চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ ও মহীশুরের পতন:

চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ ও মহীশুরের পতন:

চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ ও মহীশুরের পতন: টিপু  পরাজিত হলেও হতােদ্যম হন নি। পিতা হায়দরের মত তিনিও জানতেন যে, ইংরেজরা মহীশুরের প্রধান শত্র; এবং দুর্বলচেতা নিজামের মত তিনি কিছুতেই তাদের বশ্যতা স্বীকার করতে প্রস্তুত ছিলেন না। সুতরাং যতদিন টিপু , জীবিত ছিলেন, ইংরেজরাও ততদিন নিশ্চিন্ত হতে পারে নি। এই অবস্থায় টিপুর সঙ্গে ইংরেজদের এক চড়ান্ত সংঘর্ষ অনিবার্য ছিল। তবে ইংরেজদের কাছে টিপুর মনােভাব অজ্ঞাত না থাকলেও এবং তৃতীয় ইঙ্গ-মহীশূর  যুদ্ধের পর টিপু র পরভ্যুত্থান কর্নওয়ালিসের কাছে কাম্য না হলেও, তিনি নিজাম ও মারাঠাদের শক্তি যাতে বুদ্ধি না পায়, তার জন্য কিছুটা নিরপায় হয়েই টিপু র পুরােপুরি ধৎস চান নি। এইভাবে ইংরেজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহ ও হিংসার জন্য টিপু , তাঁর হত ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের কিছুটা সুযােগ পেয়েছিলেন। কর্ণওয়ালিসের প্রত্যাবর্তনের পর স্যার জন শোর বাংলার গভর্ণর জেনারেল পদে অভিষিক্ত হওয়ায় টিপু র আরও সুবিধ্য হয়।

১৭৮৪ সালের পিটের ভারত আইন অক্ষরে অক্ষরে পালন করার পক্ষপাতী ছিলেন। তিনি দেশীয় রাজাদের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করে শান্তি ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করেন। ফলে টিপু র সঙ্গে ইংরেজদের সম্পর্কের কিছুটা উন্নতি হয়। এই সুযােগে টিপু , যুদ্ধবিধ্বস্ত মহাশরের দুত পুনরুজ্জীবনের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করেন। তিনি তাঁর সেনাবাহিনীকে পুনর্গঠিত করেন ; দগগলির সংস্কার করেন এবং দেশের আর্থিক উন্নয়নের জন্য কৃষি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এই সঙ্গে তিনি সম্ভাব্য ইংরেজ আক্রমণের বিরুদ্ধে ফরাসীদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান। ১৭৯১ সালে। তিনি ফরাসী রাজ ষোড়শ লুই-এর কাছে দূত প্রেরণ করেন। ষােড়শ লুই তাঁকে সাহায্য করতেও প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু তখন ফ্রান্সে বিপ্লব চলার ফলে তাঁর পক্ষে কিছু করা সম্ভব ছিল না। এর পর ফ্রান্সে রাজতন্ত্রের অবসান হয় ন্যাশনাল কনভেনশন ক্ষমতায় আসে। কিন্তু ন্যাশনাল কনভেনশনও টিপুর সঙ্গে কোন চুক্তি করে নি। ওয়েলেসলি যখন ভারত অভিমখে রওনা হন, তখন নেপােলিয়ান মিশর আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন। এই সময় টিপার কার্যকলাপ ইংরেজদের সন্দিগ্ধ করে তােলে। তিনি জেকোবিন ক্লাবের সদস্যপদ গ্রহণ করেন ; নিজ রাজধানী শ্রীরঙ্গপত্তমে “Tree of Liberty” বা স্বাধীনতা বক্ষ রােপণ করেন এবং সাহায্যের আবেদনে আরব, কাবুল, কন্সট্যান্টিনােপল, ভাসাই ও মরিসাসে দত প্রেরণ করেন। মরিসাসের ফরাসী গভণর তাঁকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু মরিসাস থেকে মাত্র অল্প সংখ্যক ফরাসী স্বেচ্ছাসেনা টিপু র পক্ষে যােগ দেয়ায় তিনি অবাক হন আসলে এর মধ্যে একটা ভুল বােঝাবুঝির ব্যাপার ছিল। মরিসাসের ফরাসী গভর্ণর ম্যালারটিকের কাছে মাত্র ৭০০ জন সৈনিক ছিল, যা তাঁর নিজের নিরাপত্তার পক্ষেই যথেষ্ট ছিল না। ফলে বাধ্য হয়েই তিনি বেশী সৈনিক পাঠাতে পারেন নি ।

