নবমশ্রেনীর ইতিহাস তৃতীয় অধ্যায় 2 নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর: উনবিংশ শতকের ইউরোপ রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাত 

প্রিয় বন্ধুরা আজকে এই পোষ্টের মাধ্যমে নবমশ্রেনীর ইতিহাস তৃতীয় অধ্যায় 2 নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর: উনবিংশ শতকের ইউরোপ রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাত |নবম শ্রেণীর তৃতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর|নবম শ্রেণীর 2 নম্বরের প্রশ্ন উত্তর|ক্লাস নাইন প্রশ্ন উত্তর |ক্লাস 9 তৃতীয় অধ্যায়ের প্রশ্ন উত্তর|পশ্চিমবঙ্গের নবম শ্রেণীর দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রশ্ন উত্তর|দ্বিতীয় পর্বের পরীক্ষার ইতিহাস প্রশ্ন উত্তর|নবম শ্রেণী উনবিংশ শতকের ইউরোপ রাস্তাটির জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাত থেকে প্রশ্ন উত্তর|Class 9 prosno uttor 2 Marks|3rd Chapter question and answers|WBBSE History 3rd Chapter Question and Answers

নবমশ্রেনীর ইতিহাস তৃতীয় অধ্যায় 2 নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর

জাতীয়তাবােধ বলতে কী বােঝাে?

উ:-জাতীয়তাবােধ হল একটি সূক্ষ্ম অনুভূতির বিষয়। মাতৃভূমিকে ভালােবাসার ধারণা থেকেই জন্মায় জাতীয়তাবােধ।এর দ্বারা একটি দেশের সকল নাগরিক ঐক্যবদ্ধ হয়।

কে, কবে এবং কোন গ্রন্থে ‘রাষ্ট্র’ কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন? 

উ:-1513 খ্রিস্টাব্দে মেকিয়াভেলি প্রথম তাঁর দ্য প্রিন্স গ্রন্থে রাষ্ট্র কথাটি ব্যবহার করেন।

ভিয়েনা কংগ্রেসের উদ্দেশ্য কী ছিল ?

ভিয়েনা কংগ্রেসের উদ্দেশ্য ছিল-ফরাসি বিপ্লবের পূর্বেকার ইউরােপের রাজনৈতিক মানচিত্র পুনর্গঠিত করা। ইউরােপে শক্তিসাম্য প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদি।

‘ন্যায্য অধিকার’ নীতি কী ?

1815-এর ভিয়েনা কংগ্রেসে যে নীতি দ্বারা বলা হয় যে, ফরাসি বিপ্লবের পূর্বে ইউরােপের যে যে দেশে যে যে রাজবংশ ছিল সেখানে সেই সেই রাজবংশ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। সেই নীতিকেই বলা হয় ন্যায্য অধিকার নীতি।

শক্তিসাম্য নীতি বলতে কী বােঝাে?

সম্রাট নেপােলিয়নের পতনের পর ফ্রান্স যাতে পুনরায় শক্তি বৃদ্ধি করে ইউরােপের শান্তি বিঘ্নিত করতে না পারে তার জন্য ভিয়েনা সম্মেলনের প্রতিনিধিরা ইউরােপে একটি শক্তিসাম্যের বলয় গড়ে তােলার জন্য যে নীতি গ্রহণ করে, তাকেই বলা হয় শক্তিসাম্য নীতি।

ক্ষতিপূরণ নীতি’ বলতে কী বােঝাে?

নেপােলিয়ন তথা ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ইউরােপের অনেক দেশ আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছিল। ভিয়েনা কংগ্রেস যে-নীতি বা ব্যবস্থা দ্বারা তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে, তাকে বলা হয় ক্ষতিপূরণ নীতি।

ন্যায্য অধিকার নীতি কী ভাবে প্রযােজ্য হয় ?

ন্যায্য অধিকার নীতি দ্বারা ইউরােপের বিভিন্ন দেশে যে যে রাজবংশ রাজত্ব করত, তাদের পুনরায় বহাল করা হয়। এই নীতি দ্বারা ফ্রান্সে বুরবো বংশ, হল্যান্ডে অরেঞ্জ বংশ, সার্ডিনিয়ায় স্যাভয় রাজবংশ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া মধ্য ইটালিতে পােপের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।

শক্তিসাম্য নীতি ইউরােপে কীভাবে বলবৎ করা হয় ?

