Class 9 History February Model Activity Task 2022 Part-2

মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক ফেব্রুয়ারী

নবম শ্রেণি

ইতিহাস পূর্ণমান : ২০

Class 9 History February Model Activity Task 2022 Part-2 সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হল-

১. সত্য বা মিথ্যা নির্ণয় করাে :            ১X ৪ = ৪

(ক) নেপােলিয়ন ফ্রান্সে ‘কনসুলেট’ শাসনের অবসান ঘটান। 

উঃ- মিথ্যা 

(খ) নেপােলিয়নের আইন সংহিতায় ২২৮৭টি বিধি বা ধারা ছিল। 

উঃ- সত্য

(গ) জার্মানিতে সিসঅ্যালপাইন প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা হয়। 

উঃ- মিথ্যা 

(ঘ) ইতালির ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলিকে নিয়ে নেপােলিয়ন ‘রাইন রাষ্ট্রসংঘ’ গঠন করেন।

উঃ- মিথ্যা 

2. স্তম্ভ মেলাও :                ১ X ৪ = ৪

ক-স্তম্ভখ-স্তম্ভ
ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দ
ফন্টেনব্লু চুক্তি১৮১২ খ্রিস্টাব্দ
নেপােলিয়নের রাশিয়া অভিযান১৮০৫ খ্রিস্টাব্দ
ওয়াটারলুর যুদ্ধ১৮০৭ খ্রিস্টাব্দ

উঃ- 

ক-স্তম্ভখ-স্তম্ভ
ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দ
ফন্টেনব্লু চুক্তি১৮০৭ খ্রিস্টাব্দ 
নেপােলিয়নের রাশিয়া অভিযান১৮১২ খ্রিস্টাব্দ
ওয়াটারলুর যুদ্ধ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দ

৩. দুই-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও :         ২ x ২ = ৪

(ক) লিপজিগের যুদ্ধ কেন ‘জাতিসমূহের যুদ্ধ’ নামে পরিচিত?

উঃ- 1813 খ্রিস্টাব্দে নেপোলিয়ন এবং তার বিরোধী চতুর্থ শক্তি জোটের মধ্যে লিপজিগ এর যুদ্ধ হয়েছিল। নেপোলিয়নের মস্কো অভিযান ব্যর্থ হলে সমগ্র ইউরোপ জুড়ে নেপোলিয়ন বিরোধী পরিমণ্ডল রচিত হয়। ইংল্যান্ড,রাশিয়া অস্ট্রিয়া প্রাশিয়া সুইডেন চতুর্থ শক্তি জোট গড়ে তোলে সম্মিলিতভাবে। শুধু তাই নয় এই যুদ্ধে ইউরোপের মোট 13 টি দেশ সম্মিলিতভাবে নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বলে লিপজিগ এর যুদ্ধকে জাতিসমূহের যুদ্ধও বলা হয়ে থাকে।

(খ) শতদিবসের রাজত্ব বলতে কী বােঝায়? 

উঃ-1814 খ্রিস্টাব্দে মিত্রশক্তির কাছে পরাজিত নেপোলিয়নকে ফ্রান্সের সিংহাসনচ্যুত করে এলবা দ্বীপে পাঠানো হয়। এক বছরের মধ্যেই নেপোলিয়ন বোনাপার্ট 1050 সৈন্য নিয়ে এলবা দ্বীপ থেকে ফ্রান্সের ফিরে আসেন। এসময় নেপোলিয়ন ফ্রান্সের 1815 খ্রিষ্টাব্দের 20 মার্চ থেকে শুরু করে 29 জুন পর্যন্ত প্রায় 100 দিন রাজত্ব করেন। নেপোলিয়নের জীবনের শেষ পর্বের এই 100 দিনের রাজত্বকে ‘শত দিবসের’ দিনের রাজত্ব বলা হয়।

৪. সাত-আটটি বাক্যে উত্তর দাও :     ৪ X ২ = ৮

(ক) মহাদেশীয় ব্যবস্থা নেপােলিয়নের পতনের জন্য কতখানি দায়ী? 

উঃ-  ভূমিকাঃ- মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা নেপোলিয়নের পক্ষের শুভ হয়নি। মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থাকে বল প্রয়োগের দ্বারা কার্যকর করতে গিয়ে নেপোলিয়ান বিভিন্ন সংকটে সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন যেমন-

১) ফ্রান্সের আর্থিক সংকট: মহাদেশীয় অবরােধ ব্যবস্থার অর্থনৈতিক ফলাফল ফ্রান্সের পক্ষে অনুকুল ছিল না, বরং পরােক্ষে তা ফ্রান্সের অর্থনীতির যথেষ্ট ক্ষতি করে। কারণ দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি ফ্রান্সের সর্বস্তরের মানুষকে বীতশ্রদ্ধ করে তুলেছিল। শ্রমিক ছাঁটাই, বেকার সমস্যা প্রভৃতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ফলে ফ্রান্সের মানুষ নেপােলিয়নের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলে।

