সন্ত্রাসের রাজত্ব বলতে কী বোঝো? ফ্রান্সে সন্ত্রাসের রাজত্বের কারণ ও সুফল-কুফল গুলি আলোচনা করো

প্রিয় বন্ধুরা আজকে এই পোষ্টের মাধ্যমে তোমরা সন্ত্রাসের রাজত্ব বলতে কী বোঝো? ফ্রান্সে সন্ত্রাসের রাজত্বের কারণ ও সুফল কুফল আলোচনা করো। এই প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কে আলোচনা পেয়ে যাবে। এছাড়াও তোমরা এই পোষ্টের মাধ্যমে যে সমস্ত প্রশ্নগুলির উত্তর পাবে সেগুলি হল- সন্ত্রাসের শাসন সম্পর্কে টীকা, ফ্রান্সে সন্ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠার কারণ, সন্ত্রাসের,রাজত্বের কার্যাবলী, সন্ত্রাসের শাসন সম্পর্কে টীকা,লাল সন্ত্রাস বলতে কী বোঝো,সন্দেহের আইন বলতে কী বোঝো?সন্ত্রাসের রাজত্বের নায়ক কে ছিলেন?,সন্ত্রাসের রাজত্ব বলতে কী বোঝায় The Reign of Terror বলতে কী বোঝ ইত্যাদি সমস্ত প্রশ্নের উত্তর তোমরা এই পোষ্টের মাধ্যমে পাবে। তো বন্ধুরা তোমরা শেষ পর্যন্ত এই প্রতিবেদন পড়লে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবে।

সন্ত্রাসের রাজত্ব বলতে কী বোঝো?|ফ্রান্সে সন্ত্রাসের রাজত্বের কারণ ও সুফল কুফল আলোচনা করো 

Table of Contents

সন্ত্রাসের রাজত্ব বলতে কি বোঝ?|The Reign of Terror বলতে কী বোঝো 

ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাসে এক অতি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হল ফ্রান্সে সন্ত্রাসের শাসন। ২রা জুন, ১৭৯৩ থেকে ২৭শে জুলাই, ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় তেরাে মাস জ্যাকোবিনরা ফ্রান্সে যে ধরণের শাসন কাঠামো গঠন করেছিলেন তা ইতিহাসে সন্ত্রাসের শাসন বা Reign of Terror নামে নামে পরিচিত।  

ফ্রান্সে সন্ত্রাসের রাজত্বের কারন গুলি আলোচনা কর|ফ্রান্সে সন্ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠার কারণ

সন্ত্রাসের রাজত্বকালে ফ্রান্সের ইতিহাসে যে ধরনের আত্মঘাতী ও হিংসাশ্রয়ী ঘটনা ঘটে, সমগ্র বিশ্বের ইতিহাসে তা বিরল। এই হিংসাত্মক ঘটনার কারণ সম্পর্কে ঐতিহাসিকরা নানা কথা বলেছেন-

(১) তেইন (Taine) বলেন যে, বিপ্লবের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ফ্রান্সে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের পরিবর্তে কিছু উগ্র অসাধু ও ক্ষমতালােভী মানুষের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। তারাই গণতন্ত্রের নামে গণতন্ত্র বিধ্বংসী সন্ত্রাসমূলক কাজে অবতীর্ণ হয়। 

(২) ওলার(Aulard)এর মতে, বৈদেশিক যুদ্ধই সন্ত্রাসের শাসন নিয়ে আসে। শত্রু-বেষ্টিত ফ্রান্সের জন্য আত্মরক্ষার অন্য কোনও বিকল্প পথ খােলা ছিল না। তার মতে, দেশ ও বিপ্লবকে রক্ষা করার জন্য এমন কঠোর ও হৃদয়হীন শাসন অপরিহার্য ছিল।

(৩)জোরেস (Jaures) মাতিয়ে (Mathiez) প্রমুখের মতে, কেবলমাত্র যুদ্ধজয় নয়- সমাজ-বিপ্লব প্রতিষ্ঠা এবং সাকুলেৎদের দাবি-দাওয়া মিটিয়ে দেওয়ার জন্য জেকোবিন দল সন্ত্রাসের আশ্রয় গ্রহণ করেছিল। 

