যে, এর ফলে কোম্পানীর ক্ষমতা ও শক্তি যথেষ্ট বুদ্ধি পায় ও দেশীয় ও ইউরোপীয় বণিকদের কাছে তারা মর্যাদা ও সম্প্রম আদায় করতে সক্ষম হয়। তাদের ব্যবসা হ হ করে বাড়তে থাকে।

তবে এই ফরমান আদায় করতে ইংরেজদের যেমন অনেক মেহনত করতে হয়, তেমনি বাংলার নবাবদের কাছ থেকে এই সব সুযােগ সুবিধা ভােগ করতেও তাদের যথেষ্ট অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। বাংলার নবাবরা যে বিদেশী বণিকদের ব্যবসার প্রসারে আপত্তি করতেন, তা কিন্তু নয়। বরং তাঁরা বিদেশী বণিকদের কার্যকলাপে যথেষ্ট উৎসাহ দিতেন, কারণ তাঁরা জানতেন যে, ইউরােপীয় বণিকদের বাণিজ্যের প্রসারের উপর বাংলার অর্থনৈতিক শ্রীবদ্ধি অনেকাংশে নির্ভরশীল। কিন্তু তাঁরা এটা চান নি যে, কেবলমাত্র একটি বৈদেশিক সংস্থা বিশেষ সুযােগ সুবিধা ভােগ করকে। পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণের তাঁরা বিরোধী ছিলেন। ফারকশিয়ারের ফরমানে ইংরেজরা যে বাড়তি সুযােগ পাচ্ছে এবং এর ফলে তারা যে আর সবাইকে ছাড়িয়ে যেতে পারে, এটা বাংলায় নবাবদের মােটেই মনঃপুত ছিল না। কিন্তু সরাসরি এই ফরমান অগ্রাহ্য করাও তাঁদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। সুতরাং প্রত্যক্ষভাবে এর বিরােধিতা না করলেও সমস্ত সুযোগ সুবিধা ইংরেজরা যাতে ভােগ করতে না পারে, সেদিকে তাঁরা নজর দিলেন। ফলে ১৭১৭ সালের ফরমান থেকে ইংরেজরা পরে লাভবান হলেন না। মুর্শিদকুলি খাঁ পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিলেন যে, বিনাশকে বাণিজ্যের অধিকার কেবলমাত্র সেইসব দ্রব্য সামগ্রীর ক্ষেত্রে প্রযােজ্য হবে, যেগুলি সরাসরি ভারত থেকে সমুদ্রপথে আমদানী বা রপ্তানী করা হবে। দেশের আভ্যন্তরীণ ব্যবসার ক্ষেত্রে এই সুযােগ পাওয়া যাবে না। কলকাতার সন্নিকটে ৩৮টি গ্রাম কেনার ব্যাপারেও মুর্শিদকুলি বাধা দেন। তিনি স্থানীয় জমিদারদের ঐ গ্রামগুলি বিক্রী করতে নিষেধ করেন। একই ভাবে ইংরেজরা যাতে মশিদাবাদের টাঁকশাল ব্যবহার করতে না পারে মুর্শিদকুলি খাঁ সে ব্যবস্থাও করেন। আসলে বাংলাদেশে ইংরেজরা যাতে অধিকতর শক্তিশালী না হয়ে উঠতে পারে, সেজন্যই তিনি এই সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। অবশ্য যে সমস্ত শর্ত মানলে তাঁর কোন ক্ষতি হতাে না সেগুলি তিনি মেনে নেন। সুকুমার ভট্টাচার্যের মতে ১৭১৭ সালের প্রদত্ত ফরমানের কয়েকটি ধারা ইংরেজদের এমন কিছু সুযােগ সুবিধা দান করে, যা বাংলার মুঘল শাসকদের সার্বভৌম ক্ষমতার উপর হস্তক্ষেপের সামিল ছিল। আবদুল করিম অবশ্য সকুমার ভট্টাচার্যের এই অভিমত গ্রহণযােগ্য বলে মনে করেন না।

মশিদকুলি খাঁ ও ব্রিটিশ ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী:

মুর্শিদকুলি খাঁর ইংরেজরা ১৭১৭ সালে ফরমানের সবকটি সযােগ ভােগ করতে না পারলেও তাদের ব্যবসা বাণিজ্য হ, হ, করে বেড়ে যেতে থাকে। এর ফলে তাদের বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করার এক সুবর্ণ সুযোেগ উপস্থিত হয়। বাণিজ্যিক ও ঔপনিবেশিক প্রতিযােগিতায় অন্যান্য ইউরােপীয় বণিক সংস্থা তাদের থেকে অনেক পিছিয়ে পড়তে থাকে। ডঃ সুকুমার ভট্টাচার্যের মতে । ৪০ বছর পরে ক্লাইভ এই ফরমানের শতকে অজুহাত করেই সিরাজের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে অবতীর্ণ হন। মুর্শিদকুলি খাঁর সময়ে ইংরেজদের ব্যবসা কি ভাবে দ্রুত বেড়ে উঠেছিল পরিসংখ্যান তার প্রমাণ দেয়। ১৭১৭ সালে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর বিনিয়ােগের মােট পরিমাণ ছিল ২৭৮৫৯৩ পাউণ্ড। ১৭২১ সালে এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬৩,৯৭৯ পাউণ্ডে।