শক্তিসাম্য নীতি দ্বারা ফ্রান্সের রাজ্যসীমা ফরাসি বিপ্লবের পূর্বেকার মতাে করা হয়। ফ্রান্সের সেনাদল ভেঙে দেওয়া হয়।  ফ্রান্সের চারিদিকে শক্তিশালী রাষ্ট্রবলয় গড়ে তােলা হয়। ফ্রান্সের ওপর বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণের বােঝা চাপিয়ে দেওয়া হয় ইত্যাদি।

ক্ষতিপূরণ নীতি কীভাবে অনুসৃত হয় ?

 ক্ষতিপূরণ নীতি দ্বারা অস্ট্রিয়া লাভ করে ভেনিসিয়া, লম্বার্ডি, ব্যাভেরিয়া, পূর্ব সাইলেশিয়া ইত্যাদি। প্রাশিয়া পায় উত্তর স্যাক্সনি, রাইন তীরের উভয় দিকের অংশবিশেষ। রাশিয়া পায় ফিনল্যান্ড, বেসারাবিয়া, পােল্যান্ডের কিছু অংশ।  ইংল্যান্ড পায় মাল্টাদ্বীপ, ত্রিনিদাদ, হােলিগােল্যান্ড ইত্যাদি।

‘মেটারনিখ যুগ’ বলতে কী বােঝাে?

1815-1848 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে মেটারনিখ যুগ বলা হয়। কারণ এই সময় ইউরােপীয় রাজনীতির ভাগ্যনিয়ন্তা ছিলেন মেটারনিখ। তাঁরই অঙ্গুলি হেলনে ইউরােপের রাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হয়। তিনি ছিলেন বিপ্লব বিরােধী তথা রক্ষণশীলতার প্রতিমূর্তি।

মেটারনিখ ব্যবস্থা বা মেটারনিখতন্ত্র কী ?

রক্ষণশীলতায় বিশ্বাসী মেটারনিখ ইউরােপকে প্রাকৃবিপ্লব যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এবং ইউরােপীয় রাজনীতিতে অস্ট্রিয়ার প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার জন্য যে-ব্যবস্থা বা নীতি অনুসরণ করেন, তাকেই বলা হয় মেটারনিখ ব্যবস্থা।

মেটারনিখ ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য কী ছিল? 

উত্তর মেটারনিখ ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য ছিল ভিয়েনা সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি বজায় রাখা এবং দমনপীড়নের মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লব প্রসূত জাতীয়তাবাদ, উদারনীতিবাদ ও গণতান্ত্রিক ভাবধারার প্রতিরােধ করা ।

কার নেতৃত্বে ইউরােপীয় শক্তি সমবায় গঠন করা হয় এবং কেন?

মেটারনিখের নেতৃত্বে ইউরােপীয় শক্তি সমবায় গঠন করা হয়। কারণ এই সমবায়ের উদ্দেশ্য ছিল ইটালি, জার্মানি এবং ইউরােপের বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দমন করা।

কাকে, কেন ইউরােপের প্রধানমন্ত্রী’ বলা হত ?

মেটারনিখ ছিলেন রাজতন্ত্রের উগ্র সমর্থক। তিনি ছিলেন গণতন্ত্র তথা বিপ্লব বিরােধী। 1815-1848 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তারই অঙ্গগুলি হেলনে ইউরােপের রাজনীতি পরিচালিত হয় এবং তাঁরই প্রচেষ্টায় ইউরােপে কিছুদিনের জন্য পরিবর্তনের হাওয়া বন্ধ থাকে। তিনি গ্রিসসহ ইউরােপের যে-কোনাে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে গলা টিপে হত্যা করেন। এজন্য তাঁকে ইউরােপের প্রধানমন্ত্রী বলা হয়।

কার্লসড ডিক্রি কী?

কার্লসড ডিক্রি (1819 খ্রিস্টাব্দ) হল মেটারনিখ প্রবর্তিত এক দমনপীড়নমূলক নির্দেশনামা। এর মাধ্যমে জার্মানির রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনগুলিকে নিষিদ্ধ করা হয়, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করা হয় এবং ছাত্র ও অধ্যাপকদের পিছনে গােয়েন্দা নিয়ােগ করা হয়।

কবে, কীভাবে মেটারনিখের পতন হয় ?

1848 খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সে ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের পর জার্মানির বিভিন্ন রাজ্যে দারুণ গণজাগরণ দেখা দেয়। তার প্রভাব পড়ে ভিয়েনাতে। ফলে মেটারনিখ পদচ্যুত হন এবং ইংল্যান্ডে পালিয়ে যান। এইভাবে ইউরােপ থেকে মেটারনিখ তথা মেটারনিখতন্ত্রের পতন হয়।

‘জুলাই রাজতন্ত্র বলতে কী বােঝাে? 