(৪) অধ্যাপক সবুল (Soboul) বলেন যে, সাঁকুলেৎদের প্রবল চাপের মুখে পড়েই জেকোবিন দল সন্ত্রাসের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে বাধ্য হয়।

(৫)অধ্যাপক ডেভিড টমসন (David Thomson)-এর মতে, প্রচলিত শাসনব্যবস্থা দ্বারা দেশের অভ্যন্তরে প্রতি-বিপ্লবী আন্দোলন এবং বৈদেশিক আক্রমণ একত্রে মােকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছিল না এ জন্যই সন্ত্রাস অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

(৬)সিডেনহাম (Sydenham) সন্ত্রাসকে আরও ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করে বলেছেন যে, দেশরক্ষার প্রয়ােজন সন্ত্রাসের মৌলিক বা একমাত্র কারণ নয়। বাস্তিলের পতনের পর থেকে ফ্রান্সে যে হিংসার পরিবেশ গড়ে ওঠে সন্ত্রাস তারই সন্তান।

সন্ত্রাসের রাজত্বের গঠনে বৈদিক আক্রমণের প্রভাব :-

ষােড়শ লুইয়ের প্রাণদণ্ডের (২১শে জানুয়ারি, ১৭৯৩ খ্রিঃ) ফলে ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রীয় ব্যাপারে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। ইউরােপের বিভিন্ন দেশের স্বৈরাচারী রাজন্যবর্গ আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন এবং তারা বিপ্লবী ফ্রান্সের বৈদেশিক আক্রমণ বিরুদ্ধে একটি শক্তিজোট গঠন করেন। ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ড, অস্টিয়া, প্রাশিয়া, স্পেন, পর্তুগাল, সার্ডিনিয়া ও নেপলস্ ফ্রান্সের বিরুদ্ধে প্রথম শক্তিজোট শক্তি জোট গঠন এবং দ্রুত ফ্রান্স অভিমুখে অগ্রসর হয়। 

ইউরােপের বিভিন্ন রণাঙ্গনে ফরাসি পরাজিত হতে থাকে। ফরাসি সেনাপতি দ্যুমুরিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করে অস্ট্রিয়ারপক্ষে যােগদান করেন। শত্রু বাহিনী ফ্রান্সের উত্তর-পূর্ব সীমানা অতিক্রম করে দ্রুত প্যারিস অভিমুখে অগ্রসর হয়। এর ফলে নবগঠিত ফরাসি প্রজাতন্ত্র ও জাতির নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত হয়।

সন্ত্রাসের রাজত্ব গঠনে অভ্যন্তরীণ কারণ 

তখন চলছে চরম অরাজকতা ও প্রতি-বিপ্লবী আন্দোলন। চরম খাদ্যাভাব, নিত্যপ্রয়ােজনীয় দ্রব্যাদির মহার্ঘত ও অভাব এবং খাদ্যের সন্ধানে প্যারিসে বহিরাগতদের ভিড় জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। জনসাধারণের এক অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বৃহদংশ তখন প্রকাশ্যে প্রজাতন্ত্রী সরকারের বিরােধিতা করতে থাকে, সরকারি আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রকাশ করে এবং কর প্রদানে ও সেনাদলে যােগদানে অসম্মত হয়। বিদেশি গুপ্তচরে দেশ ছেয়ে যায়।

ফ্রান্স তখন মজুতদার, কালােবাজারি ও ফাটকাবাজদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়। রাজতন্ত্রের সমর্থকরা বিভিন্ন স্থানে বিপ্লবী সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘােষণা করে। লা-ভেণ্ডি, ব্ৰিতানি, লায়নস্, তুলোঁ, বােদ, মাসেহ প্রভৃতি স্থান ছিল রাজতন্ত্রীদের প্রধান ঘাঁটি। ফ্রান্সের ৮৩টি প্রদেশ (ডিপার্টমেন্ট)-এর মধ্যে ৬০টি প্রদেশেই বিদ্রোহ শুরু হয়। লা ভেণ্ডি-র বিদ্রোহী কৃষকদের সঙ্গে ক্ষুব্ধ যাজকরাও (ধর্মযাজকদের সংবিধানের জন্য) যােগ দেন। 

