সুলতানি যুগের ইতিহাস রচনার উপাদানের বৈশিষ্ট্য (The main features of the sources of Medieval Indian History) :

 

প্রিয় পাঠকগন,

আজকে আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করবো, সুলতানি যুগের ইতিহাস রচনার উপাদানের বৈশিষ্ট্য PDF সহ Download, এই পোস্টের মাধ্যমে The main features of the sources of Medieval Indian History আলোচনা করা হয়েছে। এই টপিক থেকে বিভিন্ন Short Question প্রতিযোগিতামুলক পরিক্ষা আসে যেমন- SSC, বিভিন্ন ড্রিগ্রীপরিক্ষা, WBCS, Railway Exam, PSC Exam, Group D Group SSC, ICDS, POLICE সহ বিভিন্ন চাররির পরিক্ষায় আসে। তাই আমাদের আসা এই Topic টি তোমাদের পরিক্ষার জন্য খুবই কাজে আসবে।

সুলতানি যুগের ইতিহাস রচনার উপাদানের বৈশিষ্ট্য (The main features of the sources of Medieval Indian History) : 

প্রাচীন যুগের লিখিত ইতিহাসের সংখ্যা খুবই স্বল্প। এজন্য প্রাচীন যুগের ইতিহাস রচনায় প্রধানত প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানের ওপর নির্ভর করতে হয়। মধ্য যুগের ক্ষেত্রে এই অসুবিধা নেই। ভারতবর্ষে মুসলমানদের আগমনের সময় থেকে ঐতিহাসিক উপাদানের প্রাচুর্য লক্ষ করা যায়। তুর্কী মুসলমানরা ভারত জয়ের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাস রচনার ধারাটিও উপাদানের প্রাচুর্য সঙ্গে করে এনেছিল। 

সিন্দুদেশে আরব শাসনের শুরু থেকে মুসলমান শাসনের শেষ পর্যন্ত মুসলমান ঐতিহাসিকরা এর ধারাবাহিক ইতিহাস লিখে গেছেন। মুসলিম পণ্ডিতরা ছিলেন ইতিহাস-সচেতন। আরব আক্রমণের যুগ থেকে মােগল সাম্রাজ্যের পতন পর্যন্ত বিভিন্ন সমকালীন লেখকের লেখা অনেক ঐতিহাসিক গ্রন্থ পাওয়া যায়। এই গ্রন্থগুলি মূল্যবান ঐতিহাসিক উপাদান। তবে মধ্যযুগের ইতিহাসের উপাদান হিসাবে লিখিত ইতিহাস থাকলেও, প্রত্নতত্ত্বকে একেবারে বাদ দেওয়া যায় না। এজন্য প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানের সাহায্য নিতে হয়।

সুলতানি যুগের দরবারী ঐতিহাসিকদের দ্বারা লিখিত উপাদানের বৈশিষ্ট্যঃ-

মধ্যযুগের শাসকরা তাদের দরবারে ঐতিহাসিক, তথ্যলেখকদের পৃষ্ঠপােষকতা করতেন। এর ফলে মধ্যযুগের বেশির ভাগ মুসলিম ঐতিহাসিকরা ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে প্রধানত রাজকাহিনি লিখেছেন। এই সকল কাহিনিতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রাজা, বাদশাহের রাজ্য বিস্তার, যুদ্ধ জয়, শাসন সংস্কার, তাঁদের চরিত্র, খেয়ালখুশীর কথাই রাজকাহিনি স্থান পেয়েছে। মুসলিম ঐতিহাসিকরা তাঁদের রচনাতে সুলতানদের যে বিজয় কাহিনির বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন তা থেকে ঐতিহাসিক ঘটনার পারম্পর্য নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে। 

তবে রাজদরবারে সমবেত ঐতিহাসিক ও কাহিনিকারদের রচনা থেকে রাজনৈতিক ইতিহাস রচনার উপাদান আহরণ করা সম্ভব হলেও ঐগুলিতে সমাজচিত্রের কোন পরিচয় পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষের কথা, সামাজিক, অর্থনৈতিক অবস্থার দিকে তারা বিশেষ নজর দেন নি। তাঁদের রচনা এজন্য অনেক ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ইতিহাস হতে পারে নি। 