টিপু  যখন এইভাবে ইংরেজদের বিরুদ্ধে চড়ান্ত সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন, তখন জাত সাম্রাজ্যবাদী লড ওয়েলেসলি ভারতে আসেন। স্বয়ং ডাণ্ডস ওয়েলেসলির আক্রমণাত্মক নীতি সমর্থন করেন। ওয়েলেসলি ভারতে আসার সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে পেরেছিলেন যে, ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারের পথে টিপু ই সবচেয়ে বড় বাধা। সরাং টিপু র ধংসসাধন ছিল তাঁর প্রথম লক্ষ্য। ফরাসীদের সঙ্গে টিপু র ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাঁর আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ১৭৯৮ সালের ১২ই আগস্টে লেখা মিনিটে তিনি বলেন যে, টিপু রদতদের কার্যকলাপ এবং কিছু সংখ্যক ফরাসী সৈন্যের ভারত আগমন ছিল যুদ্ধ ঘােষণার প্রত্যক্ষ ও স্পষ্ট প্রমাণ এবং এই যুদ্ধের একমাত্র লক্ষ্য ছিল ভারতে ব্রিটিশ সরকারের সম্পূর্ণ বিনাশ । ডাণ্ডাসও মন্তব্য করেন যে, “I have no hesitation is stating that we are entitled under the circumstances of the present times to consider the admission of any French force into Tipu’s army as direct hostility to us.’

ইংল্যাণ্ড কর্তৃপক্ষের সক্রিয় সমর্থনপুষ্ট ওয়েলেসলি যুদ্ধের জন্য সামরিক ও কূটনৈতিক প্রস্তুতি শর, করেন। কূটনৈতিক প্রস্তুতির অঙ্গ হিসাবে তিনি টিপু কে একঘরে করার পরানাে নীতি অনুসরণ করেন। ১৭৯৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিজাম ওয়েলেসলির অধীনতামলক মিত্রতার ফাঁদে পা দেন। ফলে রেমণ্ড ও তাঁর ফরাসী বাহিনীকে ভেঙ্গে দেয়া হয়। পরিবতে কোম্পানীর চার ব্যাটেলিয়ান সৈন্য হায়দ্রাবাদে মােতায়েন করা হয়। তাছাড়া সেনাবাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ দেয় অর্থের পরিমাণ ৫০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লক্ষ টাকা করা হয়। এইভাবে নিজাম ইংরেজদের তাঁবেতে পরিণত হন। এর পর পেশাকে স্বপক্ষে টানার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মারাঠারা নিলিপ্ত থাকে। তা সত্ত্বেও ত্রিশক্তির প্রতি বিশ্বস্ত থাকার নিদর্শন স্বরপ ইংরেজরা মারাঠাদের এই প্রতিশ্রুতি দেয় যে, টিপু , পরাজিত হলে তারা টিপু রে রাজ্যের একটা অংশ পাবে। এইভাবে যুদ্ধ প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করার পর ওয়েলেসলি টিপুর কাছে মরিসাসের সঙ্গে যােগাযােগের ব্যাপারে কৈফিয়ৎ তলব করেন। তাঁর উত্তর সন্তোষজনক না হওয়ায় ইংরেজরা মহীশূর  রাজ্য আক্রমণ করে।

চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ ও মহীশুরের পতন:

যুদ্ধে টিপু , কারও কাছ থেকে কোন সাহায্য পান নি। ইংরেজরাও অবশ্য কারও সক্রিয় সাহায্য পায় নি। নিজাম এই যুদ্ধে কোন উল্লেখযােগ্য ভূমিকা পালন করেন নি। অন্যদিকে মারাঠারা নিরপেক্ষতা নীতি অনুসরণ করে। তবে ইংরেজদের সাংগঠনিক শক্তি ছিল খুব উন্নত এবং কারও সাহায্যের ধার তারা ধারে নি। বােঘই ও মাদ্রাজ উভয় দিক থেকেই টিপু কে আক্রমণ করা হয়। সদাশিরের যুদ্ধে তিনি ইংরেজ সেনাপতি দুয়াটের হাতে পরাজিত হন ও মলভেলীর যুদ্ধে হ্যারিস তাঁকে আবার পরাজিত করেন। এর পর শ্রীরঙ্গপত্তম আক্রান্ত হয়। টিপু , যখন শ্রীরঙ্গপত্তম রক্ষা করতে ব্যস্ত, তখন তিনি বীরের মত্যু বরণ করেন। তাঁর মত্যুর সঙ্গে সঙ্গে মহীশরের পতন হয়। এত সহজে যে টিপু র পতন হবে, তা স্বয়ং ওয়েলেসলিও ভাবতে পারেন নি। সমগ্র মহীশূর  ইংরেজদের অধীন হয়। কিন্তু তারা বন্ধুত্বের নিদর্শন স্বরুপ নিজামকে গুটি ও গুরামকোণ্ডা প্রদান করে। তাছাড়া চিতলদুগ দুগ ব্যতীত ঐ জেলার একাংশও নিজাম লাভ করেন। মারাঠাদের সণ্ডা ও হারপােনেলী অধিকার করার জন্য অনুরােধ করা হয়। মারাঠারা অবশ্য ওয়েলেসলির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ইংরেজরা পশ্চিমে কানার, দক্ষিণ পূর্ব দিকে ওয়েনদ ও পুবদিকে কোয়েম্বাটোর ও দারপােরাম লাভ করে। তাছাড়া শ্রীরঙ্গপত্তমও তাদের হস্তগত হয়। মহীশূর  রাজ্যের বাকী অংশ আগেকার হিদ রাজ বংশের একজন বালক উত্তরাধিকারীকে প্রদান করা হয়। তিনি ইংরেজদের অধীনতামূলক মৈত্রী গ্রহণ করেন। এর ফলে মহীশূর  ইংরেজদের আশ্রিত পরিণত হয়।

রাজ্যে নানার এই মহারে রাজ্য বণ্টন করেন, থনটনের কাছে তা বিলােচিত বলে মনে হয়েছিল। বস্তুতঃ মহীরের এই বন্দোবস্তের ফলে কোম্পানী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামরিক সব দিক থেকেই লাভবান হয়েছিল। সবচেয়ে বড় কথা টিপার পতনের ফলে ইংরেজরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। তাদের ফরাসী ভীতিও কেটে যায়। চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধের ফলাফল বিশ্লেষণ করে ওয়েলেসলির ভাই আর্থার ওয়েলেসলি মন্তব্য করেছেন—“our principal ally, the Nizam was restored to us, the French state growing in the Peninsula of India was destroyed, our formidable native enemy Tipu, the ally of the French, was subdued ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদের দৃষ্টিকোণে বিচার করলে তাঁর এই মন্তব্যে কোন অতিশয়ােক্তি নেই। কিন্তু টিপার পতনের ফলে ভারতের দুদিন ঘনিয়ে আসে। ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য স্থাপনের পথ আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়। দরদশী মারাঠা রাজনীতিবিদ নানা ফড়নবিশ টিপার পতনে আক্ষেপ করে মন্তব্য করেছিলেনTipu is finished ; the British power has increased ; the whole of east is already theirs ; Poona will now be the next victim. Evil days seem to be ahead. There seem 10 be no escape from destiny.”

ভবিষ্যৎ বাণী অক্ষরে অক্ষরে মিলেছিল। তবে কিছু কিছু সমালােচক টিপুর বিরুদ্ধে ইংরেজদের সাফল্যে এতই অভিভূত হয়েছিলেন যে, তাঁরা এর গুরত্ব বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মাত্রাজ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। P. Auber নামে একজন ইংরেজ ঐতিহাসিক মন্তব্য করেন যে, এর ফলে ইংরেজরা ভারতের অধীবর হয়। মিল, টমশন ও গ্যারাট্র এবং কটও এই যুদ্ধের গুরত্বকে বাড়িয়ে বলেছেন। বস্তুতঃ মহীশরের পতন হলেও ইংরেজদের তখনও মারাঠা ও শিখদের সঙ্গে চড়ান্ত শক্তিপরীক্ষা বাকী ছিল। মহীশরের পতনের ফলে ইংরেজরা ভারতে তাদের সাম্রাজ্য বিস্তারের পথে নিঃসন্দেহে অনেকটা এগিয়েছিল। কিন্তু তখনও অনেক পথ পরিক্রমা বাকী ছিল। তবে এই যুদ্ধে ইংরেজদের মর্যাদা ও সম্মান অনেকটা বেড়ে গিয়েছিল। চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ জাত সাম্রাজ্যবাদী ওয়েলেসলির নির্লজ্জ ও নগ্ন আক্রমণের এক জলন্ত নিদশন! নিরপেক্ষ বিচারে এই আক্রমণের নিন্দা করার ভাষা নেই। ফরাসীদের সঙ্গে টিপুর ঘনিষ্ঠতাকে অজুহাত করে ওয়েলেসলি তাঁর রাজ্য আক্রমণ করেন।