জাতীয় জীবনের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশ ও জাতির স্বার্থে বিপ্লবী নেতৃবৃন্দ ফ্রান্সে এক বিশেষ ধরনের শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। তারা উপলব্ধি করেন যে, প্রজাতন্ত্র অক্ষুন্ন রাখতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়ােজন জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং দেশে শৃঙ্খলা স্থাপন—যা সম্ভব একমাত্র ভীতি প্রদর্শন ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে। ন্যাশনাল কনভেনশন সিদ্ধান্ত নেয় যে, জরুরি পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের সরকার হবে বিপ্লবী এবং যতদিন না দেশে শান্তি ফিরে আসে এই ব্যবস্থাই চলতে থাকবে। তারা প্রচার করতে থাকেন যে, সন্ত্রাসই হচ্ছে দ্রুত ও বলিষ্ঠ ন্যায়বিচারের পথ। 

ফ্রান্সের বিভিন্ন সংগঠন 

অধ্যাপক ডেভিড টমসন-এর মতে, সন্ত্রাসের রাজত্বের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ছিল তিনটি—জেকোবিন ক্লাব, কমিউন এবং কনভেনশনের বিভিন্ন কমিটি।

(১) জেকোবিন ক্লাব ছিল সন্ত্রাসের প্রাণকেন্দ্র। বিপ্লবের সন্ত্রাসের সাংগঠনিক প্রাক্কালে সারা দেশ জুড়ে এর এক হাজারেরও বেশি শাখা ছিল। ভিত্তি এগুলির কাজ ছিল জনমত গঠন, আইনসভার উপর চাপ সৃষ্টি এবং প্রতি-বিপ্লবীদের দমন। এই ক্লাবই ছিল তৎকালীন ফ্রান্সের একমাত্র সক্রিয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।

(২) প্যারিস এবং বিভিন্ন শহর ও গ্রামে প্রচুর কমিউন বা পৌর প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এগুলির সঙ্গে জেকোবিন দল ও সাঁকুলেৎ জনতার গভীর যােগাযােগ ছিল। এগুলি বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সামরিক কাজকর্ম করত এবং নানাভাবে আইনসভার উপর চাপ সৃষ্টি করত। 

(৩) জাতীয় মহাসভার বিভিন্ন কমিটিগুলি-ও এ সম্পর্কে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। 

সন্ত্রাসের সাংবিধানিক ভিত্তিঃ

সন্ত্রাসের শাসন কে কার্যকর করার জন্য নিয়মিত সংবিধানকে অকার্যকর করে রাখা হয়। জাতীয় মহাসভা’-র হাতে চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকলেও এই সভা কয়েকটি কমিটির হাতে সন্ত্রাসের সাংবিধানিক সব ক্ষমতা তুলে দেয়। এই শাসনব্যবস্থায় প্রধান সংগঠন ছিল-

গণনিরাপত্তা সমিতি 

(১) গণ-নিরাপত্তা সমিতি(Committee of Public Safety):- এর ভিত্তি সদস্য সংখ্যা প্রথমে ছিল নয়, তারপর তা বৃদ্ধি করে বারাে করা হয়। এই কমিটির হাতেই সকল প্রশাসনিক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত ছিল। এই কমিটিই শাসন পরিচালনার নীতি-নির্ধারণ এবং দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার সকল দায়িত্ব পালন করত। এই কমিটিই মন্ত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করত, সেনাপতি নিয়ােগ করত এবং বৈদেশিক নীতি নির্ধারণ করত। কনভেনশন বিনা প্রশ্নে এই কমিটির সব সিদ্ধান্ত মেনে নিত। রােবসপিয়র ছিলেন এই কমিটির সর্বেসর্বা। 

সাধারণ নিরাপত্তা সমিতি 

(২) সাধারণ নিরাপত্তা সমিতি (Committee of General Security):- এই কমিটির হাতে সারা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা, পুলিশ বিভাগ প্রভৃতির দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল। এই কমিটিকে সাহায্য করার জন্য এক বিশাল সেনাবাহিনী গঠন করা হয়। এই কমিটির অধীনে ছিল অসংখ্য বিপ্লবী কমিউন ও সমিতি, যারা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করত। 