উত্তর 1830 খ্রিস্টাব্দে জুলাই বিপ্লবের পর ফ্রান্সে লুই ফিলিপ সিংহাসন বসেন। এজন্য লুই ফিলিপের নেতৃত্বাধীন ফরাসি রাজতন্ত্রকে জুলাই রাজতন্ত্র বলা হয়। এই রাজতন্ত্র 1830-1848 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত টিকেছিল।

লুই ফিলিপ কেন নাগরিক রাজা’ বলে পরিচিত ছিলেন ?

অর্লিয়েন্স বংশের শাসক লুই ফিলিপ ফ্রান্সের জনগণের ইচ্ছায় শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। ঈশ্বর নন; জনগণই ছিল তাঁর ক্ষমতার উৎস। তাই তিনি ফ্রান্সের জনসাধারণের সঙ্গে নিজেকে এক করে ‘নাগরিক রাজা’ বলে পরিচয় দিতেন।

জুলাই অর্ডিন্যান্স’ কী ? 

1830 খ্রিস্টাব্দের 25 জুলাই লুই ফিলিপের মন্ত্রী পলিনাক এক অর্ডিন্যান্স জারি করেন। এই অর্ডিন্যান্সে a)ফরাসি প্রতিনিধি সভা ভেঙে দেওয়া হয়, b)ভােটাধিকার সংকোচন করা হয় c)সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করা হয় এবং ঐ জাতীয়সভা পুনর্নির্বাচনের কথা বলা হয়। একেই বলা হয় ‘জুলাই অর্ডিন্যান্স।

জুলাই বিপ্লবের মূল কারণ কী?

1824 খ্রিস্টাব্দে মধ্যপন্থী বুরবো রাজা অষ্টাদশ লুইয়ের মৃত্যুর পর তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা দশম চার্লস সিংহাসনে বসেন। তিনি পুরাতনতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলে 1830 খ্রিস্টাব্দে জুলাই বিপ্লব শুরু হয়।

জুলাই বিপ্লবের জন্য পলিগন্যাক কতটা দায়ী ছিলেন ?

ফরাসি রাজা দশম চার্লসের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন পলিগন্যাক। তাঁর পরমর্শে দশম চার্লস 1830 খ্রিস্টাব্দের 26 জুলাই চারটি অর্ডিন্যান্স বা জরুরি আইন জারি করেন। এই অর্ডিন্যান্সে জনসাধারণের অর্জিত অধিকারকে সংকুচিত করা হয়। ফলে এই সময় ফ্রান্সের সর্বত্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের মধ্যদিয়ে বিপ্লব শুরু হয় (1830 খ্রিস্টাব্দে)।

‘জুলাই বিপ্লবকে রক্ষণশীল বিপ্লব’ বলা হয় কেন ?

জুলাই বিপ্লবকে ‘রক্ষণশীল বিপ্লব’ বলা হয়, কারণ এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সে কোনাে চমকপ্রদ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিবর্তন হয়নি। এই বিপ্লব ছিল শান্তিপূর্ণ ও ক্ষণস্থায়ী।

জুলাই বিপ্লবকে কেন একটি বুর্জোয়া বিপ্লব’ হয়? 

ঐতিহাসিক তকভিল জুলাই বিপ্লবকে একটি বুর্জোয়া বিপ্লব’ আখ্যা দিয়েছেন। কারণ এই বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে ফ্রান্সের রাজনীতিতে মধ্যবিত্তশ্রেণির প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

ফরাসি দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র’ বলতে কী বােঝাে? 

1848 খ্রিস্টাব্দে ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটানাে হয়। রাজতন্ত্রের বদলে ফ্রান্সে দ্বিতীয়বার (অর্থাৎ 1792 খ্রিস্টাব্দের পর) প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এজন্য একে ‘দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র বলা হয়।

কে, কবে ফ্রান্সে দ্বিতীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন?

1852 খ্রিস্টাব্দে লুই নেপােলিয়ন ওরফে তৃতীয় নেপােলিয়ন ফ্রান্সে দ্বিতীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

ফরাসি দ্বিতীয় সাম্রাজ্য বলতে কী বােঝাে?

1848 খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলেও তৃতীয় নেপােলিয়ন ফ্রান্সে পুনরায় (অর্থাৎ 1804 খ্রিস্টাব্দে নেপােলিয়ন বােনাপার্ট কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত প্রথম সাম্রাজ্যের পর) 1852 খ্রিস্টাব্দে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। এজন্য তৃতীয় নেপােলিয়ন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রাজতন্ত্র তথা সাম্রাজ্যকে বলা হয় দ্বিতীয় সাম্রাজ্য।

ইটালি কীভাবে ‘ভৌগােলিক সংজ্ঞায় পরিণত হয়েছিল ?

