ইতিহাসের যুগবিভাগ ও কালানুক্রম, যৌক্তিকতা

ইতিহাসের যুগবিভাগ ও কালানুক্রম, যৌক্তিকতা

প্রিয় একাদশ শ্রেনীর শিক্ষার্থীরা,

আজকে তোমাদের সঙ্গে শেয়ার করবো, ইতিহাসের যুগবিভাগ ও কালানুক্রম, যৌক্তিকতা With PDF Download from “The Concept Of History” তোমরা এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে একাদশ শ্রেণির সমস্ত প্রশ্ন উত্তর পেয়ে যাবে। এগুলি তোমাদের ফাইনাল পরিক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন হবে। তো বন্ধুরা তোমাদের এই পোস্টের মাধ্যমে Periodization in History and Chronological sequencing Rational behind -এর আলোচনা করা হয়েছে । তো তো বন্ধুরা আমাদের আসা এই প্রশ্নের উত্তরটি তোমাদের ফাইনাল পরিক্ষায় খুবই কাজে আসবে।

ইতিহাসের যুগবিভাগ ও কালানুক্রম, যৌক্তিকতা

ক) ইতিহাসের প্রথাগত তিনটি যুগে বিভাজন যৌক্তিকতা (Conventional tripartite divisions):

ঐতিহাসিকরা সাধারণত বিশ্বের প্রতিটি দেশের ইতিহাসকে প্রাচীনও আধুনিক এই তিনটি ভাগে ভাগ করে থাকেন। ইউরােপে প্রাচীন যুগের ব্যাপ্তি ৫০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৫০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। মধ্যযুগের বিস্তার ৫০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এবং আধুনিক যুগের সূচনা ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে।

i. মিলের দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিহাসের বিভাজন : ঐতিহাসিক James Mill তাঁর History of ( British India’ গ্রন্থে ভারতের ইতিহাসকে পর্যায়ক্রমে হিন্দু, মুসলিম এবং ব্রিটিশ যুগে ভাগ করেন। এই হিসেবে সভ্যতার সূচনাকাল থেকে ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে দিল্লি সুলতানির প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত হিন্দু যুগ এবং সেসময় থেকে ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশির যুদ্ধ পর্যন্ত মুসলিম যুগ গণ্য করা হয়। পলাশির যুদ্ধ থেকে আরম্ভ হয় ভারত ইতিহাসের ব্রিটিশ যুগ। ভিন্ন মতে, ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা থেকে ভারতের আধুনিক ইতিহাসের সূচনা নির্ধারিত হয়।

ii. যুগ বিভাজনে ইউরােপীয় প্রেক্ষাপট : ইউরােপে প্রথাগতভাবে রােম সাম্রাজ্যের পতন পর্যন্ত প্রাচীন বিশ্ব এবং পঞ্চদশ ও ষােড়শ শতকে রেনেসাঁস ও রিফর্মেশন ধর্মান্দোলনের সময় পর্যন্ত মধ্যযুগের ব্যাপ্তি বলে মনে করা হত। মধ্যযুগে ইউরােপের মানুষ খ্রিস্টধর্মের অধীন ছিল। রেনেসাঁস ও পুনর্জন্ম এবং রিফর্মেশন অর্থাৎ ধর্মসংস্কার আন্দোলন সেই পর্বের ছেদ ঘটিয়ে নতুন যুগের সূচনা করেছিল বলে মনে করা হত। ভারতের ইতিহাসে জেমস মিল ধর্মের ভিত্তিতে কাল বিভাজন করেন। প্রধানত প্রাচীন ভারতে হিন্দুধর্ম এবং মধ্যযুগের ভারত ইসলামীয় শাসনাধীন বলে মনে করা হত। প্রাচীন ভারতে যে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছাড়াও অন্যান্য ধর্মের—যথা, বৌদ্ধ ও জৈন শাসকরাও রাজত্ব করেছেন, সেকথা ভুলেও এক্ষেত্রে মনে রাখা হয়নি। অপরদিকে আধুনিক ভারতকে কিন্তু খ্রিস্টধর্ম শাসিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। সাম্রাজ্যবাদী লেখকের চোখে ভারতের ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠা থেকেই আধুনিকতার প্রবর্তন ঘটে।

(Periodization in History and Chronological sequencing Rational behind)

খ) যুগ-বিভাজনের সাম্প্রতিক প্রবণতা (Recent trends in periodisation): 

