The role of Vidyasagar As a Social Reformer ।। সমাজ সংস্কারক হিসেবে বিদ্যাসাগরের অবদান উল্লেখ করো Marks-4

প্রিয় শিক্ষার্থীরা,

আজকে তোমাদের সঙ্গে শেয়ার করবো, মাধ্যমিকের দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে The Role Of Vidyasagar As a Social Reformer বা সমাজ সংস্কারক হিসেবে বিদ্যাসাগরের অবদান তোমরা এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে Madhyamik 2022 Bengali Suggestion Madhyamik 2022 Math Suggestion Madhyamik 2022 English Suggestion Madhyamik 2022 History Suggestion Madhyamik 2022 Geography Suggestion Madhyamik 2022 Life Science Suggestion Madhyamik 2022 Physical Science Suggestion পেয়ে যাবে। এছাড়াও তোমরা প্রতিদিন মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যকের মকটেস্ট দিতে পারবে। এগুলি তোমাদের ফাইনাল পরিক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন হবে। আমরা এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নবম,দশম একাদশ শ্রেনীর বাংলা গনিত ইংরেজী ইতিহাস ভূগোল জীবনবিজ্ঞান ভৌতবিজ্ঞান-এর বিভিন্ন প্রশ্ন দিয়ে থাকি। আমাদের আসা এই প্রশ্নগুলি তোমাদের পরিক্ষায় খুবই কাজে আসবে। তো বন্ধুরা তোমাদের এই পোস্টের মাধ্যমে স্থানীয় ইতিহাস চর্চার গুরুত্ব উত্তর সহ দেওয়া হল।

The role of Vidyasagar As a Social Reformer ।। সমাজ সংস্কারক হিসেবে বিদ্যাসাগরের অবদান উল্লেখ করো

ভূমিকাঃ- উনিশ শতকে বাংলায় সমাজ সংস্কার আন্দোলনের ইতিহাসে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। তিনি ছিলেন একজন বাস্তববাদী সমাজ সংস্কারক। নারীশিক্ষা প্রসার তথা নারীমুক্তি আন্দোলনে তিনি ছিলেন অগ্রগামী।

সমাজ সংস্কারক বিদ্যাসাগরঃ-

বিধবা বিবাহঃ- হিন্দু-সমাজে অবহেলিত, বঞ্চিত ও নিপীড়িত নারী সমাজের মুক্তির জন্য বিদ্যাসাগর আজীবন লড়াই করেন।সে যুগে হিন্দু সমাজে বাল্য বিবাহের চল ছিল। কন্যাদায়গ্রস্ত পিতারা সমাজের ভয়ে তাদের কমবয়সি মেয়েদের বয়স্ক লোকেদের সঙ্গে বিবাহ দিতেন। তাই অনেক সময় অল্প বয়সেই এই সমস্ত মেয়েরা বিধবা হত। এর ফলে তাদের দুর্দশার শেষ থাকত না। নারীজাতির এই করুণ অবস্থা তাঁকে ব্যথিত করে। হিন্দু শাস্ত্র ও পরাশর সংহিতা’ অধ্যয়ন করে বাল্যবিধবাদের পুনর্বিবাহের পক্ষে জনমত গঠনের কাজে তিনি মন দেন। শেষপর্যন্ত ব্রিটিশ সরকার বিদ্যাসাগরের পক্ষে দাঁড়ায় এবং 1856 খ্রিস্টাব্দে বড়োলাট লর্ড ডালহৌসি 15 নং বিধি দ্বারা বিধবা বিবাহ আইন বলবৎ করেন। বিদ্যাসাগর মহাশয় নিজের পুত্র নারায়ণের সঙ্গে ভবসুন্দরী নামে অষ্টাদশী এক বিধবার বিবাহ দেন। এরকম তিনি ৬০টি বিবাহ দেন।

বাল্যবিবাহঃ- হিন্দুধর্মে মেয়েদের বাল্যবিবাহ নামক সামাজিক ব্যাধি দূর করার জন্য তিনি আপ্রান সংগ্রাম করেন। তিনি ‘সর্ব শুভকরী’ পত্রিকায় বাল্য বিবাহের দোষ’ শীর্ষক নিবন্ধ প্রকাশ করে বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করেন। এ ব্যাপারে তিনি সফলও হন। 1860 খ্রিস্টাব্দে সরকার আইন করে মেয়েদের বিবাহের বয়স কমপক্ষে 10 বছর ধার্য করে।

বহুবিবাহঃ- সে যুগে হিন্দুসমাজে পুরুষের বহু বিবাহ করার অধিকার ছিল। বিদ্যাসাগর এই প্রথার বিরুদ্ধে সরব হন এবং এর বিরুদ্ধে জনমত গঠন করেন। কিন্তু বহুবিবাহ প্রসঙ্গে তিনি বিশেষ সাফল্য না পেলেও তার চেষ্টায় কোন কমতি ছিল না।

অন্যান্য পদক্ষেপঃ- এ ছাড়া বিদ্যাসাগর মহাশয় সে যুগের কৌলিন্য প্রথা, গঙ্গায় সন্তান বিসর্জন প্রথা, জাতিভেদ প্রথা, ও কুষ্ঠরোগী হত্যা প্রভৃতি নানাবিধ প্রথার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। তাঁর উদ্যোগেই খ্যাতনামা চিকিৎসক মহেন্দ্রলাল সরকার ‘বৈদ্যনাথ রাজকুমারী কুষ্ঠাশ্রম’ প্রতিষ্ঠা করেন।

মূল্যায়নঃ- উনিশ শতকে বাংলার জরাজীর্ন, কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্যাসাগর লড়াই করার যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন তা নিচ্ছয় প্রসংশনীয়। সেই কারণেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই নির্ভীক সমাজ সংস্কারক সম্পর্কে বলেছেন, ‘’এই ভীরুর দেশে তিনিই একমাত্র পুরুষ সিংহ।‘’ ড. অমলেশ ত্রিপাঠির মতে তিনি ছিলেন একজন ‘ট্রাডিশনাল মর্ডানাইজার’। মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর মধ্যে দেখতে পেয়েছিলেন এমন এক মানুষ—“যার মনীষা প্রাচীন ঋষির মতো, কর্মদক্ষতা ইংরেজের মতো এবং হৃদয়বত্তা বঙ্গজননীর মতো।”

Leave a Comment