হায়দার ও টিপুর প্রশাসনিক ব্যবহার:

হায়দার ও টিপুর প্রশাসনিক ব্যবহার:

হায়দার ও টিপুর প্রশাসনিক ব্যবহার: হায়দার ও টিপু, উভয়েরই উদ্দেশ্য ছিল এক শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তােলা। সুতরাং দুজনেই প্রশাসন যন্ত্রকে দক্ষ ও কার্যক্ষম করে তুলতে চেয়েছিলেন। তাঁদের প্রতিষ্ঠিত শাসন ব্যবস্থা দাঁড়িয়েছিল স্বৈরতন্ত্রের উপর। ডঃ নরেন্দ্রকৃষ্ণ সিংহের ভাষায়-“His (Haidar’s) administration gives us an illustratration of Montesquieu’s dictum that the principle of despotism is fear.” (P : 270-71) হায়দরের কাছে দক্ষতা ও যােগ্যতার কদর ছিল। কিন্তু কর্তব্যে অবহেলা বা অপদার্থতার ক্ষমা ছিল না। দক্ষতার জন্যই জনগণ তাঁর শাসনব্যবস্থাকে সম্মানের চোখে দেখতাে। অথচ শাসনব্যবস্থার ক্ষেত্রে তিনি নতুন কোন নীতি অনুসরণ করেন নি। প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত নীতি ও স্থানীয় প্রথা ও আইনের উপর ভিত্তি করেই তিনি তাঁর শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন। তবে স্বৈরতন্ত্রের উপর নির্ভর করলেও তিনি ওড়েয়ার বংশের প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন। টিপুও মনে প্রাণে স্বৈরতন্ত্রী ছিলেন। যুদ্ধ পরিচালনা থেকে সমস্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব তিনি নিজেই পালন করতেন। তবে পিতা পত্র কেউই দায়িত্বহীন শাসক ছিলেন না। দুজনেই দেশের কাজে সব সময় ব্যস্ত থাকতেন।

কেন্দ্রীয় শাসনের সুবিধার জন্য চিক্কাদেব রাজা ওড়েয়ার সমগ্র দেশকে দু-ভাগে ভাগ করে মহীশূর ও শ্রীরঙ্গপত্তমে দুটি প্রশাসনিক কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন। সুষ্ঠ ভাবে শাসনকার্য পরিচালনার জন্য প্রশাসন দপ্তরকে ১৮টি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছিল। হায়দার এ ব্যবস্থায় কোনো রদবদল করেন নি। তবে শাসনব্যবস্থাকে দক্ষ করে তোলার দিকে তাঁর তীক্ষ দৃষ্টি ছিল। কেউ যাতে কোনভাবে সরকারী অর্থ তছরুপে করতে না পারে তার জন্য তিনি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন। অবশ্য অনেক সময় এই কঠোরতা বাড়াবাড়ির পায়ে দাঁড়াতো। তিনি মনুষ্য চরিত্র বুঝতেন এবং অন্যের কাছ থেকে কি ভাবে কাজ আদায় করা যায়, তা জানতেন। শাসনকাযে তিনি হিন্দ, মুসলিম ভেদাভেদ করতেন না। তাঁর মন্ত্রীদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন ব্রাহ্মণ। টিপু, তাঁর পিতার কাছ থেকে এই দক্ষ শাসনযন্ত্র উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছিলেন। কিন্তু কিছুটা আরও উন্নতির জন্য এবং আরও কিছুটা নতুন কিছু করার ঝোঁকে তিনি শাসনব্যবস্থায় কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছিলেন। এই পরিবর্তনের কিছুটা মুঘলদের কাছ থেকে ধার করা, আর কিছুটা পশ্চিমী আদর্শে উদীপ্ত ও প্রভাবিত হয়ে নকল কর। ডডওয়েলের মতে ভারতীয় শাসকদের মধ্যে টিপুই প্রথম তাঁর শাসন ব্যবস্থায় পাশ্চাত্য পদ্ধতি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি কয়েকটি নতুন দপ্তর খােলেন গুপ্তচর নিয়ােগ করেন প্রশাসনিক সুবিধার জন্য পরানাে মুসলিম ক্যালেণ্ডার চাল, করেন নতুন ধরণের ওজন ও মাপ চাল করেন ও মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কার করেন। তাঁর এই সব সংস্কার সব সময়ে যে প্রশাসনের উন্নতিরসহায়ক হয়েছিল তা কিন্তু নয়।