২) উপদ্বীপের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ : পাের্তুগাল মহাদেশীয় ব্যবস্থা মানতে অস্বীকার করায় নেপােলিয়ন স্পেনের অনুমতি না নিয়েই স্পেনের উপর দিয়ে পাের্তুগালে সেনা পাঠিয়ে সেখানে মহাদেশীয় ব্যবস্থা কার্যকর করেন। পাের্তুগাল থেকে ফেরার পথে তিনি স্পেন দখল করে সেখানকার সিংহাসনে নিজের ভাই জোসেফকে বসান। এর ফলে স্পেন ও পাের্তুগাল নেপােলিয়নের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করে এবং এই যুদ্ধে ইংল্যান্ড স্পেনের পক্ষে যােগ দিলে ফ্রান্সের পরাজয় ঘটে। এই পরাজয় নেপােলিয়নকে আরও বড়াে বিপদের সম্মুখীন করে।

৩) ইংল্যান্ডের রপ্তানি বৃদ্ধি : মহাদেশীয় ব্যবস্থায় ইংল্যান্ড ক্ষতিগ্রস্ত না হয়ে লাভবান হয়েছিল। ইংল্যান্ডের রপ্তানি-বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছিল। মহাদেশীয় অবরােধের কারণে বহির্জগতে অনেক নতুন বাজার ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। তাই প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিয়ে ইংল্যান্ড অর্থনৈতিক দিক দিয়ে স্বমহিমায় ফিরে আসে।

৪) রাশিয়া আক্রমণ : রাশিয়ার জার মহাদেশীয় ব্যবস্থা মানতে : অস্বীকার করায় নেপােলিয়ন ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়া আক্রমণ করেন। পরিণামে রাশিয়ায় তার গ্র্যান্ড আর্মি’ ধ্বংস হয়ে যায়। 

                     ইংল্যান্ডের অর্থনৈতিক শক্তিকে ধ্বংস করতে গিয়ে নেপােলিয়ন বলপূর্বক মহাদেশীয় প্রথাকে কার্যকরী করার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন, তার ফলে সমগ্র ইউরােপে নেপােলিয়নবিরােধী শক্তি গড়ে উঠেছিল। তাই বলা যায় যে, নেপােলিয়নের পতনের অন্যতম কারণ ছিল—মহাদেশীয় অবরােধ ব্যবস্থা। 

(খ) ফরাসি বিপ্লবের আদর্শগুলির সঙ্গে নেপােলিয়নের সাম্রাজ্যিক কার্যকলাপের সম্পর্ক আলােচনা করাে।

উঃ- ভূমিকাঃ- নেপােলিয়ন তার আত্মজীবনীতে নিজেকে বিপ্লবের ধ্বংসকারী’ বলে অভিহিত করেছেন। ঐতিহাসিক থমসন ও গ্যারেট বলেছেন, নেপােলিয়ন বিভিন্নভাবেই ফরাসি বিপ্লবের লক্ষ্য ও নীতি লঙ্ঘন করেন, যে বিপ্লবী আন্দোলন থেকে তার উত্থান। নেপােলিয়নের কার্যাবলির মধ্যেও বিপ্লব বিরােধিতার প্রকাশ লক্ষ করা যায়।

১) ফরাসি বিপ্লবের অন্যতম প্রধান আদর্শ স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রতি নেপােলিয়নের বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা ছিল না। তিনি বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র ও রাজসভার জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব-অনুষ্ঠান পুনরায় প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি সরকারি কর্মচারীদের নির্বাচন প্রথার পরিবর্তে মনােনয়ন প্রথা চালু করেন। ফলে তার একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি বিপ্লবী জেকোবিন দলের প্রজাতন্ত্র ও গণভােটের আদর্শ বিসর্জন দিয়েছিলেন। তিনি বাকস্বাধীনতা হরণ, বিনা বিচারে গ্রেফতার প্রভৃতির প্রচলন করে বিপ্লবের আদর্শকে জলাঞ্জলি দেন।

২) নেপােলিয়নের সাম্রাজ্য বিস্তারের মাধ্যমে ইউরােপে ফরাসি বিপ্লবের আদর্শ বিস্তার লাভ করেছিল, এ ধারণাও সম্পূর্ণ ঠিক নয়। নেপােলিয়ন নববিজিত দেশগুলিতে মধ্যযুগীয় শােষণ ও অসাম্যের অবসান ঘটিয়ে ওইসব অঞ্চলে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে জনমুখী শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই প্রজাতন্ত্রের পরিবর্তে রাজতান্ত্রিক শাসন চালু করেন। ওইসব দেশে নিজের ভাই বা আত্মীয়দের শাসন চাপিয়ে দিয়েছিলেন যা স্বজনপােষণ নীতির পরিচায়ক ও বিপ্লবী আদর্শের পরিপন্থী ছিল।

৩) তিনি ইউরােপে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।তার বিজিত রাজ্যে জনপ্রিয়তা লাভের জন্য পুরােনাে রাজবংশগুলির বিরুদ্ধে জনমতকে কাজে লাগান। তিনি সাধারণ জনগণকে নিজের পক্ষে আনার জন্য বিপ্লবের সাম্যনীতি প্রচার ও প্রয়ােগ করেন। কিন্তু তিনি তাদের স্বাধীনতা বা গণতান্ত্রিক অধিকার দেননি। ঐতিহাসিক ডেভিড থমসন (David Thomson) বলেছেন, “নেপােলিয়ন সাম্যের আদর্শকে স্বীকার করলেও স্বাধীনতার আদর্শকে বাতিল করেছিলেন।”

Leave a Comment