সন্দেহের আইন 

(৩)সন্দেহের আইন’ (‘Law of Suspect’):- ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে বিধিবদ্ধ হওয়া সন্দেহের আইন’ (‘Law of Suspect’) নামক এক আইন অনুসারে বিপ্লব-বিরােধী সন্দেহে যে কোনও ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা যেত এবং বিপ্লবী আদালতে তার বিচার হত। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের জন্য সমগ্র ফ্রান্সে ৫০ হাজার বিপ্লবী কমিটি গঠিত হয়।

বিপ্লবী বিচারালয় 

(৪)বিপ্লবী বিচারালয় (Revolutionary Tribunal):- নামক আদালতে এইসব অভিযুক্তের বিচার হত এবং এই আদালতের সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত। এই আদালত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের অপরাধ যাচাই না করেই তাদের মৃত্যুদণ্ড দিত। 

(৫) অপরাধী ব্যক্তিদের প্রকাশ্য রাজপথ দিয়ে ‘বিপ্লবের বধ্যভূমি’ (Square of Revolution) তে এনে ডাঃ গিলােটিন (Guillotine) নামক জনৈক ব্যক্তির আবিষ্কৃত গিলােটিন নামক যন্ত্রের সাহায্যে তাদের শিরচ্ছেদ করা হত।

সন্ত্রাসের রাজত্বের ইতিহাস 

সন্ত্রাসের ইতিহাস ও সন্ত্রাসের শাসনকালকে তিনটি পর্বে ভাগ করা যায়। 

(১) জিরণ্ডিন ও জেকোবিন দল একত্রে সন্ত্রাসের সূচনা করলেও অচিরেই তাদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। দুই দলের আদর্শগত সংঘাত এবং দুই দলের তিনটি পর্ব নেতৃবৃন্দের ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষাই এই বিবাদের কারণ। জাতীয় মহাসভায় জিরণ্ডিন দল সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও খাদ্যাভাব, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বৈদেশিক যুদ্ধে পরাজয় প্রভৃতি কারণে তাদের জনপ্রিয়তা নষ্ট হয়। এছাড়া, তাদের মধ্যবিত্ত-ঘেঁষা নীতিও জেকোবিনদের পছন্দ হয় নি। 

(২) এই অবস্থায় সাকুলেৎ জনতার সমর্থিত জেকোবিনদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। এই পর্বেমধ্যপন্থী বা Plain গােষ্ঠীর নেতারাও জেকোবিনদের সমর্থন জানান। এই পর্বে জেকোবিন দলের তিনজন উল্লেখযােগ্য নেতা ছিলেন হিবার্ট (Hebert), দাঁতাে (Danton) ও রােবসপিয়র (Robespierre)। এছাড়া অন্যান্য নেতাদের মধ্যে ছিলেন ল্যাসার কার্নো (Lazare Carnot), ফুশে (Fuoche), শার্লট কোর্দে (Charlotte Corday) প্রমুখ। এইসব নেতাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযােগ্য ছিলেন রোবসপিয়র—সন্ত্রাস শাসনের মূল পরিচালক ও কেন্দ্রীয় চরিত্র। নেতাদের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বাপেক্ষা আদর্শবাদী, সৎ, নিষ্ঠুর ও উল্লেখযােগ্য। 

(৩) হিবার্ট, দাঁত এবং জেকোবিন দলের অন্যান্য নেতাদের হত্যার পর ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল থেকে রােবসপিয়র সর্বেসর্বা হয়ে ওঠেন। তার একক নেতৃত্বে চরম সন্ত্রাস চলতে থাকে। ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল থেকে ২৭শে জুলাই তার বন্দি হওয়া পর্যন্ত সময়কাল ‘লাল সন্ত্রাস’ নামে পরিচিত। ২৮শে জুলাই গিলােটিনে তার মৃত্যু হয়। এখানে মনে রাখা দরকার যে সূচনা-পর্বে সন্ত্রাস রুদ্ররূপ ধারণ করে নি। নেতৃত্ব প্রয়ােজন ব্যতীত বলপ্রয়ােগ করতেন না। তাঁদের ইচ্ছা ছিল মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ও আনুগত্য সঞ্চার করা। এতে ঠিক ফললাভ না হওয়ায় নেতৃবৃন্দ যথার্থ সন্ত্রাসের পথ ধরতে বাধ্য হন।