এই সকল লেখকদের মধ্যে বেশির ভাগ বিভিন্ন রাজা বা সুলতানের আশ্রয়পুষ্ট ছিলেন। এজন্য তারা নিজ নিজ প্রভুর গুণকীর্তন করেছেন। সাধারণ মানুষের কথা তাদের লেখনীতে স্থান পায়নি। মুসলিম রাজাদের রাজদরবারের ঐতিহাসিকদের রচনায় সংশ্লিষ্ট রাজদরবারের মহিমাকীর্তনই বেশি স্থান পেয়েছে। রাজার ব্যক্তিগত মহিমাকীর্তনকে ইতিহাস রচনার আকরগ্রন্থ হিসেবে গ্রহণ করার অসুবিধা অনেক। কারণ ঐ সব রচনা মূলত ফরমায়েশী রচনা হওয়ার দরুণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সত্যনিষ্ঠ হয়ে উঠতে পারেনি। 

আমীর খসরু তাে নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তিনি রাজার আদেশ পালনের জন্যই ‘কিরাত-উস-সাদাইন’ রচনা করেছিলেন। তবে মধ্যযুগের সকল ঐতিহাসিক শুধু পুরস্কার ও অর্থ লােভেই তাঁদের রচনাগুলি লিখেছেন একথা বলা যায় না। জিয়াউদ্দিন বরনীর মত অনেক ঐতিহাসিক নিজ বুদ্ধিবৃত্তির প্রেরণাতেই ঐতিহাসিক কাহিনিগুলি রচনা করেন। 

বরনী তাঁর ‘তারিখ-ই-ফিরােজশাহীর’ গ্রন্থের মুখবন্ধে লিখেছেন যে তিনি তাঁর এই রচনা রাজা ও শাসকশ্রেণিকে শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করার জন্যই লিখেছেন। এযুগে ভারতীয় ইতিহাসবিদ্যা ছিল মূলত ভারতের বাইরে বিকাশমান ঐস্লামিক ইতিহাসচর্চার প্রতিস্থারণ। 

মধ্যযুগের মুসলিম ঐতিহাসিকদের দ্বারা লিখিত ইতিহাস এর বৈশিষ্ট্য 

অধ্যাপক পিটার হার্ডি ভারতে ত্রয়ােদশ শতক থেকে পঞ্চদশ শতকের মধ্যবর্তীকালীন ইতিহাসচর্চাকে মুসলিম ইতিহাস চর্চার ঔপনিবেশিক যুগ’ (a colonial period in Indo-Muslim historiography) বলে অভিহিত করেছেন।

মধ্যযুগের মুসলিম ঐতিহাসিকদের মধ্যে এক শ্রেণির লেখক ইসলামীয় চিন্তাধারায় আচ্ছন্ন ছিলেন। তাঁরা সকল কিছু ঘটনাকে ইসলামীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করতেন। ফলে তারা অ-মুসলিম সম্প্রদায় সম্পর্কে সর্বদা নিরপেক্ষ দৃষ্টি নেন নি। ধর্মীয় চিন্তাভাবনা দ্বারা তারা এতটাই আচ্ছন্ন ছিলেন যে, ইসলাম-বিরােধী কিংবা ইসলাম স্বীকৃত নয় এমন সমস্ত কাজকেই তাঁরা বিরূপভাবে উপস্থিত করেছেন।

ড. মহিবুল হাসানের মতে, এই সকল ঐতিহাসিকের মানসিক সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে আধুনিক পাঠকের সতর্ক থাকা দরকার। অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের দেওয়া মতামত ও তথ্য নির্ভরযােগ্য লেখকদের ধর্মান্ধতা নয়। এই সকল গোঁড়া ঐতিহাসিকরা ধর্মনিরপেক্ষ শাসনের প্রতিও সদয় ছিলেন না। অবশ্য অনেক ঐতিহাসিক এই ধরনের ধর্মীয় সঙ্কীর্ণতার ঊর্ধে ছিলেন। 

সুলতানি যুগের অ-মুসলমান ঐতিহাসিকদের দ্বারা লিখিত ইতিহাস এর বৈশিষ্ট্য 

সুলতানি যুগের ইতিহাস রচনার উপাদান হিসেবে অ-মুসলমান লেখকদের রচনাও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সমসাময়িক শিখ, মারাঠা ও রাজপুত জাতিগােষ্ঠীর লােককথা থেকে তৎকালীন সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতির বহু তথ্য পাওয়া গেছে।