প্রাদেশিক শাসনের ক্ষেত্রে হায়দার পরানো ব্যবস্থাকেই মোটের উপর অব্যাহত রেখেছিলেন। তবে যতদূর সম্ভব পলিগারদের তিনি দুর্বল ও অপসত করার নীতি গ্রহণ করেছিলেন। পলিগারের সামরিক সাহায্যের বিনিময়ে জেলা শাসনের ভারপ্রাপ্ত ছিলেন। এদের অনেকেই খুব প্রভাবশালী ছিলেন। এদের মধ্যে কেউ ছিলেন হয়ে ওঠেন ডাকাতের সর্দার, আবার কেউ বা পরােনাে রাজবংশের বংশধর অথবা পরানাে  শাসকগােষ্ঠীর সন্তান। হায়দার সমস্ত সামন্ত প্রভূদের দমন করে নিজের ক্ষমতা বৃদ্ধি করেন। সমগ্র মহীশূর রাজ্য কয়েকটি আসফী টুকরি বা প্রদেশে বিভক্ত ছিল। টিপুর সময়ে প্রদেশের সংখ্যা নির্দিষ্ট ছিল না। মাঝে মাঝেই প্রদেশের সংখ্যা বাড়ানাে হতাে। এতে সন্টু প্রশাসনের খুব অসুবিধা হতো। প্রত্যেক প্রদেশের দায়িত্ব একজন আসফ বা বেসামরিক শাসনকর্তা ও একজন ফৌজদার বা সামরিক কতার হাতে থাকতাে। এরা কেউই কারাে কাজে হস্তক্ষেপ করতেন না। এদের মধ্যে ক্ষমতা বিভাজন করার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল যাতে একজন কখনও অতিরিক্ত প্রভাবশালী বা ক্ষমতাসম্পন্ন না কোন কোন প্রদেশে আবার দুজন আসফ থাকতাে। আসফের অধীনে নানা কর্মচারী কাজ করতাে। প্রত্যেক প্রদেশ ২০ থেকে ৩০টি আমিলদারী টুকরী বা জেলায় বিভক্ত ছিল। আবার প্রত্যেক আমিলদারী টুকরীর অধীনে থাকতাে ৩০ থেকে ৪০টি গ্রাম। জেলার প্রধান হিসাবে আমিলদারের কাজ ছিল প্রজাদের স্বার্থের দিকে লক্ষ্য রাখা, কৃষির উন্নতির ব্যবস্থা করা ও সেনাবাহিনীকে রসদ সরবরাহ করা। গ্রামের শাসনকার্য পরিচালনা করতেন প্যাটেল ও শভােগ (হিসাব রক্ষক)। প্যাটেল গ্রামের রাস্তাঘাট দেখাশােনা করতেন, পথের দুধারে গাছ বসাতেন ও গ্রাম-পঞ্চায়েতের সাহায্যে বিচারের নিষ্পত্তি করতেন।

হায়দার ও টিপুর প্রশাসনিক ব্যবহার:

বিচার ব্যবস্থার শীর্ষে ছিলেন হায়দার ও টিপু রাজ্যের সর্বোচ্চ বিচারালয় প্রতিষ্ঠিত ছিল শ্রীরঙ্গপত্তমে। সেখানে মুসলমান ও হিন্দ, বিচারকেরা বিচারকার্য সম্পাদন করতেন। রাজস্ব বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মী ও পলিগারেরাও বিচারকের -দায়িত্ব পালন করতেন। শহরাঞ্চলে অসফ, অমিল ও ফৌজদারেরা বিচারকের কাজ করতেন। তাছাড়া প্রত্যেক শহরে একজন কাজী ও হিন্দু পণ্ডিত যথাক্রমে মুসলমান, ও হিন্দু প্রজাদের বিরােধের নিষ্পত্তি করতেন। গ্রামে প্যাটেল পঞ্চায়েতের সহায়তায় গ্রামবাসীদের বিচার করতেন। মনরাে গ্রাম পঞ্চায়েতের বিচারের উচ্ছসিত প্রশংসা করেছেন। টিপার সময়ে অপরাধীদের কঠোর শাস্তি প্রদান করা হতাে। বিশ্বাসঘাতক ও হত্যাকারীদের প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত করা হতাে। শাস্তির অঙ্গ হিসাবে কোন কোন ক্ষেত্রে অঙ্গচ্ছেদের ব্যবস্থাও করা হতাে। সরকারী কর্মচারীরা কতব্য কর্মে অবহেলা করলে তাদের বেত্রাঘাত করা হতো।