মুর্শিদকুলি খাঁ যেমন ইংরেজদের ১৭১৭ সালের ফরমানের পর্ণ সুযোগ গ্রহণ করতে দিতেন না, ইংরেজরাও তেমনি প্রাপ্ত সুযােগের অপব্যবহার করে নবাবকে নানা ভাবে ফাঁকি দিতে চেষ্টা করতাে। তারা ব্যাপকভাবে দস্তকের অপব্যবহার করতে শরে করে এবং কোম্পানীর কর্মচারীদের ব্যক্তিগত বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও শক্ত প্রদান থেকে বিরত থাকে। অনেক সময় তারা দেশীয় বণিকদের কাছে দস্তক বিক্রী করতো। এই ধরণের অপব্যবহারের ফলে সরকারের প্রচুর ক্ষতি হতাে। নবাব নীতিগতভাবে বাংলায় ইউরােপীয় বণিকদের ব্যবসা বাণিজ্যে উৎসাহ দিলেও এই ধরণের অন্যায় ও অপব্যবহার সহ্য করতে প্রস্তুত ছিলেন না। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে মুর্শিদকুলি খাঁর সঙ্গে ইংরেজদের মাঝে মাঝে বিরােধ বাঁধতাে। ১৭২৬ সালের মে মাসে হগলী ও মুর্শিদাবাদের ফৌজদার দস্তকের অপব্যবহার সম্পকে অভিযােগ জানিয়ে কলকাতা কাউন্সিলকে চিঠি পাঠান। কলকাতা কাউন্সিল এই অপব্যবহার বন্ধ করার জন্য কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। দস্তকের অপব্যবহার সম্পকে অভিযােগ ভিত্তিহীন ছিল না বলে মনে হয়। কোম্পানী চালের ব্যবসা না করলেও একবার তারা কলকাতায় চাল আনার জন্য দেশীয় বণিকদের দস্তক অপব্যবহার করতে দিয়েছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। অন্যদিকে দেশীয় বণিকরা যাতে দস্তকের অপব্যবহার করতে না পারে, সে দিকে কোম্পানী নজর দিলেও, কোম্পানীর কর্মচারীদের ব্যক্তিগত বাণিজ্যে কখনও বাধা দিত না।

মাঝে মাঝে অর্থ আদায়ের জন্য নবাবের কর্মচারীরাও অত্যাচারী নীতি অনুসরণ করতাে। ১৭২৭ সালে কাশিমবাজার কাউন্সিল কলকাতা কর্তৃপক্ষকে জানায় যে, নবাবের জাগিরের ম্যানেজার আবদুল রহিম ইংরেজদের কাছ থেকে ৪৪,000 টাকা দাবী করেন। তাছাড়া তিনি ইংরেজদের ব্যবসার অসুবিধা সৃষ্টি করার জন্যও চেষ্টা করেন। আবদুল রহিমের যুক্তি ছিল কলকাতা বাবদ এই অর্থ সরকারের পাওনা ছিল। যাই হােক ইংরেজর। এই অর্থ দিতে অস্বীকার করে। তখন কাশিমবাজারের । ইংরেজ ভকিলকে আটক করা হয়। তার উপর অকথ্য অত্যাচারও চলে। এই অবস্থায় ইংরেজরা জানায় যে তাদের ভকিলকে মুক্তি দেয়া না হলে, তারা হগলী নদীতে কোন জাহাজ চলাচল করতে দেবে না। শেষ পর্যন্ত জগৎ শেঠের মধ্যস্থতায় এই বিরােধের নিষ্পত্তি হয়। ভকিলকে মুক্তি দেয়া হয়। ইংরেজরা নবাবকে ২০,০০০ টাকা দিয়ে উদ্ধার পায়। জগৎ শেঠ ইংরেজদের জানান যে, নবাব তাদের কর্মচারীদের বভিবত বুলা ও শুরে ব্যবহারে খুবই অসন্তুষ্ট। আবদুল করিমের মতে কলকাতা বা ১৪,০০০ হাজার টাকা দাবীর যৌক্তিকতা স্পষ্ট নয়, কেননা ইংরেজরা কলকাতার ২২ নিয়মিত তি। এই দাবীকে তিনি অন্যায় অত্যাচার ও জোরজবস্তি বলেন করেছেন।

মুর্শিদকুলি খাঁ এর রাজস্ব ভূমি সম্পর্কে জানার জন্য এখানে ক্লিক করুন:

Leave a Comment