ভারতের জনগোষ্ঠী

বন্ধুরা আজকে তোমাদের সঙ্গে ভারতের জনগোষ্ঠী আলোচনা করব|ভারতবর্ষের  জনগোষ্ঠী সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা পেয়ে যাবে।

ভারতের জনগোষ্ঠী

দেহের গঠন ও ভাষার ভিত্তিতে নৃতত্ত্ববিদগণ ভারতীয় জনগোষ্ঠীকে কতকগুলি ভাগে ভাগ করেছেন। ভাগগুলি নিম্নরূপ —

(ক) নেগ্রিটো বা নিগ্রোবটু, 

(খ) প্রোটো-অস্ট্রোলয়েড বা আদি অস্ট্রেলীয়

(গ) প্রোটো-নর্ডিক বা আদি নর্ডিক,/আর্য জাতি

(ঘ) মোঙ্গলীয়, 

(ঙ) দ্রাবিড় জাতি, 

(চ) ভূমধ্যসাগরীয়, 

(ছ) পাশ্চাত্য গোলমুণ্ড।

(ক) নেগ্রিটো বা নিগ্লোবটু: 

নৃতাত্ত্বিকদের অনুমান ভারতীয় জনগোষ্ঠীর প্রথম স্তর হল নেগ্রিটো বা নিগ্রোবটু। একমাত্র আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ ভারত, বিহার ও ঝাড়খণ্ডের অরণ্যাঞ্চলের কিয়দংশ ছাড়া এরা প্রায় বিলুপ্ত। এইসব মানুষ দেখতে ক্ষুদ্রকায়, চুল কোঁকড়ানো, নাক চ্যাপটা, গায়ের রং শ্যামবর্ণ। 

(খ) প্রোটো- অস্ট্রোলয়েড বা আদি অস্ট্রেলীয়: 

বাংলা তথা ভারতের আদিম অধিবাসীদের মধ্যে যে নর বা জনের প্রভাব সর্বাপেক্ষা বেশি নৃতত্ত্ববিদরা তাদের প্রোটো-অস্ট্রোলয়েড বা আদি অস্ট্রেলীয় বলে চিহ্নিত করেছেন। মধ্য ভারতের কোল, ভীল, কারোয়া, খারওয়ার, মুন্ডা, ভূমিজ, মালপাহাড়ী প্রভৃতি উপজাতি এবং দক্ষিণ ভারতের চেঞ্চু, কুরুব প্রভৃতি জাতির মানুষ আদি অস্ট্রেলীয় গোষ্ঠীভুক্ত।

(গ) প্রোটো-নর্ডিক বা আদি নর্ডিক: 

এরা বিদেশাগত গৌরবর্ণ, দীর্ঘাকৃতি ও উন্নতনাসা। এদের ভাষা সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত। বৈদিক সভ্যতা ও সংস্কৃতির সৃষ্টিকর্তা এই নরগোষ্ঠী। এই নরগোষ্ঠীর মানুষ প্রধানত পাঞ্জাব, রাজপুতানা ও গঙ্গা-যমুনা দোয়াব অঞ্চলে বসবাস করত।

(ঘ) মোঙ্গলীয় জাতি: 

আসাম, ত্রিপুরার পার্বত্য অঞ্চল, সিকিম ও বাংলাদেশের চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে এই জাতিগোষ্ঠীর বাস। এরা খর্বাকৃতি, এদের গাত্রবর্ণ হলুদ, নাক চ্যাপটা, চোখ ছোটো।

(ঙ) দ্রাবিড় জাতি: 

এরা প্রধানত দক্ষিণ ভারতীয়, এদের ভাষা সংস্কৃত থেকে স্বতন্ত্র হলেও পরবর্তীকালে অনেক সংমিশ্রণ ঘটেছে। এরা খর্বাকৃতি, কৃষ্ণকায় ও এদের মাথার চুল কোঁকড়ানো। প্রাচীন ভারতে দ্রাবিড় জাতি সর্বপ্রথম এক উন্নত সভ্যতা গড়ে তোলে।

(চ) ভূমধ্যসাগরীয়: 

কেরল, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, পাঞ্জাব, সিন্ধু, রাজস্থান ও উত্তরপ্রদেশের কিছু এলাকায় এক ধরনের মানুষ দেখা যায় নৃতত্ত্ববিদরা যাদের নামকরণ করেছেন ভূমধ্য -সাগরীয় গোষ্ঠী।

(ছ) পাশ্চাত্য গোলমুণ্ড: 

ভারতে এই জনগোষ্ঠীর সর্বপ্রাচীন সাক্ষ্য পাওয়া গেছে হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোয় প্রাপ্ত মুণ্ডকঙ্কাল থেকে। এই জনগোষ্ঠীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল গোলমুণ্ড ও উন্নত নাক। রমাপ্রসাদ চন্দ এদের অ্যালপাইন এবং বিরজাশংকর গুহ এদের অ্যাল -পোদিনারীয় নরগোষ্ঠী নামে চিহ্নিত করেছেন।

উপরিউক্ত জাতিগোষ্ঠী ছাড়াও ব্রাকিসিফেলস নামে এক উপজাতি গোষ্ঠীর অস্তিত্ব ভারতে লক্ষ করা যায়। এই গোষ্ঠীর আদি নিবাস ছিল মধ্য এশিয়া অঞ্চলে, ক্রমে তারা ছড়িয়ে পড়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, মহারাষ্ট্র, গুজরাত ও কর্ণাটক অঞ্চলে।শারীরিক গঠনের দিক থেকে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে এদের অনেক সাদৃশ্য আছে। জনগোষ্ঠীর এই বৈচিত্র্যময়তার দরুন ভিনসেন্ট স্মিথ প্রমুখ পণ্ডিত ভারতবর্ষকে ‘নৃতত্ত্বের যাদুঘর’ বলে অভিহিত করেছেন।

Leave a Comment