সরফরাজ খাঁ (1737-1729) ও আলীবর্দী খাঁ (1740-56) :

সরফরাজ খাঁ (1737-1729) ও আলীবর্দী খাঁ (1740-56) :

সরফরাজ খাঁ (1737-1729) ও আলীবর্দী খাঁ (1740-56) :

সরফরাজ খাঁ বাংলার মসনদে আরােহণ করেন। মৃত্যুশয্যায় পিতার নির্দেশ অনুসারে তিনি প্রাক্তন রাজকর্মচারীদের পবেপদে প্রতিষ্ঠিত করলেন। হাজী আহম্মদ ছিলেন দেওয়ান, রায় রায়ান আমিন চদি ছিলেন খালসা দেওয়ান, মহম্মদ আলী খান ছিলেন বিহারের নবাব নাজিম। শাসক হিসাবে সরফরাজ ছিলেন অযোেগ্য ও অপদার্থ। অধিকাংশ সময় তিনি হারেমে কাটাতেন। সুতরাং শাসনকার্যে বিশখলা দেখা দিল। এই পরিস্থিতিতে রাজকর্মচারীদের ক্ষমতা দখলের লােভ এক ঘণ্য ষড়যন্ত্রের পরিবেশ সষ্টি করে। এই ষড়যন্ত্রের নায়ক ছিলেন হাজী আহমদ ও আলীবর্দী খাঁ। সালে আলীবদী গিরিয়ার যুদ্ধে সরফরাজকে পরাজিত ও নিহত করেন।

আলীবর্দী খাঁ উপকারী প্রভুর পুত্রকে হত্যা করে যে পাপ করেছিলেন, নিহত নবাবের আত্মীয় পরিজনের সঙ্গে সহৃদয় আচরণ করে তার কিছুটা প্রায়শ্চিত্ত করার চেষ্টা করেন। প্রজাদের প্রতিও সদয় ব্যবহার করে তাদের সমর্থন আদায় করতে তিনি সচেষ্ট হলেন। এরপর তিনি দিল্লীকে অর্থের দ্বারা বশীভূত করে বাদশাহী সনদ হস্তগত করলেন। মুঘল সম্রাট টাকা বুঝতেন। কিভাবে ষড়যন্ত্রের সাহায্যে আলীবদী বাংলার মসনদ দখল করলেন, তা তিনি মাথা ঘামালেন না। এই ঘটনা প্রমাণ করলাে মুঘল সম্রাটের অধঃপতন কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে গিরিয়ার যুদ্ধে ক্ষমতা দখল করে আলীবদী বুঝিয়ে দিলেন অষ্টাদশ শতকের নােংরা রাজনীতিতে কৃতজ্ঞতা বা ন্যায়সঙ্গত দাবীর কোন মূল্য নেই। রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের জন্য যে কোন ঘণ্য চক্রান্ত নীতিবহির্ভূত নয়। আসলে যােগ্যতা ও দক্ষতা থাকলে ক্ষমতা দখল কোন পাপ নয়—এই ছিল তখনকার মনােবত্তি। সবাই ছিলাে শক্তের ভক্ত। লােভেও পাপ হয় না।

সরফরাজ খাঁ (1737-1729) ও আলীবর্দী খাঁ (1740-56) : 

আলীবর্দী খাঁ (১৭৪০-৫৬) : 

আলীবর্দী খাঁ (১৭৪০-৫৬) : মশিদকুলি খরি মত আলীবদীও সামান্য অবস্থা থেকে বাংলায় সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হন। উচ্চাকাঙ্খী ও ভাগ্যান্বেষী আলীবদীর জীবন মুর্শিদকুলি খাঁর মতই কৌতুহল উদ্দীপক ও চিত্তাকর্ষক। তার পিতা মিজা মহম্মদ দিল্লীর দরবারে চাকরি করতেন। নিজের ভাগ্য ফেরাতে আলীবদী বাংলায় আসেন। সুজাউদ্দীন যখন উড়িষ্যার ডেপুটি সুবাদার ছিলেন, তখন আলীবর্দী খাঁ তার অধীনে কাজ করেন। সুজাউদ্দীন আলীবদীর দক্ষতায় খুব সন্তুষ্ট হন। সুজাউদ্দীন যখন নবাব হন, আলীবদী তাঁকে নানা ভাবে সাহায্য করেন। কৃতজ্ঞতাস্বরুপ সুজাউদ্দীন তাঁকে রাজমহলের ফৌজদার নিযুক্ত করেন।

এবং ভেদিয়া ও ভােজপুরের জমিদারকে শায়েস্তা করে বিহারের শাসন-ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তােলেন। এই ভাবে তাঁর ক্ষমতা ও প্রভাব উত্তরােত্তর বদ্ধি পেতে থাকে। এর পর কিভাবে সরফরাজের দুর্বলতা এবং একদিকে নাদির শাহের ভারত আক্রমণ ও অন্য দিকে মুঘল সম্রাটের অসহায় অবস্থার সুযোেগ সদ্ব্যবহার করে আলীবর্দী বাংলার মসনদ দখল করলেন, সে কথা আগেই বলা হয়েছে। কিন্তু মসনদ দখল করেও আলীবর্দীর সমস্যা মিটলাে না। উড়িষ্যার নায়েব নাজিম সুজাউদ্দীনের জামাতা রস্তম জঙ্গ তাঁর অধীনতা অস্বীকার করেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য রুস্তম জঙ্গ পরাজিত হয়। কিন্তু উড়িষ্যা থেকে মুর্শিদাবাদ ফেরার পথেই তিনি খবর পেলেন মারাঠারা বাংলাদেশের দিকে ক্রমশঃ এগিয়ে আসছে। এরপর ১৭৪২ থেকে ১৭৫১ পর্যন্ত বারংবার মারাঠাদের আক্রমণে তিনি ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন।

সুজাউদ্দিন এর সম্পর্কে জানার জন্য এখানে ক্লিক করুন:

Leave a Comment