যুগ-বিভাজনে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি মিলের দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিহাসের বিভাজন : নির্দিষ্ট সন-তারিখ মেনে ইতিহাসের কোনাে পর্ব শুরু কিংবা শেষ হয় না। কালপ্রবাহে এইভাবে ছেদ টানা আদৌ সম্ভব নয়। ইতিহাসের ধারাবাহিকতাকে তাহলে অস্বীকার করতে হয়।

i. কার্ল মার্কস:  বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রবাদের (সাম্যবাদ) প্রচারক হিসেবে কার্ল মার্কসের নাম সমগ্র পৃথিবীখ্যাত। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’ ও ‘দাস ক্যাপিটেল’ এই দুটি গ্রন্থ থেকে মার্কসীয় দর্শনের প্রধান দিকগুলি জানা যায়।

ii. মার্কসীয় মতবাদ : কার্ল মার্কস-এর মতে উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর কর্তৃত্ব কায়েম করার মধ্য দিয়ে যুগের পরিবর্তন ঘটে। অর্থনৈতিক বুনিয়াদ এবং চিন্তার স্তর—মার্কসের ভাষায় structure এবং superstructure= পরস্পরকে প্রভাবিত করে। কোনাে একটি বিশেষ শক্তিকে ইতিহাসের চূড়ান্ত নির্ণায়ক বলা যায় না। বরং বলা যেতে পারে অর্থনৈতিক কারণসমূহের ওপর গুরুত্ব অরােপ করে মার্কস যুগ বিভাজনের নতুন একটি সূত্র আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। মার্কসের দৃষ্টিতে ইতিহাসের পর্ব বিভাজন ঘটে উৎপাদন পদ্ধতির ওপর শাসকশ্রেণির দখলের মধ্য দিয়ে। মার্কস ইতিহাসের কাল বিভাজন এইভাবে করেছেন : আদিম সাম্যবাদী সমাজ, দাস সমাজ, সামন্ততন্ত্র ও পুঁজিবাদু। মার্কসের দৃষ্টি অনুসরণ করে বর্তমানে সমাজ কালবিভাজনের এক ভিন্ন রীতি অনুসরণ করা হয়। ভারতের প্রাচীন ইতিহাসের সমাপ্তি গুপ্তযুগ পর্যন্ত। পরবর্তী পর্যায়ে যা আদি-মধ্যযুগের ইতিহাস বলে গণ্য হয়। দিল্লি সুলতানের পতন পর্যন্ত এর অস্তিত্ব ছিল। মােগল সাম্রাজ্য সতেরােশাে সাতান্ন খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ভারতের ইতিহাস মধ্যযুগের অন্তর্গত। এরপর আধুনিক যুগের সূচনা হয়।

iii. ভারতীয় ইতিহাসের ব্যাখ্যা আদি-মধ্যযুগ : ভারতীয় ইতিহাস কংগ্রেস ১৯৫০-১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে ভারত ইতিহাসের প্রচলিত কাল বিভাজনকে সরিয়ে ভিন্নতর পর্ভাগ নির্দেশ করে। তাদের মতে, ভারতের প্রাচীন যুগকে দুটি ভাগে ভাগ করা সম্ভব। প্রথম, সুপ্রাচীনকাল থেকে ৭১১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয়ত ৭১২ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১২০৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। দিল্লি সুলতানির শাসনকালকে এই কংগ্রেস ‘আদি-মধ্যযুগ হিসেবে নামে চিহ্নিত করে। ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে ড, রামশরণ শর্মা ‘সােশ্যাল চেঞ্জেস ইন আর্লি মিডাইভাল ইন্ডিয়া’ গ্রন্থে ৫০০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দকে ভারতে আদি-মধ্যযুগ আখ্যা দেন। তাঁর মতে, এযুগের মূল লক্ষণ ভারতে সামন্ততন্ত্রের সূচনা ও বিকাশ । ড. শর্মার গ্রন্থ প্রকাশের পর থেকে ৬০০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ সাধারণভাবে ‘আদি-মধ্যযুগ’পরিচিতি লাভ করে। অনুরূপভাবে আঠারাে শতকের শেষ এবং উনিশ শতকের সূচনাকাল—অর্থাৎ ভারতে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির মাধ্যমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রথম পর্বকে ‘আদি-আধুনিক যুগ হিসেবে চিহ্নিত করা শুরু হয়েছে।

File Details 
File Name/Book Nameইতিহাসের যুগবিভাগ ও কালানুক্রম, যৌক্তিকতা
File FormatPDF
File LanguageBengali
File Size91 KB
File LocationGOOGLE DRIVE
Download LinkClick Here to Download PDF File

Leave a Comment