সন্ত্রাসের রাজত্বের ভয়াবহতা সন্ত্রাসের রাজত্বের কার্যাবলী 

ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাসে তেরাে মাসের এই সন্ত্রাসের শাসনকাল এক রক্তাক্ত অধ্যায়। বিপ্লবী নেতৃবর্গ এ সময় যেন রক্ত-পিপাসায় মেতে ওঠেন। বিপ্লবের নামে তাঁরা প্রায় ৫০,০০০ নর-নারীকে গিলােটিনে হত্যা করেন। সন্দেহের আইনে গ্রেপ্তার করা প্রায় ৩ লক্ষ মানুষকে। বহু মানুষ নিখোঁজ হয়ে যায়, যাদের আর সন্ধান মেলেনি। এছাড়া, আরও বহু মানুষকে পাইকারি হারে তারা লুয়ার নদীর জলে ডুবিয়ে হত্যা করেন।

 মৃতদেহের পচনের ফলে লয়ার নদীর জল দূষিত হয়ে যায়। এই কালপর্বে যাঁরা প্রাণ দেন তাদের মধ্যে উল্লেখজনক হলেন রানি মেরি আঁতােয়ানেত, জিরণ্ডিন দলের পরামর্শদাত্রী মাদাম রোলা, ব্রিসে, বারনাভ, বৈজ্ঞানিক বেইলি, জিরণ্ডিন দলের বেশ কিছু নেতৃবৃন্দ এবং বহু বিশিষ্ট ফরাসি সন্তান। বিপ্লবী নেতা ও জেকোবিন দলের সদস্য হিবার্ট ও দাঁতাে অবিরাম রক্তপাতের বিরুদ্ধে মতামত ব্যক্ত করতে থাকলে ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দের মার্চ ও এপ্রিলে রােবসপিয়রের নির্দেশে তাদের পরপর সন্ত্রাসের ভয়াবহতা হত্যা করা হয়।

লাল সন্ত্রাস 

সব প্রতিদ্বন্দ্বীকে একে একে সরিয়ে রােবসপিয়র সর্বেসর্বা হয়ে ওঠেন। ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১৩ই এপ্রিল থেকে ২৭শে জুলাই পর্যন্ত তাঁর একক নেতৃত্বে সন্ত্রাস চলতে থাকে। বলা হয় যে, এই পর্বে ক্ষেতের ফসলের মতাে মানুষের মাথা কাটা লাল সন্ত্রাস পড়ে (harvest of human heads’)। কেবলমাত্র সন্দেহের আইনে’ ৪৫২৫ জন বন্দি হন। ঠিক কতাে মানুষ নিহত হয়, তা বলা দূরূহ। এই পর্ব বা ঘটনা ‘লাল সন্ত্রাস’ (Red Terrorism) নামে পরিচিত। 

সন্ত্রাসের রাজত্বের অবসান 

প্রকৃতপক্ষে এ সময় সন্ত্রাসের প্রয়ােজন ফুরিয়ে গিয়েছিল। ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দের জুনে সেনাপতি জর্ডানের যুদ্ধজয়ের পর বিদেশি আক্রমণের সম্ভাবনা একরকম মুছে গিয়েছিল। এছাড়া লিয়ঁ, মার্সেই, তুলোর বিদ্রোহও দমিত হয়েছিল। এইসব কারণে আর সন্ত্রাসের প্রয়ােজন ছিল না। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এ সময় রােবসপিয়র কেবলমাত্র সন্ত্রাসকে অব্যাহতই রাখলেন না, বরং তাকে আরও কেন্দ্রীভূত ও কঠোরতর করেন। ১০ই জুন ‘প্রেইরিয়াল’ (Prireal) নামে এক আইন পাস করে বিচারালয়ের ক্ষমতা আরও বাড়ানাে হয়। ন্যাশনাল কনভেনশনের সদস্যরাও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার হারান। এর ফলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। জেকোবিন, জিরণ্ডিন ও মধ্যপন্থী দলের আতঙ্কিত সদস্যরা সমবেতভাবে রােবসপিয়র ও তাঁর অনুগামীদের বন্দি করে (২৭শে জুলাই, ১৭৯৪ খ্রিঃ)। পরদিন রােবসপিয়র-সহ তার চব্বিশজন অনুগামীকে গিলােটিনে হত্যা করা হয়।