টিপু  কিন্তু সরাসরি ফরাসীদের সঙ্গে কোন রক্ষণাত্মক বা আক্রমণাত্মক চুক্তিতে আবদ্ধ হন নি। কিন্তু সাধীন রাষ্ট্রনায়ক হিসাবে ইচ্ছা করলেই তিনি তা করতে পারতেন এবং সেক্ষেত্রে ওয়েলসলির আপত্তির কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতে পারে না। যাই হোক ফরাসীদের সঙ্গে টিপুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে অজুহাত করে ওয়েলেসলি প্রমাণ করলেন দুরাত্মার কোন ছলের অভাব হয় না। প্রসঙ্গতঃ মনে রাখা ভালো যে, ভারতে ফরাসী ভীতির আশঙ্কাকে ওয়েলেসলি অনেকটা ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখেছিলেন। বিশেষতঃ ১৭৯৮ সালে নেলসনের হাতে ফরাসী নৌ বহর বিধস্ত হবার পর ফরাসীদের পক্ষে ভারত আক্রমণ প্রায় অসম্ভব একটি পরিকল্পনায় পরিণত হয়। শক্তিশালী নৌবহর ছাড়া নেপােলিয়ানের পক্ষে ভারত আক্রমণের সাফল্য সদর পরাহত ছিল। ওয়েলেসলি সম্ভবতঃ নিজেও তা জানতেন। ফ্রান্সের পক্ষে ভারত আক্রমণ যেমন অসম্ভব ছিল, তেমনি টিপু র পক্ষে ফরাসী সাহায্য পাবার আশাও মােটেই উজ্জল ছিল না। ফ্রান্সের পক্ষে কোন সাহায্য পাঠানাে আদৌ সম্ভব ছিল না। ১৭৯৮ সালের ১২ই আগস্ট ওয়েলেসলি লেখেন—“I do not apprehend, unless some new re: olution shall happen in the isle of France, that Tipoo sultan will be able to derive any considerable aid from that quarte.

পরে ওয়েলেসলি নিজেই সীকার করেছিলেন যে, টিপু , ফরাসীদের কাছ থেকে উল্লেখযােগ্য কোন সাহায্য পান নি। বস্তুতঃ টিপু , কারও কাছ থেকেই কোন সাহায্য পান নি। তবে টিপু , নিজের দোষেই ওয়েলেসলির হাতে তুরুপের তাস তুলে দিয়েছিলেন। টিপু র রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও কূটনৈতিক তৎপরতার অভাব ছিল। ফরাসীদের সাহায্যের উপর আস্থা রাখা যে নিরর্থক, তা তিনি পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকেও বুঝতে পারেন নি। ফরাসীদের পক্ষে সত্য সত্যই তাঁকে সাহায্য ব্রা সন্ত্র কিনা বা এই সাহায্য তাঁর পক্ষে কতটুকু লাভজনক হবে, তা তিনি তলিয়ে দেখেন নি। অথচ এই ব্যাপারটিকে অজুহাত করেই ওয়েলেসলি মহীশূর  আক্রমণ করেন। চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর  যুদ্ধে টিপুর ব্যর্থতার জন্য ও শ্রীরঙ্গপত্তমের পতনের জন্য তিনি নিজেই অনেকটা দায়ী ছিলেন। তৃতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধের মত এক্ষেত্রেও তিনি হ্যারিসের আক্রমণের বিরুদ্ধে কোন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি। রপতম অবরোধের সময়ও তিনি যথেষ্ট তৎপরতা দেখাতে পারেন নি। তবে শ্রীরঙ্গপত্তমের পতনের জন্য প্রধানতঃ দায়ী ছিল টিপু রে বিশস্ত কিছু অন্যকে বিশ্বাসঘাতকতা । এরা গোপনে ইংরেজদের সঙ্গে একটা অতাত গড়ে তুলেছিলেন। টিপু র বিরুদ্ধে চক্রান্তের জন্য মহীশরের হিন্দু রাণীও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। টিপু , এই সব চক্রান্ত সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না। ইংরেজরা অবশ্য এই সব বিবাসঘাতকদের পরে যথােপযুক্ত পুরস্কৃত করেছিলেন।

দ্বিতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের সম্পর্কে জানার জন্য এখানে ক্লিক করো:

Leave a Comment