সুলতানি যুগে বিদেশি পর্যটক ইতিহাস রচনার বৈশিষ্ট্যঃ

ত্রয়ােদশ শতক থেকে যােড়শ শতক পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে ভারতে বহু বিদেশি পর্যটক এসেছিলেন। এঁদের রেখে যাওয়া বিবরণী হলাে মধ্যযুগের ভারত ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বিদেশি ভ্রমণকারীদের বিবরণে সমসাময়িক সমাজ-ইতিহাসের ও অর্থনৈতিক ইতিহাসের বহু তথ্য পাওয়া যায়। বিদেশিদের রচনাতেই ধরা পড়েছে। ভারতের সামাজিক প্রথা ও প্রতিষ্ঠানগুলির বীভৎস রূপ। 

এ প্রসঙ্গে বলা যায় যে, হিন্দু বা মুসলমান কোন সম্প্রদায়েরই কবি, লেখক ও ধর্মসংস্কারক ভারতের সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানের অমানবিক দিকটি উন্মােচিত করার কথা চিন্তা করেন নি। তাই তাঁদের রচনায় দাসপ্রথা, সহমরণ, অস্পৃশ্যতা, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ প্রভৃতি ভারতীয় সমাজের বিদেশি পর্যটকদের নিষ্ঠুর প্রথার নিন্দনীয় দিকগুলি বিস্ময়করভাবেই অনুপস্থিত। 

ভারতে বিবরণী হিন্দু-মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের চোখেই সামাজিক কুপ্রথাগুলি সমাজ-সংগঠনের স্বাভাবিক অঙ্গ রূপে বিবেচিত হত। কিন্তু বিদেশি পর্যটকগণ ঐসব নৃশংস ও অমানুষিক সামাজিক কুপ্রথাগুলি দেখে বিস্মিত হয়েছেন। তাই দেশে ফিরে গিয়ে ভারতীয় শাসকদের রুষ্ট দৃষ্টির বাইরে থেকে নির্ভয়ে মােহমুক্ত মন নিয়ে বিদেশি পর্যটকগণ মধ্যযুগের ভারতের কথা লিখেছেন। ভারতীয় সূত্র থেকে এই সব বিষয় জানা অনেকক্ষেত্রেই সম্ভব হত না। তবে বিদেশি পর্যটকদেরও কিছু কিছু ত্রুটি ছিল। দু-একজন ছাড়া অধিকাংশ বিদেশি পর্যটকদের গতিবিধি উপকূলবর্তী শহর বা সমুদ্র উপকূল সন্নিহিত অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল। তাদের অবস্থানের সময়ও অল্প ছিল। তাদের অনেকেই ভারতীয়দের স্থানীয় ভাষা জানতেন না। ফলে ভারতের রাষ্ট্র, অর্থনীতি বা সমাজের বহু বিষয় তাঁদের কাছে অস্পষ্ট বা দুর্বোধ্য ছিল।  

সুলতানি যুগে প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান থেকে লিখিত ইতিহাসের বৈশিষ্ট্য 

সুলতানি যুগের লিপি, স্থাপত্য, মুদ্রা, চিত্রকলা, রাজপুত চিত্রকলা, সমকালীন ফার্সি, উর্দু ও স্থানীয় সাহিত্য থেকে বহু ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায়। মুসলিম যুগের গােড়ার দিকের ঐতিহাসিক উপাদানগুলি আরবি ও তুকী ভাষায় লিখিত ছিল। তুর্কী শাসন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে পারসিক historiography-র ধারা ভারতে ফার্সি ভাষার পৃষ্ঠপােষকতা চালু হয়। এই যুগে তাই বেশির ভাগ রচনাগুলি ছিল ফার্সি ভাষায় লিখিত। পশ্চিম এশিয়ার মার্জিত ও পরিশীলিত ভাষা হিসেবে ফার্সি পরিগণিত হয়। ফলে ভারতে তুর্কী শাসকরা ফার্সি ভাষার পৃষ্ঠপােষকতা করেন। এজন্য সরকারি নথিপত্র ও ঐতিহাসিক উপাদানগুলি ফার্সি ভাষায় রচিত।

File Details
File Name/Book Nameসুলতানি যুগের ইতিহাস রচনার উপাদানের বৈশিষ্ট্য
File FormatPDF
File LanguageBengali
File Size102 KB
File LocationGOOGLE DRIVE
Download LinkClick Here to Download PDF File
Join Telegram Members

Leave a Comment