নতুন বিপ্লবী বর্ষপঞ্জী অনুসারে ৯ই থার্মিডাের (২৭শে সেপ্টেম্বর) রােবসপিয়র ক্ষমতাচ্যুত হন। ‘থামিডাের’ মাসে এই ঘটনা ঘটেছিল বলে একে ‘থামিডােরীয় প্রতিক্রিয়া’ (Thermidorian Reaction) বলা হয়। রােবসপিয়রের মৃত্যুতে সন্ত্রাসের রাজত্বের অবসান ঘটে।

সন্ত্রাসের রাজত্বের প্রকৃতি 

সন্ত্রাসের রাজত্বের মধ্যে কোনও শ্রেণি-সংঘর্ষের চরিত্র খুঁজে পাওয়া যায় না। এতে প্রাণ দেন সব শ্রেণির মানুষ- এমনকী সন্ত্রাস পরিচালনার নেতৃবর্গও। গিলােটিনে প্রাণ প্রকৃতি দেওয়া মানুষের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির মানুষরাই ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। 

লেফেভর ও কোবান বলেন যে, মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তিদের মধ্যে শতকরা ৮৫ জনই ছিল তৃতীয় সম্প্রদায়ের মানুষ। যাজক ও অভিজাতদের মধ্যে যথাক্রমে ৬.৫ এবং ৮.৫ শতাংশ গিলােটিনে প্রাণ দেন। অধ্যাপক ডেভিড টমসন বলেন যে, সন্ত্রাসে নিহতদের মধ্যে ৭০ শতাংশই ছিল কৃষক ও মেহনতি মানুষ।

সন্ত্রাসের রাজত্বের সাফল্যঃ-

নানা ত্রুটি সত্ত্বেও সন্ত্রাসের শাসনকালের কৃতিত্বও কম নয়। 

(১) এই শাসন-পর্বের কৃতিত্ব হল গৃহযুদ্ধ, অরাজকতা, প্রতি-বিপ্লবী কার্যকলাপ এবং বিদেশি শক্তিজোটের মূল আক্রমণের হাত থেকে ফ্রান্স ও বিপ্লবকে রক্ষা করা। এই আমলে বেশ কিছু সংস্কার প্রবর্তিত হয়। 

(২) গির্জাগুলি বন্ধ করে দিয়ে খ্রিস্টধর্মের অনুষ্ঠান সীমিত করা হয়। যুক্তির পূজা শুরু হয়। বিখ্যাত নটারডাম গির্জা ‘যুক্তির মন্দির’-এ রূপান্তরিত হয়।

(৩) প্রচলিত খ্রিস্টান বর্ষপঞ্জি বাতিল করে নতুন ‘প্রজাতান্ত্রিক বর্ষপঞ্জি’ প্রবর্তন করা হয়।

(৪) মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, নিত্যপ্রয়ােজনীয় দ্রব্যাদির সর্বোচ্চ মূল্য ও মজুরির সর্বনিম্ন হার নির্ধারণ, নতুন মাপ, ওজন, দশমিক মুদ্রা এবং রুটির জন্য রেশন কার্ডের প্রবর্তন করা হয়। 

(৫) অবৈতনিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তিত হয়। 

(৬) অভিজাতদের জমি বাজেয়াপ্ত করে কৃষকদের মধ্যে তা বণ্টন এবং 

(৭) দাসপ্রথা উচ্ছেদ করা হয়। 

(৮) রুশাের গণ-সার্বভৌমত্বের নীতির উপর ভিত্তি করে ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে একটি প্রজাতান্ত্রিক সংবিধান রচিত হয়, যদিও তা কার্যকর করার সুযােগ মেলেনি। 

(৯) ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে কানটের নেতৃত্বে ১০ লক্ষ সেনার এক বিরাট বাহিনী গঠিত হয়, যা ইউরােপীয় রণাঙ্গনে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে। এছাড়া, নতুন ও আধুনিক অস্ত্র কারখানা তৈরি হয়। 

সন্ত্রাসের শাসনের সুফল ও কুফলগুলি লেখাে|অথবা, সন্ত্রাসের শাসনের ফলাফলগুলি লেখাে।

ফ্রান্সে ২রা জুন ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দের জুলাই পর্যন্ত সন্ত্রাসের শাসনের বেশ কিছু সুফল ও কুফল দেখা গিয়েছিল।