বহু শতক ধরেই ইটালি নামক দেশটি বহুশত রাজ্যে বিভক্ত ছিল। প্রত্যেক রাজ্যেই বিদেশি শাসকরা শাসন করতেন। ফলে ইটালির কোনাে জাতীয় সত্তা ছিল না। মেটারনিখ ইটালির এই অবস্থাকে বােঝাতে ‘ভৌগােলিক সংজ্ঞা’ কথাটি ব্যবহার করেছেন।

কার্বোনারি কী ?

1820-র দশকে ইটালিতে কার্বোনারি নামক একটি বিপ্লবী সমিতি গড়ে ওঠে। এর কাজ ছিল সন্ত্রাস ও গুপ্ত হত্যা। ‘কার্বোনারি’ কথাটি এসেছে ‘কার্বন’ শব্দ থেকে। কার্বোনারিরা ধর্মীয় প্রথা অনুসারে কাঠকয়লা পােড়াত। এজন্য এই বিপ্লবী সমিতির নাম হয় কার্বোনারি।

জোলভেরেইন কী

1819 খ্রিস্টাব্দে অস্ট্রিয়া বাদে জার্মানির বেশিরভাগ রাজ্যে প্রাশিয়ার নেতৃত্বে যে অন্তঃরাষ্ট্রীয় শুল্ক সংস্থা গঠিত হয়, তাকেই বলা হয় জোলভেরেইন।

‘রিসর্জিমেন্টো’ বলতে কী বােঝাে?

কার্বোনারি সমিতির হাত ধরে ইটালিতে এক জাতীয়তাবাদী জাগরণ তথা আন্দোলনের জন্ম হয়, যাকে বলা হয় রিসর্জিমেন্টো বা পুনরুত্থান বা নবজাগরণ। এই জাগরণের মধ্য দিয়ে ইটালিবাসী তাদের অতীত ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বীরগাথা সম্পর্কে বিশেষ অবগত হয়।

প্লমবিয়ার্স চুক্তি (1858 খ্রিস্টাব্দ)-র শর্তগুলি কী ছিল ?

পিডমন্ড-সার্ডিনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্যাভুর ও ফরাসি সম্রাট তৃতীয় নেপােলিয়নের মধ্যে প্লমবিয়ার্স চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তি অনুসারে স্থির হয়-(i) ইটালির ঐক্য আন্দোলনে ফ্রান্স অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে সর্বতােভাবে সাহায্য করবে, (ii) এই সাহায্যের বিনিময়ে ফ্রান্স স্যাভয় ও নিস লাভ করবে।

কবে, কাদের মধ্যে ভিল্লাফ্রাংকা সন্ধি হয় ?

1859 খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে ভিল্লাফ্রাংকার সন্ধি হয়।

লালকোর্তা বাহিনী ক?

ইটালির ঐক্য আন্দোলনকে সফল করতে গ্যারিবল্ডি গেরিলা যুদ্ধে পারদর্শী একটি বাহিনী গড়ে তােলেন। এই বাহিনীর লাল রঙের পােশাক পরত বলে এদের লালকোর্স বাহিনী বলা হয়।

ফ্রাংকফুর্টের সন্ধি কেন হয় ?

1870 খ্রিস্টাব্দে সেডানের যুদ্ধে পরাজিত হলেন ফরাসিরাজ তৃতীয় নেপােলিয়ন। 1871 খ্রিস্টাব্দে প্রাশিয়ার সঙ্গে ফ্রাংকফুর্টের সন্ধি স্বাক্ষর করেন।

কবে, কাদের মধ্যে ফ্রাংকফুর্টের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয় ?

1871 খ্রিস্টাব্দে প্রাশিয়া ও ফ্রান্সের মধ্যে ফ্রাংকফুর্টের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়।

‘রক্ত ও লৌহ নীতি’ কী ?

জার্মানির ঐক্য আন্দোলনের ভূতপূর্ব নেতা বিসমার্ক বিশ্বাস করতেন যে, একমাত্র কূটনীতি ও সামরিক শক্তি দিয়েই অস্ট্রিয়া ও ফ্রান্সকে পরাজিত করে জার্মানিকে ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব। বিসমার্কের এই নীতিকেই বলা হয় রক্ত ও লৌহ নীতি’।

কবে, কাদের মধ্যে গেস্টিনের সন্ধি হয় ?