রাজস্ব নির্ধারণ ও আদায়ের ক্ষেত্রে হায়দার প্রচলিত প্রথা ও রীতিনীতি মেনে চলতেন। ভূমি রাজস্ব ছাড়া আমদানী রপ্তানী শক থেকেও সরকারের অথগিম হতাে। কোন প্রজা বা কৃষক ও তার উত্তরাধিকারীরা ঠিকমত ও নিয়মিত কর প্রদান করলে তাদের জমি থেকে উৎখাত করা যেত না। তবে দেবস্থানসহ নানা খাতে খাজনা ছাড়ের ব্যবস্থাও ছিল। জমির মান ও উৎপাদিকা শক্তির উপর ভিত্তি করে খাজনা স্থির করা হতাে। ফলে এক এক জায়গায় খাজনার হার এক এক রকম ছিল। ভূমি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে হায়দার গতানুগতিক প্রথা অনুসরণ করতেন। তিনি বড় জেলাগুলির দায়িত্ব আমিলদারদের হাতে ছেড়ে দিতেন। তারা যথাযথ কর আদায় করে সরকারের হাতে তুলে দিত। কিন্তু সরকারের নির্ধারিত কর ছাড়াও তারা জোর করে প্রজাদের কাছে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে আত্মসাৎ করতাে। গুপ্তচরের মারফৎ অবশ্য হায়দার এই অতিরিক্ত আদায়ের পরিমাণ কত, তা জানতে পারতেন এবং আমিলদারদের কাছ থেকে সেই টাকা কেড়ে নিতেন। জমিদার, পলিগার অথবা আমিলদারেরা গ্রামের প্যাটেলের মারফৎ রাজস্ব আদায় করতাে। টিপু, মােটামুটি ভাবে হায়দরের রাজস্বনীতি অনুসরণ করলেও, রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও দক্ষ করে তােলার দিকে মন দেন। তিনি অমিলদারের মারফৎ রাজস্ব আদায়ের নীতি পরিত্যাগ করে সরকারী কর্মচারীদের মাধ্যমে সরাসরি প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করার নীতি গ্রহণ করেন। বেতনের পরিবর্তে সরকারী কর্মচারীদের জাগির দানের প্রথা তিনি তুলে দেন এবং তাদের নগদে বেতন দেবার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। অবশ্য কিছু উচ্চপদস্থ কর্মচারী ও তাঁর ৪ ছেলের ক্ষেত্রে এই নিয়মের ব্যতিক্রম করা হয়। টিপু, পলিগারদেরও ক্ষমতাচ্যুত করেন ও তাদের জমিজমা বাজেয়াপ্ত করে নেন।

১৭৮৮ সালে টিপু রাজস্ব ব্যবস্থার উন্নতির জন্য একটি অনুসন্ধান কমিটি নিযুক্ত করেন। প্রত্যেক গ্রামে জমি জরিপ করার ব্যবস্থা করা হয়। অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সমস্ত অননুমোদিত ইনাম জমি বাজেয়াপ্ত করা হয়। অনুমােদিত ইনাম জমির মালিকানা অবশ্য স্বীকার করে নেয়া হয়। সেই সঙ্গে মন্দির, মসজিদ ও ব্রাহ্মণদের কিছু নতুন ইনাম জমিও দেয়া হয়। ফলের গাছ, মশলা ও সর্জীর ক্ষেত্রে টিপুরে করনীতি ছিল উদার। কাজুবাদাম, এলাচ, ডালচিনি ও সজ্জির জন্য কোন কর দিতে হতাে না। দশটির বেশী নারকেল হতাে না এমন নারকেল গাছকেও কর থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল। হায়দরের আমলে মােট রাজস্বের পরিমাণ ছিল ৭৯ লক্ষ প্যাগােড়া বা প্রায় ২ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা। শ্রীরঙ্গপত্তমের চুক্তি স্বাক্ষর করার আগে পর্যন্ত টিপুর রাজত্বের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৯ লক্ষ প্যাগােড়া অর্থাৎ ২ কোটি টাকার উপর। কিন্তু তিনি তাঁর রাজ্যের অধাংশ হারানাের ফলে তাঁর রাজস্বের পরিমাণও কমে দাঁড়ায় ৩৫-৪০ লক্ষ প্যাগােড়ায়। এর ফলে, তিনি রাজস্বের পরিমাণ কিছুটা বাড়াতে বাধ্য হন। হায়দার ও টিপু, উভয়েই সামরিক বাহিনীর গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত ছিলেন।