ফ্রান্সের সন্ত্রাসের শাসনের সুফল সমূহ 

সুফল:- ফ্রান্সের ইতিহাসে সন্ত্রাসের রাজত্ব ছিল একটি আপৎকালীন স্বৈরতন্ত্র’(Dictatorship in Distress)। সন্ত্রাসের শাসনের সুফলগুলি নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে লক্ষণীয়

১)ফ্রান্সের নিরাপত্তা : বৈদেশিক আক্রমণ ও অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ফ্রান্সে যে অরাজকতার সৃষ্টি করেছিল সন্ত্রাসের শাসন প্রাথমিকভাবে সেই অরাজকতার অবসান ঘটিয়ে ফরাসি জনগণকে নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হয়েছিল।

২)সুগঠিত সেনাবাহিনীঃ- বৈদেশিক আক্রমণ প্রতিরােধ এবং অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপনের জন্য সন্ত্রাসের সংগঠকেরা একটি বিশাল সেনাবাহিনী গঠন করেছিল। এর ফলে ফ্রান্সের সৈন্যসংখ্যা অল্প সময়ের মধ্যেই ১০ লক্ষ অতিক্রম করে। সন্ত্রাসের কঠোর শাসন এই সেনাবাহিনীর মধ্যে গভীর জাতীয়তাবােধ ও কঠোর শৃঙ্খলা সঞ্চারিত করেছিল।

৩)অর্থনৈতিক সংস্কারঃ- ঐতিহাসিক লেফেভর (Lefebvre), মাতিয়ে (Mathiez) প্রমুখ ঐতিহাসিকরা মনে করেন অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য সন্ত্রাসের শাসনের প্রয়ােজন ছিল। এঁরা মনে করেন সন্ত্রাসের শাসনের জন্যই ফ্রান্সে কালােবাজারি দমন, সর্বোচ্চ মূল্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ন্যায্য হারে কর আদায় ইত্যাদি সম্ভব হয়েছিল। 

৪)কৃষিক্ষেত্রে উন্নতিঃ- সন্ত্রাসের সংগঠকেরা দেশত্যাগী অভিজাতদের জমিগুলি দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে বণ্টন করেন এবং সামন্ততন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে কৃষিক্ষেত্রে গতিশীলতা এনেছিলেন।

৫)বিপ্লবকে রক্ষাঃ- সন্ত্রাসের সংগঠকেরা সন্দেহের আইন’ (Law of Suspect) ও নির্মম অত্যাচারের মাধ্যমে ভয়াবহ ধ্বংসের হাত থেকে বিপ্লবকে রক্ষা করেছিল। এজন্যই ঐতিহাসিক টেলর (Taylor) বলেছেন, সন্ত্রাস বিপ্লবকে রক্ষা করেছিল’ (The Terror saved the Revolution)।

ফ্রান্সের সন্ত্রাসের রাজত্বের কুফল সমূহ 

কুফলঃ-সন্ত্রাসের শাসনের নানা কুফলও ছিল বলে কোনাে কোনাে ঐতিহাসিক মনে করেন। 

১)ঐতিহাসিক তেইন (Taine) মনে করেন, সন্ত্রাসের রাজত্ব ছিল মূলত ক্ষমতালােভী, সুবিধাভােগী ও দুর্বিনীত এক শ্রেণির মানুষের ক্রিয়াকলাপ। তার মতে, সন্ত্রাসের শাসনে নিরাপত্তা বলে কিছু ছিল না, কারণ কেবল সন্দেহের বশেই বিনা বিচারে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। বলা হয়, “সন্ত্রাস দিয়ে বিপ্লব তার নিজের সন্তানদের গিলে ফেলে (The Revolution devoured its own children)। 

২)ডেভিড থমসনের (David Thomson) মতে, সন্ত্রাসের শাসনে নিহত মানুষের ৭০%-ই ছিল কৃষক ও মেহনতি মানুষ। জনৈক ঐতিহাসিকের মতে, সন্ত্রাসের রাজত্বকালে ফ্রান্সে চলেছিল কসাই বৃত্তির ঘৃণ্য মহামারি। এই সময়কালে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও জীবনের নিরাপত্তা ছিল না। রােবসপিয়র (Robespierre) গির্জাকে যুক্তির মন্দির’ (Temple of Reason) বলে তুলে ধরেন। তাদের কার্যকলাপ ক্রমশ ফ্রান্সের মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল। তাই লুই ব্ল্যাঙ্ক (Louis Blanc)-এর মতে“সন্ত্রাস বিপ্লবকে রক্ষা করেনি, সন্ত্রাস বিপ্লবকে পঙ্গু করে দেয়।”