ডেনমার্কের যুদ্ধে ডেনমার্ক পরাজিত হলে 1865 খ্রিস্টাব্দে প্রাশিয়ার সঙ্গে গেস্টিনের সন্ধি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়।

‘এমস টেলিগ্রাম’ বলতে কী বােঝাে?

জার্মানির ঐক্য আন্দোলনের সময় ফরাসি রাষ্ট্রদূত বেনেদিতি এমস নামক স্থানে প্রাশিয়ার রাজা প্রথম উইলিয়ামের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে স্পেনের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে উভয়ের কথা হয়। বেনেদিতির অনুরােধে ঠিক হয় স্পেনের সিংহাসনে প্রাশিয়ার রাজবংশীয় লিওপােন্ড কোনাে দাবি করবেন না। 1870 খ্রিস্টাব্দের 14 জুলাই এই কথা টেলিগ্রাম করে উইলিয়াম বিসমার্ককে জানান। এই টেলিগ্রাম ইতিহাসে এমস টেলিগ্রাম’ নামে খ্যাত।

জার্মানির ঐক্যসাধনে বিসমার্ক কোন্ কোন্ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন ?

বিসমার্ক তিনটি যুদ্ধের মাধ্যমে জার্মানির ঐক্যসাধন করেন। এই তিনটি যুদ্ধ হল-1864 খ্রিস্টাব্দে ডেনমার্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। 1866 খ্রিস্টাব্দে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে স্যাডােয়ার যুদ্ধ। এবং 3 1870 খ্রিস্টাব্দের ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সেডানের যুদ্ধ।

কনফেডারেশন অব দ্য রাইন’ কী ?

ফরাসি বিপ্লবের পূর্বে জার্মানি মােট 300টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যে বিভক্ত ছিল। এদের মধ্যে কোনাে রাজনৈতিক ঐক্য ছিল না। কিন্তু জার্মানি দখলের পর সম্রাট নেপােলিয়ন জার্মান রাজ্যগুলিকে 39টি রাজ্যে বিভক্ত করেন। এরপর 1806 খ্রিস্টাব্দে তিনি 28টি রাজ্য নিয়ে সেখানে একটি রাষ্ট্র সমবায় গড়ে তােলেন। এই সমবায়কেই বলা হয় কনফেডারেশন অব দি রাইন।

কত খ্রিস্টাব্দে ক্রিমিয়ায় যুদ্ধ শুরু হয় ? কোন্ সন্ধি দ্বারা এই যুদ্ধের নিষ্পত্তি হয় ?

1854 খ্রিস্টাব্দে ক্রিমিয়ায় যুদ্ধ শুরু হয়। 1856 খ্রিস্টাব্দে প্যারিসের সন্ধি দ্বারা এই যুদ্ধের নিষ্পত্তি হয়।

কাকে, কেন মুক্তিদাতা জার’ বলা হয় ?

রাশিয়ার জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডারকে মুক্তিদাতা জার বলা হয়, কারণ 1861 খ্রিস্টাব্দে ‘মুক্তির আইন দ্বারা রাশিয়ার সাফদের তিনি মুক্তি দিয়েছিলেন।

‘Edict of Emancipation’ (মুক্তিনামা) কী ? 

জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার রাশিয়ায় ভূমিদাস প্রথা অবসানের জন্য 1861 খ্রিস্টাব্দে যে-মুক্তির নির্দেশ জারি করেন তাকে ‘Edict of Emancipation’ (মুক্তিনামা) বলে।

কাকে, কেন ইউরােপের রুগ্ন মানুষ’ বলা হয় ? 

উনিশ শতকে নানা কারণে তুরস্ক সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। এজন্য রাশিয়ার জার প্রথম নিকোলাস ব্যঙ্গ করে তুরস্ককে ‘ইউরােপের রুগ্ন মানুষ’ আখ্যা দিয়েছিলেন।

কত খ্রিস্টাব্দে, কাদের মধ্যে স্যাডােয়ার যুদ্ধ হয় ? 

1866 খ্রিস্টাব্দে অস্ট্রিয়া ও প্রাশিয়ার মধ্যে স্যাডােয়ার যুদ্ধ হয়।

কত খ্রিস্টাব্দে, কাদের মধ্যে সেডানের যুদ্ধ হয় ? 

1870 খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্স ও প্রশিয়ার মধ্যে সেডানের যুদ্ধ হয়।

File Details
File Name/Book Nameনবমশ্রেনীর তৃতীয় অধ্যায় 2 নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর
File FormatPDF
File LanguageBengali
File Size218 KB
File LocationGOOGLE DRIVE
Download LinkClick Here to Download PDF File
Join Telegram Members

Leave a Comment