১৭৬৭ সালে হায়দারের সেনাবাহিনীতে ১১’ooo ঘােড়া, ১২,০০০ সিপাহীও ৮,ooo পিয়ন ছিল। তাছাড়া পরিবহনের জন্য ১০,000 বলদ, ১০০টি হাতী ও ৮ooটি উট তাঁর অধীনে ছিল। এই নিয়মিত সেনাবাহিনী ছাড়া শ্রীরঙ্গপত্তম, সিরা, নগর, চিতলদুগ, ব্যাঙ্গালাের, কোলার, দিগিল, কোয়েম্বাটোর প্রভৃতি দগেও বহ, সৈন্য মজত থাকতো। ১৭৮০ সালে হাদরের নিয়মিত সেনাবাহিনীতে ১০,ooo ঘােড়া, ১৫,০০০ সিপাহী ও ১২,000 পিয়ন ছিল। এই নিয়মিত বাহিনী ছাড়াও হায়দরের অধীনে বহ, অনিয়মিত ঘোড় সওয়ার ও পদাতিক সৈন্য ছিল। উইলক্সের মত অনুসারে মহীশরের সেনাবাহিনীর সংখ্য। ইংরেজদের তুলনায় আটগণ বেশী ছিল। কুটের সঙ্গে যখন হায়দরে যুদ্ধ হয়, তখম মহীশরের সৈন্যসংখ্যা ইংরেজদের তুলনায় চার গুণ বেশী ছিল। হায়দরের সেনাবাহিনীতে ইউরােপীয় সৈনিকের সংখ্যা ছিল ১৫০০ এর মত। হায়দরের সামরিক শক্তির উৎস ছিল তাঁর শক্তিশালী অশ্বারােহী বাহিনী। এর গতির সঙ্গে ইংরেজরা এটে উঠতে পারে নি। হায়দরের গুপ্তচর বাহিনীও ছিল দক্ষ। হায়দরের গুপ্তচরের সংখ্যা ছিল প্রায় ২,০০০ তৃতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধের সময় টিপুর সেনাবাহিনীতে ১৮০০০ ঘােড় সওয়ার ও 20,ooo নিয়মিত পদাতিক সৈন্য ছিল। তাছাড়া প্রায় এক লক্ষ অনিয়মিত সৈন্য বিভিন্ন দগে মােতায়েন ছিল। কিন্তু শ্রীরঙ্গপত্তমের চুক্তি স্বাক্ষর করার পর তিনি করতে বাধ্য হন।

১৭৮০ সালে হায়দরের রাজস্বের পরিমাণ যা ছিল, ১৭৯৯ সালে টিপুর রাজস্বের পরিমাণ তার অর্ধেক ছিল। কিন্তু ১৭৮০ সালে হামদরের নিয়মিত পদাতিক সৈন্যের সংখ্যা ১৫,ooo হলেও, টিপুর নিয়মিত পদাতিক সৈন্যের সংখ্যা ছিল ২৩,000। অন্যদিকে টিপু, হায়দরের শক্তির মূল উৎস অশ্বারােহী বাহিনীকে অবহেলা করেন। ১৭৯৩ সালে তাঁর নিয়মিত ও অনিয়মিত অশ্বারােহী সৈন্য সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৭,০০০ ও ৬,ooo। ১৭৯৮ সালের শেষ দিকে তাঁর নিয়মিত ও অনিয়মিত অশ্বারোহী সৈন্য সংখ্যা কমে দাঁড়ায় যথাক্রমে ২,৬৬২ ও ৭,০৮৭। চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধের প্রাক্কালে তাবশ্য এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৩,৫০২ ও ৯,৩৯২। যাই হোক অশবারােহী বাহিনীর প্রতি অবহেলার পরিণতি টিপুর পক্ষে মোটেই শুভ সৈন্য খুব একটা গুরত্বপূর্ণ স্থান অধিকার হয় নি। টিপুর সেনাবাহিনীতে ফরাসী করতো না। তৃতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধে ফরাসী সৈনিকের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৫০ জন। পরে এই সংখ্যা আরও কমে যায়।

ইংরেজদের বিরুদ্ধে হায়দারের সাফল্যের সম্পর্কে জানার জন্য এখানে ক্লিক করো:

Leave a Comment