সন্ত্রাসের রাজত্বের উপসংহার সন্ত্রাসের রাজত্বের মূল্যায়ন

উপসংহারঃ- পরিশেষে বলা যায়, ফ্রান্সের নিরাপত্তা ও শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য ফ্রান্সে সন্ত্রাসের মতাে কঠোর শাসনের প্রয়ােজন ছিল, কিন্তু মহাসন্ত্রাস’ ছিল অপ্রয়ােজনীয়। যুদ্ধের অবসানে যখন সন্ত্রাসের কঠোরতা হ্রাসের প্রয়ােজন ছিল তখন রােবসপিয়র ‘লাল সন্ত্রাস’ (Red Terror) চালু করে দেশে নতুন করে অরাজকতার সৃষ্টি করেছিলেন। তাই বলা যায়, সন্ত্রাসের শাসন ছিল ইতিবাচক ও নেতিবাচক ফলের সমষ্টি।

FAQ’s ফ্রান্সের সন্ত্রাসের রাজত্ব থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

১)সন্দেহের আইন কি?

উত্তরঃ- সন্দেহের আইন’ (‘Law of Suspect’):- ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে বিধিবদ্ধ হওয়া সন্দেহের আইন’ (‘Law of Suspect’) নামক এক আইন অনুসারে বিপ্লব-বিরােধী সন্দেহে যে কোনও ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা যেত এবং বিপ্লবী আদালতে তার বিচার হত। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের জন্য সমগ্র ফ্রান্সে ৫০ হাজার বিপ্লবী কমিটি গঠিত হয়।

২)লাল সন্ত্রাস বলতে কী বোঝো?

১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১৩ই এপ্রিল থেকে ২৭শে জুলাই পর্যন্ত রোবসপিয়ার তার সব প্রতিদ্বন্দ্বীকে একে একে সরিয়ে সর্বেসর্বা হয়ে ওঠেন। এই পর্বে ক্ষেতের ফসলের মতাে মানুষের মাথা কাটা কাটা হয় এবং কেবলমাত্র সন্দেহের আইনে’ ৪৫২৫ জন বন্দি হন। ঠিক কতাে মানুষ নিহত হয়, তা বলা দূরূহ। এই পর্ব বা ঘটনা ‘লাল সন্ত্রাস’ (Red Terrorism) নামে পরিচিত। 

৩) ফ্রান্সে সন্ত্রাসের রাজত্ব কত দিন স্থায়ী হয়েছিল সন্ত্রাসের রাজত্ব কত সালে হয়েছিল

২রা জুন, ১৭৯৩ থেকে ২৭শে জুলাই, ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় তেরাে 

৪)ফ্রান্সে সন্ত্রাসের রাজত্বের নায়ক কে ছিলেন সন্ত্রাসের রাজত্বের জনক কে

রোবসপিয়ার 

৫)সন্ত্রাসের রাজত্ব বলতে কী বোঝায় The Reign of Terror বলতে কী বোঝো ?

ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাসে এক অতি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হল ফ্রান্সে সন্ত্রাসের শাসন। ২রা জুন, ১৭৯৩ থেকে ২৭শে জুলাই, ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় তেরাে মাস জ্যাকোবিনরা ফ্রান্সে যে ধরণের শাসন কাঠামো গঠন করেছিলেন তা ইতিহাসে সন্ত্রাসের শাসন বা Reign of Terror নামে নামে পরিচিত।  

File Details
File Name/Book Nameসন্ত্রাসের রাজত্ব বলতে কী বোঝো? ফ্রান্সে সন্ত্রাসের রাজত্বের কারণ ও সুফল-কুফল গুলি আলোচনা করো
File FormatPDF
File LanguageBengali
File Size258 KB
File LocationGOOGLE DRIVE
Download LinkClick Here to Download PDF File

Leave a Comment